| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘অনুজের হস্ত ধরিয়া…’ যশোর বোর্ড ২০২৩ – প্রতিদান, পদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

অনুজের হস্ত ধরিয়া নিকটে বসাইয়া হাসান বলিতে লাগিলেন, ভাই স্থির হও। আমি আমার বিষ পাতাকে চিনি। যাহা হউক ভাই, তাহার নাম আমি কখনোই মুখে আনিব না। তাহার প্রতি আমার রাগ, হিংসাবে কিছুই নাই। ঈশ্বরের নামে শপথ করিয়া বলিতেছি, আমার বিষদাতার মুক্তির জন্য ঈশ্বরের নিকট প্রার্থনা করিব।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ১৩
'বান' শব্দের অর্থ বন্যা।
কবি বলেছেন সমাজ সংসারে বিদ্যমান বিভেদ হিংসা হানাহানি দ্বারা আক্রান্ত হওয়া সত্ত্বেও কোভিদ কণ্ঠে প্রতিশোধ প্রতিহিংসার বিপরীতে ব্যক্ত হয়েছে প্রীতিময় এক পরিবেশ সৃষ্টির আশঙ্কায়। কেননা ভালোবাসাপূর্ণ মানুষের নির্মাণ করতে পারে সুন্দর নিরাপদ পৃথিবী।
উদ্দীপকের সঙ্গে 'প্রতিদান' কবিতার ক্ষমা ও মহানুভবতার গুণাবলির সাদৃশ্য রয়েছে।
‘প্রতিদান' কবিতায় কবি সহানশীলতা, উদারতা ও ক্ষমাশীলতার দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করেছেন। কবি সমাজে বিদ্যমান হানাহানি-হিংসা-বিদ্বেষের বিপরীতে প্রীতিময় পরিবেশের আকাঙ্ক্ষা করেছেন। কেননা, ভালোবাসাপূর্ণ মানুষই নির্মাণ করতে পারে সুন্দর, নিরাপদ পৃথিবী। কবি অনিষ্টকারীর উপকার করার মাধ্যমে মহানুভবতার শক্তিতে পৃথিবীকে নির্মল ও সুন্দর করে তুলতে চেয়েছেন। কেননা, অপরের উপকারেই মানবজীবনের সুখ ও সার্থকতা নিহিত।
উদ্দীপকে হাসান তাঁর বিষদাতার পরিচয় জেনেও কোনো প্রতিশোধ গ্রহণ করেন না। বরং ভাইকে স্থির থাকতে বলেন। বিষদাতার প্রতি তাঁর মনে 'কোনো বিদ্বেষ নেই এবং তাকে তিনি ক্ষমা করেছেন বলেও স্পষ্ট জানান। শুধু তাই নয়, প্রতিজ্ঞা করেন তাঁর বিষদাতার জন্য তিনি ঈশ্বরের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করবেন। 'প্রতিদান' কবিতায়ও কবি অনিষ্টকারীর ওপর প্রতিশোধের বীজ বপন না করে তাকে উপকার করার মাধ্যমেই পৃথিবীতে শান্তি স্থাপন করতে চেয়েছেন।
তাই দেখা যায়, ক্ষমাশীলতার পরিপ্রেক্ষিতে উদ্দীপকের সঙ্গে 'প্রতিদান' কবিতার মিল পাওয়া যায়। উভয় জায়গায় অনিষ্টকারীকে ক্ষমা করা ও তার মঙ্গল কামনার বিষয়টি লক্ষ করা যায় ।
"উদ্দীপকের বিষদাতা 'প্রতিদান' কবিতার নিষ্ঠুর মানুষদের প্রতিনিধি" - অনিষ্টকারীদের চারিত্রিক সাদৃশ্য বিবেচনায় মন্তব্যটি যথার্থ বলা যায়।
'প্রতিদান' কবিতার নিষ্ঠুর সব মানুষ বিশ্বাসঘাতক হিসেবে কাছের লোকের ক্ষতি করে থাকে। তারা অন্যের বুকে আঘাত হানতেও দ্বিধা করে না। হত্যার উদ্দেশ্যে বিষে ভরা বাণ মারে এসব লোক। এরা নিষ্ঠুর কথায় অপরের বুক ভেঙে চুরমার করে দেয়। মানবিকতা ও মনুষ্যত্ব হারিয়ে এই বৈশিষ্ট্যের লোকেরা অনিষ্টতার সর্বনিম্ন পর্যায়ে উপনীত হয়।
উদ্দীপকের বিষদাতাও এমন নিষ্ঠুরতার প্রমাণ দিয়েছে। নীতিবোধ ও বিবেকবর্জিত হয়ে সে তার আপনজনের মৃত্যুর পথ প্রশস্ত করে। বিষ প্রয়োগ করে হাসানকে সে হত্যা করার ঘৃণ্য ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকে। কতটা নিষ্ঠুর হলে মানুষ এমন হীন কাজ সংঘটিত করে তা কল্পনাতীত। এমন শত্রুর প্রতি হাসান প্রতিশোধ পরায়ণ না হয়ে তাকে ক্ষমা ও মহত্বের বাণী শোনান ।
'প্রতিদান' কবিতার নিষ্ঠুর মানুষেরা উদ্দীপকের এই বিষদাতারই সার্থক প্রতিনিধি। আলোচ্য কবিতায় কবি প্রতিদান নাম দিয়ে ক্ষতির বিপরীতে অনিষ্টকারীদের প্রতি উদার ও ক্ষমার মহান বাণী ধ্বনিত করেছেন । কবি নিষ্ঠুরতার প্রতিদান নিষ্ঠুরতা, নয় বরং কল্যাণ কামনায় মহৎ করেছেন। তিনি বলতে চেয়েছেন যে তাঁর ঘর ভাঙবে তিনি তার ঘর বেঁধে দেবেন। যে তাঁকে পথে নামাবে তিনি তার জন্য পথে পথে ঘুরবেন। যে বা যারাই বুকে আঘাত করবে তিনি তাদের জন্য এতটাই দরদি হতে কুণ্ঠাবোধ করবেন না। এমনকি তাঁকে বিষবাণে জর্জরিত করলেও তিনি বিষদাতাকে বুকভরা গান শোনাবেন। কবিতার এসব নিষ্ঠুর মানুষের প্রতিচ্ছবি উদ্দীপকের হাসানের বিষদাতা। সে বিষ প্রয়োগ করে হত্যার চেষ্টা করলেও হাসান তাকে ক্ষমা করে মহত্ত্ব প্রকাশ করেন।