অন্ধকারাচ্ছন্ন ও পথভ্রষ্ট মানবজাতিকে সঠিক পথের সন্ধান দেওয়ার জন্য আল্লাহতায়ালা যুগে যুগে দুনিয়াতে যে মহাপুরুষগণকে প্রেরণ করেছেন, তাঁদের মধ্যে হযরত মুহম্মদ (স.) শ্রেষ্ঠতম। তৎকালীন সময়ে আরবের সর্বত্র অরাজকতা বিদ্যমান ছিল। বর্বর আরবজাতির মাঝে সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে হযরত মুহম্মদ (স.) শত্রু কর্তৃক বিভিন্ন যুদ্ধে আহত ও রক্তাক্ত হন। প্রাণঘাতী শত্রুকে কাছে পেয়েও তিনি প্রতিশোধ নেননি।
'রাহী' শব্দের অর্থ পথিক, মুসাফির।
◉ "বড় সুন্দর, বড় মনোহর সেই অপরূপ রূপের অধিকারী"-উক্তিটি দ্বারা মহানবি হজরত মুহম্মদ (স.)-এর আকর্ষণীয় বাঁহ্যিক সৌন্দর্যকে বোঝানো হয়েছে।
◉ 'মানুষ মুহম্মদ (স.)' প্রবন্ধে মহানবি (স.)-এর মানবিক গুণাবলির সঙ্গে তাঁর বাহ্যিক গড়ন ও আকর্ষণীয় চেহারার কথা বলা হয়েছে। দেহসৌন্দর্য ও চরিত্র মাধুরীর জন্য তিনি সবার প্রিয়পাত্র হয়ে উঠেছিলেন। তিনি ছিলেন সুন্দর, সুদর্শন পুরুষ। মক্কা থেকে মদিনায় হিজরতের পথে তিনি আবু মা'বদের গৃহে আশ্রয় নেন। সেখানে তার স্ত্রী মহানবি (স.)-এর সৌন্দর্যের বর্ণনা করেন। তিনি বলেন মহানবি হজরত মুহম্মদ (স.)-এর সুদীর্ঘ কুঞ্চিত কেশপাশ, আয়তকৃষ্ণ চোখ, কাজল-রেখার মতো যুক্ত ভ্রুযুগল, সুউচ্চ গ্রীবা, বিনীত নম্র প্রকৃতি, এক অপূর্ব পুলক দীপ্তি ছিল তাঁর চোখে মুখে। এসব বাহ্যিক সৌন্দর্য প্রকাশের জন্যই প্রশ্নোক্ত কথাটি বলা হয়েছে।
◉ উদ্দীপকে' হজরত মুহম্মদ (স.)-এর ক্ষমাশীল মানবিক গুণটি প্রকাশ পেয়েছে।
◉ 'মানুষ মুহাম্মদ (স.)' প্রবন্ধের লেখক মহানবি (স.)-এর মানবীয় গুণের পরিচয় দিয়েছেন। ক্ষমা, মহত্ত্ব, অনাড়ম্বর জীবন, প্রেম, দয়া ইত্যাদি মহৎ গুণের সমন্বয়ে তিনি মানুষের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ হয়ে ওঠেন। তাই তাঁর সাধনা, ত্যাগ ও কল্যাণচিন্তা ছিল বিশ্বের সমগ্র মানুষের জন্য অনুকরণীয় আদর্শ।
◉ উদ্দীপকেও এই আদর্শের প্রতিফলন ঘটেছে। এখানে মহানবি (স.)-এর উদারতা ও ক্ষমাশীল দৃষ্টিভঙ্গির দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে। অন্ধকারাচ্ছন্ন ও পথভ্রষ্ট মানবজাতিকে সঠিক পথের সন্ধান দিতে গিয়ে তিনি উদারতা ও ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছেন। তিনি তাদের আঘাত-যন্ত্রণা সহ্য করেও তাদেরকে ক্ষমা করে দিয়েছেন। উদ্দীপকের এই চেতনা 'মানুষ মুহম্মদ (স.)' প্রবন্ধেও প্রতিফলিত হয়েছে। সত্যপথে মানুষকে আহ্বান করে মক্কার পথে-প্রান্তরে পৌত্তলিকদের পাথরের আঘাতে ক্ষতবিক্ষত হয়েও তিনি অভিসম্পাত করেননি। বরং তাদের জন্য প্রার্থনা করেছেন- এদের জ্ঞান দাও প্রভু; এদের ক্ষমা কর।
◉ উদ্দীপকে প্রবন্ধের আংশিক ভাব ফুটে ওঠায় "উদ্দীপকে 'মানুষ মুহম্মদ (স.)' প্রবন্ধের সম্পূর্ণ ভাব ফুটে ওঠেনি" মন্তব্যটি যথার্থ।
◉ 'মানুষ মুহম্মদ (স.)' প্রবন্ধে লেখক হজরত মুহম্মদ (স.)-এর মানবিক গুণাবলির প্রতি আলোকপাত করেছেন। মানুষ হিসেবে যা আচরণীয় হজরত মুহম্মদ (স.) তারই আদর্শ প্রতিষ্ঠা করে গেছেন। তাঁর সমগ্র জীবন মানবজাতির কল্যাণের জন্য নিয়োজিত ছিল। তাঁর সাধনা, ত্যাগ, কল্যাণচিন্তা ছিল বিশ্বের সমগ্র মানুষের জন্য - অনুকরণীয়।
◉ উদ্দীপকে মহানবি (স.)-এর মানবীয় গুণাবলির প্রকাশ লক্ষ করা যায়। এখানে তিনি মানুষকে অন্ধকারাচ্ছন্ন, হীন অবস্থা থেকে সত্যের পথে আহ্বান করেছেন। এতে তিনি নির্যাতন ও ভর্ৎসনার শিকার হয়েও তাদের ক্ষমা করে দিয়েছেন। এই দিকটি 'মানুষ মুহম্মদ (স.)' প্রবন্ধে প্রতিফলিত মহানবি (স.)-এর ক্ষমাশীল মানবিক গুণটির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। এই দিকটি ছাড়াও প্রবন্ধে আরও কিছু মানবীয় গুণের প্রকাশ ঘটেছে, যেগুলো উদ্দীপকে নেই।
◉ 'মানুষ মুহম্মদ (স.)' প্রবন্ধে লেখক মানুষের নবি হিসেবে মুহম্মদ (স.)-এর মানুষের পক্ষে আচরণীয় আদর্শ প্রতিষ্ঠার বিষয়টি নির্দেশ করেছেন। এই দিকটি প্রবন্ধানুসারে উদ্দীপকে প্রকাশ পায়নি। হজরত মুহম্মদ (স.)-এর মৃত্যুতে মদিনায় আঁধার ঘনিয়ে আসা, বীরবাহু উমরের প্রতিক্রিয়া, মহামতি আবুবকর সিদ্দিক (রা)-এর জনতার উদ্দেশ্যে বক্তব্য ইত্যাদি বিষয় উদ্দীপকে নেই। এসব দিক থেকে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
