| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘অনন্তের এবার একটা…’ a – যৌবনের গান, গদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

অনন্তের এবার একটা সাইকেল হলো। জমানো টাকায় কেনা সাইকেলটি দেখতে বেশ ভালোই। গতিও দারুণ। অনন্তর স্বপ্নটা আরও প্রখর হয়ে ওঠে। একদিন সে বেরিয়ে পড়ে রাস্তায়। তার পর অনেকদিন দেখা পাইনি। তিন মাস পরে অনন্ত এলো। তার মুখে হাসি। দেশের প্রায় সবকটা জেলা সে ভ্রমণ করেছে। অনন্তর পোশাকের দিকে তাকালাম। গায়ে সাদা গেঞ্জি, সামনে ও পেছনে লেখা- “বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ করুন।” বুঝলাম অনন্তর দারুণ হাসির সার্থকতা। শ্রদ্ধায় মাথা নুয়ে এলো।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ১২
'যৌবনের গান' প্রবন্ধের লেখক যৌবনের পূজারি।
➤ যৌবনের মাতৃরূপ বলতে যৌবনের সেবাব্রতী কোমল রূপকে বোঝানো হয়েছে।
➤ যৌবনের গান, প্রবন্ধে লেখক যৌবনের জয়গান করেছেন। এখানে প্রতিবাদ ও মানবিকতা উভয় চেতনার প্রতিফলন ঘটেছে। যৌবন মানেই ঝড়ের মতো বিধ্বংসী শক্তি। মিথ্যাকে গুঁড়িয়ে সত্য প্রতিষ্ঠাই এই শক্তির মূল লক্ষ্য। কিন্তু কখনো কখনো যৌবন অত্যন্ত কোমল। দয়ার্দ্রতা যৌবনের আরেক রূপ। যৌবন ক্ষুধার্তকে অন্নদানে সহায়তা করে, বন্যার্তের পাশে দাঁড়ায় সর্বাত্মক সাহায্য নিয়ে। আর্ডের পাশে রাত জেগে সেবা করে। শব বহন করে শশ্মশানে সৎকারের জন্য নিয়ে যায়। মূলত এটিই যৌবনের মাতৃরূপ।
সারকথা: যৌবনের মাতৃরূপ বলতে যৌবনের সেবাব্রতী কোমল রূপকে বোঝানো হয়েছে।
➤ উদ্দীপকের অনন্ত 'যৌবনের গান' প্রবন্ধের যৌবনের দূরন্ত গতিময়তার দিকটি নির্দেশ করে।
➤ যৌবন হলো জীবনের ধর্ম। এ ধর্ম অন্য সব ধর্মকে ছাপিয়ে উর্ধ্বে অবস্থান করে। এ ধর্মের কোনো জাত নেই, বর্ণ নেই, দেশ নেই, কাল নেই। যৌবন সব দেশ, কাল, সময়কে জয় করে নিয়েছে। ন্যায়কে প্রতিষ্ঠাই যৌবনের একমাত্র উদ্দেশ্য।
➤ 'যৌবনের গান' প্রবন্ধে যৌবনের তেজদীপ্ত রূপ প্রকাশ পেয়েছে। যৌবন কোনো ভয় বা আশঙ্কায় ভীত নয়। সব ভয়, সব আশঙ্কা কাটিয়ে যৌবন আপনার গতিতে চলে। কোনো প্রতিবন্ধকতা যৌবনকে বুখে দিতে পারে না। প্রচন্ড শক্তিতে যৌবন নিজের পথ নিজেই রচনা করে। পৃথিবীকে সে করে তোলে স্বাভাবিক। সৃষ্টির চাহিদা মেটানো যৌবনধর্মের বিশেষ দিক। ফলে তার পদচারণা কখনো সমুদ্রে, কখনো পাষাণ পাহাড়ে, আবার কখনো বিজন মরুভূমিতে। উদ্দীপকের অনন্তও একই চরিত্রের বাহক। সে সারা দেশ সাইকেলে ভ্রমণ করেছে এবং মানুষকে বাল্যবিবাহের কুফল সম্পর্কে সচেতন করেছে। মূলত সাধারণ দৃষ্টিতে এই অনন্ত তার ইচ্ছা থেকে পিছপা হয়নি। অকুতোভয় সাহস নিয়ে সারা দেশে একাই রচনা করেছে গণসচেতনতার জোয়ার। এভাবে উদ্দীপকের অনন্তর যৌবনের দুরন্ত গতিময়তার দিকটি নির্দেশ করে।
সারকথা: 'যৌবনের গান' প্রবন্দে যৌবনের যে তেজদীপ্ত রূপ প্রকাশ পেয়েছে, উদ্দীপকের অনন্ত সেই দিকটার প্রতিষ্ঠা করেছে।
➤ উদীপকে প্রতিফলিত অনন্তর মনোভাব 'যৌবনের গান' প্রবন্ধের যৌবনের হার না-মানা মনোভাবের প্রতিরূপ।"- মন্তব্যটি যথার্থ।
➤ যে বার্ধক্যের পূজারি, সে মৃত্যুকে ভয় পায়। কারণ তার মধ্যে সৃষ্টির স্পৃহা নেই। অন্যদিকে যৌবন সৃষ্টিতে, জয়ে বিশ্বাসী। সত্যকে অবলম্বন করে মিথ্যার বিরুদ্ধে সংগ্রামে বিশ্বাসী।
➤ উদ্দীপকে যৌবনের ইতিবাচক চেতনার প্রতিফলন ঘটেছে। এখানে অনন্ত একজন তরুণ। তার স্বপ্ন হলো বাল্যবিবাহের কুফল সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করা। এজন্য তার একটা সাইকেলের প্রয়োজন ছিল। অনেক দিন ধরে টাকা জমিয়ে অবশেষে সাইকেল কেনে। সেই সাইকেল নিয়ে সে সারা দেশ ভ্রমণ এবং মানুয়কে বাল্যবিবাহের কুফল সম্পর্কে সচেতন করে। 'যৌবনের গান' প্রবন্ধের লেখকও দেখিয়েছেন যৌবনের হার না-মানা রূপ। যৌবন কখনো হারতে জানে না, বিপদের ভয় করতে জানে না। যৌবন সৃষ্টির লক্ষ্যে বহু কঠিন পথ পাড়ি দেয়।
➤ 'যৌবনের গান' প্রবন্ধে যৌবনের রুদ্ররূপ কোনো প্রতিবন্ধকতায় প্রতিহত না হওয়ার বিষয়টি প্রতিফলিত হয়েছে। উদ্দীপকের অনন্তর কর্মকান্ডে তা প্রকাশ পেয়েছে। কারণ সে সারা দেশে বাল্যবিবাহের কুফল সম্পর্কে একাই প্রচারণা চালিয়েছে। সে যদি ভয় পেত, যদি যৌবনধর্মের বাহক না হতো তবে সারা দেশ ঘুরত না। এদিক বিচারে তাই বলা যায়, 'যৌবনের গান' প্রবন্ধে যৌবনের হার না-মানা যে রূপ প্রকাশ পেয়েছে, উদ্দীপকের অনন্ত সেই মনোভাবেরই প্রতিরূপ।
সারকথা: 'যৌবনের গান' প্রবন্ধে লেখক যৌবনকে দেখিয়েছেন হার না-মানার প্রতীক হিসেবে। উদ্দীপকের অনন্ত সেই মনোভাবের দারুণ প্রতিফলন ঘটিয়েছে তার দুঃসাহসী পদক্ষেপ দ্বারা।