| ㅤ | A. Nayan18 Oct 2026 (1 week ago) |
সৃজনশীলঃ ‘অনির মামা কাতারে…’ অমৃত লাল দে মহাবিদ্যালয় ২০২৫ – খনিজ ও শক্তি সম্পদ, ভূগোল, ভূগোল ২য় পত্র (এইচএসসি)

অনির মামা কাতারে চাকরি করেন। রেবা তার মামার কাছে জানতে পারল মধ্যপ্রাচ্য খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ। তবে তরল সোনা নামে খ্যাত খনিজটি এই অঞ্চলেই বেশি পাওয়া যায়।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ৫
প্রকৃতিপ্রদত্ত যেসব পদার্থ হতে শক্তি পাওয়া যায় তাদের শক্তি সম্পদ বলে।
খনিজ সম্পদের গুরুত্ব অপরিসীম। শিল্পকারখানায়, গৃহস্থালিতে, কৃষিক্ষেত্রে যে বিদ্যুৎ পাই তা কয়লা পুড়িয়ে উৎপাদন করা হয়। রান্না-বান্নার কাজে, সার উৎপাদনে, যানবাহন চালনায় প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহার করা হয়। এছাড়া যানবাহন চালাতে খনিজ তেল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। রাস্তাঘাট নির্মাণে চুনাপাথর, কয়লা প্রভৃতি ব্যবহার করা হয়। ইমারত নির্মাণে লৌহ ও ইস্পাত ব্যবহৃত হয়।
সুতরাং বলা যায়, গৃহস্থালির কাজ হতে শুরু করে রাষ্ট্রীয় সমস্ত কাজেই খনিজ পদার্থের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ব্যবহার রয়েছে।
উদ্দীপকের দেশসমূহ তথা মধ্যপ্রাচ্যের তেল বলয়ের বর্ণনা দেওয়া হলো-
সৌদি আরব: সৌদি আরব খনিজ তেল সঞ্চয় ও উত্তোলনে বিশ্বে ২য় স্থানের অধিকারী। সৌদি আরবের তেলক্ষেত্রগুলোর মধ্যে ১৪ টি প্রধান। এগুলোর মধ্যে খারওয়ার বাহরন, কুসাতিফ দাম্মাম, গওয়র, দাহরান, সাফানিয়া, বেরী, আবু হাদ্রিয়া, আবু সায়াফা প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।
ইরাক: ইরাক মধ্য প্রাচ্যের অন্যমত তেল সমৃদ্ধ দেশ। এদেশের তেল ক্ষেত্রগুলো উত্তরে মোসুল, কিরকুক খানকিন, হাদিতা, খুবরম ও বসরায় অবস্থিত।
ইরান: ইরান তেল সম্পদে বিশ্বে নবম। এখানের তেল ক্ষেত্রগুলো মসজিদ-ই-সুলাইমান, হামাদান, কেরমান শাহ নাফট সাফিদ এবং গাচসাংশ অবস্থিত।
সংযুক্ত আরব আমিরাত: সংযুক্ত আরব আমিরাতও তেল সম্পদে সমৃদ্ধ। এখানকার প্রসিদ্ধ তেলক্ষেত্রগুলো হচ্ছে- বাব, কারনজাফুর, দুবাই, সুবারাজ, জাকুস, রাশিদ, মুবারক, সালেহ প্রভৃতি।
কুয়েত: কুয়েতে পৃথিবীর মোট সঞ্চিত তেলের প্রায় ১৬ শতাংশ সঞ্চিত রয়েছে। এদেশের বারগান, আলজারা বোধাতেন, ওয়ফ্লা মার্গয়ান, তাল আহমাদি তেলখনি রয়েছে।
উদ্দীপকে তরল সোনা নামে খ্যাত খনিজ তেল মধ্যপ্রাচ্যেই বেশি পাওয়া যায়। নিম্নে তা বিশ্লেষণ করা হলো-
মধ্যপ্রাচ্য এমন ভূপ্রকৃতির অঞ্চল যেখানে সমুদ্রের নিকটবর্তী পাহাড়ি অঞ্চল থাকায় প্রকৃতিগতভাবেই এই অঞ্চলটি খনিজ সম্পদ বিশেষ করে খনিজ তেল বেশি পাওয়া যায়। এ খনিজ তেল বিভিন্ন দেশেই পাওয়া যায় তবে যেসব দেশে বেশি পাওয়া যায় তার মত্যে অন্যতম হলো সৌদি আরব। যেখানে দৈনিক ১২.৪ মিলিয়ন ব্যারেল তেল উত্তোলন করা হয়। এরপর ইরাক যেখানে দৈনিক ৪.৪ মিলিয়ন ব্যারেল, ইরান যেখানে ৪.২ মিলিয়ন ব্যারেল তেল, কুয়েত ৩.১৮ মিলিয়ন ব্যারেল তেল এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত যেখানে ৩.৮ মিলিয়ন ব্যারেল উত্তোলন করা হয়। তাই দেখা যাচ্ছে উল্লিখিত মধ্যপ্রাচ্যের দেশসমূহে প্রতিদিনই এত অধিক পরিমাণ খনিজ তেল উত্তোলন করা হচ্ছে। তাহলে বছরে কী পরিমাণ তেল উত্তোলন করা হয়ে থাকে। সুতরাং বলতে পারি তরল সোনা নামে খ্যাত খনিজ তথা খনিজ তেল মধ্যপ্রাচ্যেই বেশি পাওয়া যায়।