অনন্ত অসীম প্রেমময় তুমি
বিচার দিনের স্বামী।
যত গুণগান হে চির মহান
তোমারি অন্তর্যামী।
দ্যুলোক ভূলোক সবারে ছাড়িয়া
তোমারি চরণে পড়ি লুটাইয়া
তোমারি সকাশে যাচি হে শকতি
তোমারি করুণাকামী।
'শেলসম' শব্দের অর্থ "তীক্ষ্ণ অস্ত্রের মতো।"
বাদশা বাবর তাঁর ছেলের প্রাণ রক্ষার জন্য নিজের প্রাণ বিনিময় করায় তাঁর ছেলে সুস্থ হয়।
বাদশা বাবরের ছেলে দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত। রাজ্যের সকল বিজ্ঞ হেকিম, কবিরাজরা তাকে সুস্থ করতে ব্যর্থ হয়। শেষমেশ এক দরবেশ বাদশাকে জানান, বাবর যদি তার সবচেয়ে প্রিয় ধন বিসর্জন দিতে পারেন, তবেই হুমায়ুন বেঁচে উঠবে। বিজ্ঞ বাবর বুঝতে পারেন, তাঁর সবচেয়ে প্রিয় ধন নিজ প্রাণ। তিনি নির্দ্বিধায় ছেলের প্রাণ রক্ষার জন্য প্রাণ বিনিময় করেন। এভাবেই তার ছেলে সুস্থ হয়ে ওঠে।
উদ্দীপকের সাথে 'জীবন বিনিময়' কবিতায় বর্ণিত বাদশা রাবর কর্তৃক তাঁর সন্তানের জন্য সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনার দিকটি সাদৃশ্যপূর্ণ।
'জীবন বিনিময়' কবিতার মূল প্রতিপাদ্য- পুত্রের প্রতি পিতার স্নেহবাৎসল্যের কাছে মৃত্যুর পরাজয়। বাদশা বাবরের পুত্র হুমায়ুন দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত হলে বাবর নিজ প্রাণের বিনিময়ে পুত্রের জীবন রক্ষা করার জন্য স্রষ্টার কাছে প্রার্থনা করেন।
উদ্দীপকে প্রকাশ পেয়েছে সৃষ্টিকর্তার প্রতি প্রার্থনার দিকটি। দয়াময় প্রভুর দিকেই মানুষের মহাচলমান গতি। আমরা তারই করুণ প্রার্থনা করি। 'জীবন বিনিময়' কবিতাতেও বাদশা বাবরের পুত্র হুমায়ুন দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত হলে বাদশা নিজের প্রাণ দিয়ে সন্তানের প্রাণ ভিক্ষা দেওয়ার প্রার্থনা করেন সৃষ্টিকর্তার দরবারে। সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনার দিক থেকে উদ্দীপকের সাথে আলোচ্য কবিতার সাদৃশ্য রয়েছে।
উদ্দীপকে 'জীবন বিনিময়' কবিতায় বর্ণিত পিতৃস্নেহের দিকটি না থাকায় উদ্দীপকটি 'জীবন বিনিময়' কবিতার সমগ্র ভাবের ধারক নয়।
'জীবন বিনিময়' কবিতার মূল প্রতিপাদ্য বিষয়- পিতৃস্নেহের কাছে মরণের পরাজয়। এ কবিতায় পিতৃস্নেহের একটি মহৎ দৃষ্টান্ত উপস্থাপিত হয়েছে। বাদশা বাবরের পুত্র দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত হলে পিতা বাবর তার প্রাণের বিনিময়ে ছেলেকে বাঁচিয়ে তোলেন।
উদ্দীপকে প্রকাশ পেয়েছে মহান সৃষ্টিকর্তার দরবারে প্রার্থনার দিকটি। মানুষ বিপদে-আপদে মহান করুণাময় সৃষ্টিকর্তার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করে। 'জীবন বিনিময়' কবিতাতেও বাদশ বাবর তার সন্তানের সুস্থতার জন্য নিজের জীবনে বিনিময়ে সন্তানের জীবন ফিরিয়ে দেওয়ার প্রার্থনা করেছেন সৃষ্টিকর্তার কাছে।
উদ্দীপকে সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনার দিকটি প্রকাশ পেলেও এটি 'জীবন বিনিময়' কবিতার মূল প্রতিপাদ্য নয়। এ কবিতার কেন্দ্রীয় বিষয় পিতার স্নেহবাৎসল্যের কাছে মরণের পরাজয়। হুমায়ুন কঠিন রোগে আক্রান্তে হলে তার বাবা রাজ্যের সকল বিজ্ঞ হেকিম, কবিরাজ দরবেশকে দিয়ে তার ছেলের চিকিৎসা করান। এতেও কোনো ফল না পাওয়া গেলে দরবেশের পরামর্শে ছেলেকে সুস্থ করতে নিজের প্রাণ বিনিময় করেন। এ দিকগুলো উদ্দীপকে অনুপস্থিত থাকায় উদ্দীপকটি 'জীবন বিনিময়' কবিতার সমগ্র ভাবের ধারক নয়"- এ মন্তব্যটি সমর্থনযোগ্য।
