| ㅤ | A. Nayan13 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘অনিয়ত আকৃতির অস্থিখন্ড…’ রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ ২০২৪ – চলন ও অঙগচালনা, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি)

অনিয়ত আকৃতির অস্থিখন্ড নিয়ে আমাদের মেরুদণ্ড গঠিত। এটি কঙ্কালতন্ত্রের একটি অংশ। মানবদেহের চলনে এই তন্ত্র ছাড়াও পেশিতন্ত্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ৭
অস্থিসন্ধিতে আঘাতের ফলে সন্ধিকে অবলম্বনদানকারী লিগামেন্টর অস্বাভাবিক বৃদ্ধি, টান বা ছিঁড়ে যাওয়াই হলো মচকানো।
নিরেট বা দৃঢ় অস্থির গঠনমূলক একককে হ্যাভারসিয়ান তন্ত্র বলে । নিরেট অস্থির ম্যাট্রিক্স কতগুলো স্তরে (৫–১৫টি) সাজানো থাকে। স্তরগুলোকে ল্যামেলি বলে। ল্যামেলি একটি সুষ্পষ্ট নালির চারদিকে চক্রাকারে বিন্যস্ত থাকে। কেন্দ্রীয় এ নালিকে হ্যাভারসিয়ান নালি বলে । প্রতিটি হ্যাভারসিয়ান নালি ও একে বেষ্টনকারী ল্যামেলির সমন্বয়ে একটি হ্যাভারসিয়ান তন্ত্র গড়ে উঠে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত অস্থিখন্ডটি হলো কশেরুকা। কারণ কশেরুকা অনিয়ত আকৃতির অস্থিখন্ড যা নিয়ে আমাদের মেরুদণ্ড গঠিত। আদর্শ কশেরুকা নিম্নলিখিত অংশগুলো নিয়ে গঠিত-
১. সেন্ট্রাম: এটি কশেরুকার বৃহত্তম ও সম্মুখস্থ স্থূল অংশ। এটি শক্ত পুরু ও স্পঞ্জি অস্থিতে গঠিত।
২. আর্চ: এটি কশেরুকা-দেহের পৃষ্ঠতলে অবস্থিত রিংয়ের মতো গঠন । আর্চ নিম্নোক্ত অংশগুলো ধারণ করে-
i. পেডিকল: কশেরুকা দেহের উভয় পশ্চাৎ-পার্শ্ব থেকে উত্থিত ও পিছনে বর্ধিত খাটো শক্ত গঠন ।
ii. ট্রান্সভার্স প্রসেস: উভয় পাশে পেডিকল ও ল্যামিনার সংযোগস্থল থেকে উত্থিত পার্শ্বীয় প্ৰবৰ্ধন।
iii. ল্যামিনা: উভয় পাশে ট্রান্সভার্স ও স্পাইনাস প্রসেসের মাঝখানে অবস্থিত প্লেটের মতো অস্থি।
iv. আর্টিকুলার প্রসেস: উভয় পাশে ল্যামিনা ও পেডিকলের সংযোগস্থল থেকে উদগত একটি সুপিরিয়র ও ইনফিরিয়র আর্টিকুলার প্রসেস।
v. স্পাইনাস প্রসেস: দুই ল্যামিনির সংযোগস্থলের একটি প্রবর্ধন ।
উপরিউক্ত এই সবগুলো গঠন মধ্যবক্ষের কশেরুকাগুলোতে দেখা যায় । তাই এ কশেরুকাগুলোকে আদর্শ কশেরুকা বলা হয় ।
উদ্দীপকে উল্লিখিত তন্ত্র দুটো হলো কঙ্কালতন্ত্র ও পেশিতন্ত্র । মানবদেহের সঞ্চালনে দুটো তন্ত্রেরই ভূমিকা রয়েছে। বিশেষ ধরনের কিছু পেশি অস্থির সঞ্চালনে সহায়তা করে থাকে।
মানবদেহের কঙ্কাল পেশি চলনে অংশগ্রহণ করে। এসব পেশির প্রান্তভাগ রূপান্তরিত হয়ে দৃঢ়, মজবুত ও স্থিতিস্থাপক টেনডনে পরিণত হয়। টেনডন অস্থির সাথে লেগে থেকে পেশির কাজ সম্পন্ন করে। মস্তিষ্ক থেকে একটি উত্তেজনা পেশিতে গেলে পেশি সংকুচিত হয়। এই সংকোচনের ফলে টেনডনে টান পরে এবং টেনডনের সাথে লাগানো অস্থিটির সঞ্চালন ঘটে। পেশিতে শুধু টান পড়ে কিন্তু কখনো ধাক্কা দেয় না। বিভিন্ন ধরনের চলনের জন্য একটি অস্থির বিভিন্ন জায়গায় অনেকগুলো পেশি লাগানো থাকে। ফিমার অস্থিটির সাথে এরকম অনেকগুলো পেশি লাগানো থাকে। পেশিগুলো ফ্লেক্সর, এক্সটেনসর, অ্যাবডাক্টর, অ্যাডাক্টর নামে পরিচিত। ফ্লেক্সর পেশি অস্থিসন্ধিকে ভাঁজ করে, অপরদিকে এক্সটেনসর পেশি অস্থিসন্ধিকে প্রসারিত করে। অ্যাবডাক্টর পেশি অস্থিটিকে দেহ অক্ষ থেকে দূরে নিয়ে যায়, অপরদিকে অ্যাডাক্টর পেশি অস্থিটিকে দেহ অক্ষের কাছে নিয়ে আসে। অর্থাৎ পেশিগুলো জোড়ায় জোড়ায় অবস্থান করে এবং একটির কাজ অপরটির বিপরীত। এছাড়া আরেক ধরনের পেশি আছে যারা ফিমারকে ঘুরায়, যেমন : পাইরিফর্মিস। এদেরকে রোটেটর পেশি বলে। উপরের আলোচনা থেকে বোঝা যায় যে, কঙ্কালতন্ত্র ও পেশিতন্ত্রের সমন্বিত কার্যক্রমেই মানবদেহ সঞ্চালিত হয়।