| ㅤ | A. Nayan12 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘অঙ্গাণু ‘X’ আদিকোষী…’ ঢাকা বোর্ড ২০২৫ – কোষ ও এর গঠন, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ১ম পত্র (এইচএসসি)

অঙ্গাণু ‘
অঙ্গাণু ‘
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ১
মাইটোকন্ড্রিয়ার ভেতরের স্তরটি (অন্তঃপর্দা) নির্দিষ্ট ব্যবধানে ভেতরের দিকে ভাঁজ হয়ে আঙুলের মতো যে প্রবর্ধক সৃষ্টি করে, তাকে ক্রিস্টি () বলে।
জেনেটিক কোড () হলো জিনের এমন একটি সাংকেতিক সজ্জারূপ, যা প্রোটিন সংশ্লেষণের সময় একটি নির্দিষ্ট অ্যামাইনো এসিডকে নির্দেশ করে। একে কোডও বলা হয়। এই কোডনসমূহকে সার্বজনীন বা বলা হয় কারণ পৃথিবীর প্রায় সকল জীবে একই কোডন একইভাবে কাজ করে। অর্থাৎ, বিশ্বের সকল প্রজাতির জন্য এগুলো সমানভাবে প্রযোজ্য। উদাহরণস্বরূপ, কোডনটি মানুষ, উদ্ভিদ বা ব্যাকটেরিয়া সব ক্ষেত্রেই 'মিথিওনিন' () অ্যামাইনো এসিডকে নির্দেশ করে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত '' অঙ্গাণুটি হলো ক্লোরোপ্লাস্ট (), কারণ উদ্দীপক অনুযায়ী এটি কেবল সবুজ কোষে পাওয়া যায়। নিচে এর রাসায়নিক গঠন ও শারীরবৃত্তীয় কার্যাবলি ব্যাখ্যা করা হলো:
রাসায়নিক গঠন:
-
রাসায়নিকভাবে ক্লোরোপ্লাস্ট প্রধানত কার্বোহাইড্রেট, লিপিড ও প্রোটিন নিয়ে গঠিত।
-
এর শুষ্ক ওজনের প্রায় ৩৫-৫৫% প্রোটিন এবং ১০-২০% লিপিড।
-
প্রোটিনের মধ্যে ৮০% হচ্ছে অদ্রবণীয় এবং বাকি ২০% দ্রবণীয় ও এনজাইম হিসেবে থাকে।
-
এতে রঞ্জক পদার্থ হিসেবে ক্লোরোফিল-a () ৭৫% এবং ক্লোরোফিল-b () ২৫% থাকে।
-
এছাড়াও এতে সামান্য পরিমাণ ক্যারোটিনয়েড (), নিউক্লিক এসিড ( ও ) এবং বিভিন্ন খনিজ পদার্থ ও কো-এনজাইম () উপস্থিত থাকে।
শারীরবৃত্তীয় কার্যাবলি:
-
সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় শর্করা জাতীয় খাদ্য তৈরি করা এর প্রধান কাজ। এজন্য একে কোষের রান্নাঘর বা বলা হয়।
-
এর গ্রানা () অঞ্চলে সালোকসংশ্লেষণের আলোক পর্যায়ের বিক্রিয়া এবং স্ট্রোমা () অঞ্চলে অন্ধকার পর্যায়ের বিক্রিয়া সংঘটিত হয়।
-
ফটোফসফোরাইলেশন () প্রক্রিয়ায় সূর্যালোকের সাহায্যে থেকে উৎপন্ন করে।
-
ক্লোরোপ্লাস্টে নিজস্ব রাইবোজোম থাকায় এরা নিজেদের প্রয়োজনীয় কিছু প্রোটিন সংশ্লেষণ করতে পারে এবং ফটোরেসপিরেশন () বা আলোক শ্বসন ঘটায়।
উদ্দীপকের '' অঙ্গাণুটি হলো রাইবোজোম (), যা আদিকোষী এবং প্রকৃতকোষী উভয় ধরনের জীবেই বিদ্যমান। প্রোটিন সংশ্লেষণ বা ট্রান্সলেশন () প্রক্রিয়ায় রাইবোজোম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, যা নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:
-
রাইবোজোমের প্রধান কাজ হলো প্রোটিন তৈরি করা। এজন্য একে কোষের প্রোটিন তৈরির কারখানা বলা হয়।
-
রাইবোজোম দুটি উপ-একক () নিয়ে গঠিত—একটি ছোট এবং একটি বড়।
-
প্রোটিন তৈরির সময় নিউক্লিয়াস থেকে উৎপন্ন হওয়া বার্তাবাহক বা সাইটোপ্লাজমে এসে রাইবোজোমের সাথে যুক্ত হয়।
-
এরপর (ট্রান্সফার ) নির্দিষ্ট অ্যামাইনো এসিড বহন করে রাইবোজোমে নিয়ে আসে।
-
রাইবোজোম -এর কোডন অনুযায়ী সঠিক অ্যামাইনো এসিডগুলোকে একটার পর একটা যুক্ত করে একটি দীর্ঘ পলিপেপটাইড চেইন () তৈরি করে। এই পুরো প্রক্রিয়াটি ট্রান্সলেশন নামে পরিচিত।
-
রাইবোজোম অ্যামাইনো এসিডগুলোকে পেপটাইড বন্ড () দ্বারা যুক্ত করে প্রোটিন শৃঙ্খল তৈরি করে, যা পরে ভাঁজ হয়ে কার্যকরী প্রোটিনে রূপান্তরিত হয়।
-
সুতরাং, রাইবোজোম ছাড়া কোষের পক্ষে প্রোটিন তৈরি করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়, যা জীবনের মৌলিক কার্যাবলি সম্পাদনের জন্য অত্যাবশ্যক।