| ㅤ | A. Nayan12 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘অর্কিডের শীর্ষস্থ ভাজক…’ দিনাজপুর বোর্ড ২০২২ – জীবপ্রযুক্তি, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ১ম পত্র (এইচএসসি)

অর্কিডের শীর্ষস্থ ভাজক টিস্যু থেকে বিশেষ প্রযুক্তিতে চারা উৎপাদন করা যায়। আবার অণুজীব ব্যবহার করে বিশেষ প্রযুক্তির মাধ্যমে তুলার পতঙ্গরোধী জাত সৃষ্টি করা হয়েছে।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ১১
প্রতিটি সজীব উদ্ভিদ কোষেরই একটি পূর্ণাঙ্গ উদ্ভিদ এ পরিণত হওয়ার অন্তর্নিহিত ক্ষমতা আছে, একে টটিপটেন্সি বলে।
কোনো DNA অণুর জিনোম সিকোয়েন্স উদ্ঘাটন পদ্ধতি হলো জিনোম সিকোয়েন্সিং।
কোনো জীবের জিনোমস্থ DNA অণুর অনুদৈর্ঘ্যে নিউক্লিওটাইডসমূহ (ATGC) কোন অনুক্রমে সজ্জিত আছে তা জানাই হলো জিনোম সিকোয়েন্সিং বা DNA সিকোয়েন্সিং। কোনো জীবের জিনোম সিকোয়েন্সিং সম্পন্ন হলে তার বিভিন্ন জিনের অবস্থান ও কার্যকারিতা জানা সহজ হয়।
উদ্দীপকে উল্লেখিত ১ম পদ্ধতি হলো টিস্যু কালচার প্রযুক্তি।
উদ্ভিদের যেকোনো বিভাজনক্ষম অঙ্গ (যেমন-শীর্ষমুকুল, কক্ষমুকুল, কচি পাতা বা পাপড়ি ইত্যাদি) থেকে পূর্ণাঙ্গ চারা উদ্ভিদ সৃষ্টি করাকে টিস্যু কালচার বলে।
টিস্যু কালচার পদ্ধতির সুবিধাসমূহ-
১। একটি উদ্ভিদ বা উদ্ভিদাংশ হতে স্বল্প সময়ের মধ্যে একই বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন বহু চারা সৃষ্টি করা যায়।
২। সহজে রোগমুক্ত, বিশেষ করে ভাইরাসমুক্ত চারা উৎপাদন করা সম্ভব।
৩। ঋতুভিত্তিক চারা উৎপাদনের বাধ্যবাধকতা হতে মুক্ত হওয়া যায় ।
৪। সঠিক বীজ সংগ্রহ ও মজুত করার সমস্যা থেকে মুক্ত থাকা যায় ।
৫। কলমে অক্ষম উদ্ভিদের চারা উৎপাদন।
৬। অল্প পরিসরে অধিক চারা উৎপাদন।
৭। উদ্ভিদের যে কোনো টিস্যু থেকে চারা উৎপাদন।
৮। অতি সস্তায় বাণিজ্যিকভাবে চারা উৎপাদন।
৯। বিদেশী জাতের উদ্ভিদ থেকে দেশী আবহাওয়া উপযোগী জাত সৃষ্টি করা।
১০। যে সমস্ত উদ্ভিদ বীজের মাধ্যমে বংশবিস্তার করে না সেগুলোর চারা প্রাপ্তি ও স্বল্প খরচে দ্রুত সতেজ অবস্থায় স্থানান্তর করা যায়।
১১। বিলুপ্তপ্রায় উদ্ভিদ পুনঃউৎপাদন ও সংরক্ষণ করতে টিস্যু কালচার নির্ভরযোগ্য প্রযুক্তি হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছে।
উদ্দীপকে উল্লেখিত ২য় প্রযুক্তিটি হলো জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং তথা রিকম্বিনেন্ট DNA.
কোনো জীবকোষ থেকে সুনির্দিষ্ট জিন নিয়ে অন্যকোনো জীবকোষে স্থাপন ও কর্মক্ষম করা বা নতুন বৈশিষ্ট্য সৃষ্টির জন্য কোনো জীবের DNA-তে পরিবর্তন ঘটানোকে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বলা হয়। এটি কৃষিক্ষেত্রে, চিকিৎসাক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।এর মাধ্যমে পতঙ্গরোধী জাত সৃষ্টি করা যায়।
চিকিৎসাক্ষেত্রে এর ভূমিকা নিচে উল্লেখ করা হলো -
১) এ প্রযুক্তি দ্বারা ইন্টারফেরনস তৈরি করা যায়।
২) এর মাধ্যমে ইনসুলিন তৈরি করা যায়।
৩) টিস্যু প্লাসমিনোজেন অ্যাকটিভেটর তৈরি করা যায়।
৪) ইরিথ্রোপোইটিন তৈরি করা যায়।
৫) জিন থেরাপি করা যায়।
৬) এটি দ্বারা ভাইরাস-এর অ্যান্টিজেন তৈরি জিন TMV-এর মাধ্যমে তামাক গাছে প্রবেশ করিয়ে তামাককে হেপাটাইটিস-B ভ্যাকসিন উপযোগী করা হয়েছে।
৭) এর মাধ্যমে ভূট্টাতে ওরাল ভ্যাকসিন উৎপাদন করা হচ্ছে।
৮) এ প্রযুক্তির মাতৃগর্ভের কোনো শিশু অস্বাভাবিকতা নিয়ে জন্মাচ্ছে কিনা তা নিরূপণ করা যায়।
সুতরাং চিকিৎসাক্ষেত্রে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এর অনেক ভুমিকা রয়েছে।