A. Nayan
A. Nayan
22 Jun 2026 (3 months ago)
Dhaka, Narayanganj

সৃজনশীলঃ ‘অংশ-১ : পৃথিবীতে…’ আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ ২০২৬ – সেইদিন এই মাঠ, পদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এসএসসি)


Listen to this article
🏢 প্রতিষ্ঠান: আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মতিঝিল, ঢাকা📅 সাল: ২০২৬⭐ গুরুত্ব: ★★★★★

💡 সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর

অংশ-১ : পৃথিবীতে সবকিছু জীর্ণ হয়, হারিয়ে যায়। প্রাচীন সভ্যতা নিশ্চিহ্ন হয়, বিমূঢ় লোকালয় নিঃশেষ হয়। কিন্তু সমুদ্রের কোনো শেষ নেই। সমুদ্র সর্বদাই স্বতন্ত্র এবং নিশ্চিত।

অংশ-২:

সংসার সাগরে দুঃখ তরঙ্গের খেলা
আশা তার একমাত্র ভেলা।

উত্তর:

বিচিত্র বিবর্তনের মধ্যেও প্রকৃতি তার রূপ-রস-গন্ধ হারিয়ে ফেলবে না। 

উত্তর:

'পৃথিবীর এইসব গল্প বেঁচে রবে চিরকাল' বলতে কবি নশ্বর মানবজীবনে অবিনশ্বর প্রকৃতির প্রবাহ চেতনাকে বুঝিয়েছেন।

'সেইদিন এই মাঠ' কবিতায় কবি প্রকৃতির চিরকালীন সৌন্দর্যের এবং মানুষের স্বপ্নের অমরত্বের দিকটি তুলে ধরেছেন। বিচিত্রভাবে বিবর্তনের মধ্যেও রূপ-রস-গন্ধ নিয়ে প্রকৃতি টিকে থাকবে। জাগতিক নিয়মে নশ্বর মানবজীবনস্রোত চলে অবিনশ্বর প্রকৃতির বিপরীতে। মানুষের সাধারণ মৃত্যু রহিত করতে পারে না পৃথিবীর বহমানতা। এই বহমানতা এবং মানুষের স্বপ্ন দেখার গল্প চিরকাল বেঁচে থাকবে। - এখানে সেই প্রসঙ্গেই কবি এ কথা বলেছেন।

উত্তর:

উদ্দীপকের দ্বিতীয় অংশে 'সেইদিন এই মাঠ' কবিতার সভ্যতার ধ্বংসের বিপরীতে মানুষের স্বপ্ন তথা আশাবাদের দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে।

'সেইদিন এই মাঠ' কবিতায় কবি গভীর জীবনতৃষ্ণাবোধ প্রকাশ করেছেন। সভ্যতা ক্ষয়প্রাপ্ত হলেও ধ্বংসের মধ্যে দাঁড়িয়েও মানুষ স্বপ্ন দেখে। প্রকৃতপক্ষে মানুষের মৃত্যু থাকলেও মানুষের স্বপ্নের মৃত্যু নেই।

উদ্দীপকের ২য় অংশে কবি পৃথিবীকে দুঃখের সাগর হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। দুঃখবোধ পৃথিবীর চিরন্তন বিষয়। এই দুঃখের মাঝে দাঁড়িয়েও আশার প্রদীপ জ্বালিয়ে রাখাই মানুষকে পুনরায় বাসা বাঁধতে সাহায্য করে। 'সেইদিন এই মাঠ' কবিতায় কবি সভ্যতাকে ক্ষয়িষ্ণু হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। বহু প্রাচীন সভ্যতা ক্ষয়প্রাপ্ত হলেও মানুষের স্বপ্ন দেখা থামেনি। ধ্বংসস্তূপে দাঁড়িয়ে আবার মানুষ স্বপ্ন দেখেছেন, করেছেন নতুন সভ্যতা বিনির্মাণ। উদ্দীপকের দ্বিতীয় অংশে 'সেইদিন এই মাঠ' কবিতার এই স্বপ্নবাদের দিকটিই প্রতিফলিত হয়েছে। 

উত্তর:

উদ্দীপকের প্রথম অংশে এবং 'সেইদিন এই মাঠ' কবিতা উভয় ক্ষেত্রে সভ্যতার ক্ষয়িষ্ণুতার বিপরীতে প্রকৃতির চিরন্তনতার দিকটি প্রাধান্য পাওয়ায় “উদ্দীপকের ১ম অংশের বক্তব্যই মূলত 'সেইদিন এই মাঠ' কবিতার মূলভাব"- এ মন্তব্যটি যুক্তিযুক্ত।

'সেইদিন এই মাঠ' কবিতায় কবি সভ্যতার ক্ষয়িষ্ণু দিকের বিপরীতে প্রকৃতির প্রবহমানতাকে চিরন্তন হিসেবে ঘোষণা করেছেন। সভ্যতা ও ব্যক্তিমানুষ কালের গর্ভে হারিয়ে গেলেও প্রকৃতি তার সৌন্দর্য নিয়ে চির অবিরল থাকে।

উদ্দীপকের প্রথম অংশেও সভ্যতার ধ্বংসের বিপরীতে প্রকৃতির উপাদান সমুদ্রকে চিরন্তন বহমান বলা হয়েছে। মানুষ, তার সমাজ-সভ্যতা কালের প্রবাহধারায় ধ্বংসপ্রাপ্ত হলেও সমুদ্র তার চিরস্ফীত বুক নিয়ে চিরন্তন চলমান। আলোচ্য কবিতায়ও কবি এশিরিয়া, বেবিলন প্রভৃতি প্রাচীন সভ্যতার নিশ্চিহ্ন হওয়ার বিপরীতে প্রকৃতির সৌন্দর্যকে অভিন্ন ও চলমান বলে ঘোষণা করেছেন।

উদ্দীপকে সমুদ্রের সৌন্দর্যকে অবিনশ্বর ও বহমান বলা হয়েছে। 'সেইদিন এই মাঠ' কবিতার কবিও দেখিয়েছেন সভ্যতার ক্ষয়প্রাপ্তি কিংবা মানুষের মৃত্যু হলেও প্রকৃতির সৌন্দর্য চলমান। মরণশীল ব্যক্তিমানুষ মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেও মাঠের চঞ্চলতা, চালতাফুলে ঝরা শিশির কিংবা লক্ষ্মীপেঁচার গান- কোনো ক্ষেত্রেই এর ছোঁয়া লাগেনি। ফলে সভ্যতা ধ্বংস কিংবা সাধারণ মানুষের মৃত্যু প্রকৃতির সৌন্দর্যকে রহিত করতে পারে না। তাই বলা যায় যে, "উদ্দীপকের প্রথম অংশের বক্তব্যই মূলত 'সেইদিন এই মাঠ' কবিতার মূলভাব"-উক্তিটি যুক্তিযুক্ত। 

8 Views
No Comments
Share
0
No comments to “সৃজনশীলঃ ‘অংশ-১ : পৃথিবীতে…’ আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ ২০২৬ – সেইদিন এই মাঠ, পদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এসএসসি)”