অসীম গত বছর এক দুর্ঘটনায় দুটি চোখই হারায়। এখন সে অন্ধ হয়ে এক দুর্বিষহ জীবনযাপন করছে। তাকে নিয়ে পরিবারের সবাই বড় কষ্টে আছে। এমনকি তার স্ত্রী এখন আর তাকে সহ্য করতে পারে না। মুখ ফুটে কিছু না বললেও তাদের কাজকর্ম তাকে জানিয়ে দেয় যে, সবাই তাকে নিয়ে খুব কষ্টে আছে। এদিকে অসীমও দুর্বিষহ জীবনে হাঁপিয়ে উঠেছে। এখন সে সর্বদা নিজের মৃত্যু কামনা করে।
অন্ধবধূ' কবিতায় বকুল' ফুলের উল্লেখ রয়েছে।
'অন্ধবধূ' কবিতায় দিঘির শীতল জলের পরশ মায়ের স্নেহের মতো।
'অন্ধবধূ' কবিতায় বলা হয়েছে, দিঘির শীতল জল অন্ধবধূর কাছে মায়ের স্নেহের মতো মনে হয়। কারণ এই জল তাকে প্রশান্তি দেয়, তার মনের ব্যথা কিছুটা হলেও ভুলিয়ে রাখে। একলা গৃহকোণে আবদ্ধ গৃহবধূ তার দুর্বিষহ জীবনে এই দিঘির জলে পেয়েছে স্নেহের ছোঁয়া। মা যেমন সন্তানকে স্নেহ দিয়ে আগলে রাখে, দিঘির জলও তেমনই তার ক্লান্ত আত্মাকে আশ্রয় দেয়, তার অন্তরের যন্ত্রণা লাঘব করে। তাই অন্ধবধূ মনে করে, এই জলের মধ্যে ডুবে গিয়ে সে যেন আবার মায়ের কোল ফিরে পাবে।
উদ্দীপকে 'অন্ধবধূ' কবিতার যে দিকটি ফুটে উঠেছে তা হচ্ছে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষদের অসহায়ত্ব।
'অন্ধবধূ' কবিতায় বধূটি বুঝে গেছে, তার নিজের দুঃখ শুধু সেই বুঝবে। কারও কাছে অভিযোগ বা কথা বলার কেউ নেই। তাই প্রকৃতির সাথে কথা বলেই সে বেঁচে থাকে। নদীর শীতলতা তাকে ব্যথা ভুলতে সাহায্য করে। স্বাভাবিক মানুষদের কাছ থেকে অবহেলা অবজ্ঞা পেয়ে সে প্রকৃতির মাঝে খুঁজে নিয়েছে নীরব আশ্রয়।
উদ্দীপকের ঘটনাংশে দেখা যায়, দুর্ঘটনায় দুচোখ হারিয়ে অন্ধ হয়ে গেছে অসীম। পর্যায়ক্রমে তার পরিবারসহ সকলেই তার প্রতি অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে। সে নিজেও এই দুর্বিষহ জীবনে হাঁপিয়ে ওঠে এবং মৃত্যুর মধ্য দিয়ে পরিত্রাণ পেতে চায়। উদ্দীপকের অসীমের সঙ্গে 'অন্ধবধূ' কবিতার অন্ধবধূটির জীবনচিত্র প্রতিফলিত হয়েছে। কারণ অন্ধবধূ তার এই দুর্বিষহ জীবনে অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে এবং দিঘির জলে নিজেকে সমর্পণ করে পরিত্রাণ পেতে চায়। এভাবে উদ্দীপকে 'অন্ধবধূ' কবিতার বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষদের অসহায়ত্বের দিকটি ফুটে উঠেছে।
মূলভাবের দিক থেকে বলা যায়, হ্যাঁ, উদ্দীপকটিতে 'অন্ধবধূ' কবিতার সমগ্র ভাবের প্রতিফলন ঘটেছে।
'অন্ধবধূ' কবিতায় শারীরিক প্রতিবন্ধকতার সাথে মানসিক যন্ত্রণার গভীর সম্পর্ক ফুটে উঠেছে। অন্ধ নারী চারপাশ অনুধাবন করে স্পর্শ, গন্ধ ও শব্দে। তবু প্রতিটি পদক্ষেপে ভয়, অনিশ্চয়তা আর জীবনের ঝুঁকি তাকে অনুসরণ করে। এর মাধ্যমে কবি প্রতিবন্ধী মানুষদের প্রতি ভালোবাসা ও সহমর্মিতা দেখিয়েছেন।
উদ্দীপকের ঘটনাংশে দেখা যায় দুর্ঘটনায় দুচোখ হারিয়ে অসহায় জীবনযাপন করতে থাকে অসীম। তার এই অসহায় জীবনে তার পরিবারসহ সকলের নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তার জীবনকে আরও বেশি দুর্বিষহ করে তোলে। ফলে সে মৃত্যুর মধ্য দিয়ে জীবনের মুক্তি খুঁজে নিতে চায়। অসীমের জীবনের এই প্রতিচ্ছবি 'অন্ধবধূ' কবিতার অন্ধবধূর ক্ষেত্রে লক্ষ করা যায়।
'অন্ধবধূ' কবিতায় দেখা যায়, অন্ধবধূটি দুচোখে দেখে না। তার এই অসহায় জীবনে সে সবকিছু থেকে বঞ্চিত হয়ে ঘরের এক কোণে বদ্ধ জীবনযাপন করছে। পরিণতিতে সে দিঘির জলে নিজেকে সমর্পণ করার মধ্য দিয়ে জীবনের মুক্তি খুঁজে নিতে চায়। তাই বলা যায়, উদ্দীপকটিতে 'অন্ধবধূ' কবিতার সমগ্র ভাবের প্রতিফলন ঘটেছে।
