| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘অসহায় বিধবা শুভারাণী,…’ চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২২ – অপরিচিতা, গদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

অসহায় বিধবা শুভারাণী, তার মেয়ে তমালিকার বিয়ের বয়স পার হয়ে যাওয়া সত্তেও তাকে
পাত্রস্থ করতে পারেনি। কারণ পাত্রপক্ষের দাবি মেটাতে সে অক্ষম। অবশেষে নিজের সামান্য
জমিটুকু বিক্রি করে মেয়ের বিয়ের ব্যবস্থা করে সে। কিন্তু বরে বাবা নলীন বাবুর আকাশ ছোঁয়া
চাওয়ার কাছে পরাজিত হতে হয় তাকে। মায়ের এহেন অবস্থা দেখে তমালিকা নিজেই বিয়ের
পিঁড়ি থেকে উঠে আসে এবং সবাইকে সাফ জানিয়ে দেয়, এ বিয়ে সে করতে পারবে না।
অতঃপর স্বাবলম্বী হয়ে একাকী পথ চলার দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে এগিয়ে যায় সে।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৫
মামার একমাত্র লক্ষ্য ছিল, তিনি কোনোমতেই কারও কাছে ঠকবেন 'না ।
প্রশ্নোক্ত উক্তিটি শম্ভুনাথ সেন অনুপমের মামাকে উদ্দেশ করে বলেছিল ।
মামা কনের গহনা যাচাই করে দেখতে চাওয়ায় শম্ভুনাথ সেন খুব কষ্ট পান এবং তাঁর আত্মসম্মানে আঘাত লাগে। আর অনুপম এ ব্যাপারে নিশ্চুপ থাকায় তিনি সিদ্ধান্ত নেন মেয়েকে এ বাড়িতে বিয়ে দেবেন না। তাই তিনি মামাকে গহনা যাচাই করে দেখান, বিয়েতে আমন্ত্রিতদের খাবার খাওয়ান তারপর বলেন যে, সম্পর্কটা স্থায়ী করার ইচ্ছা তাঁর নেই। এ কথা শুনে অনুপমের মামা ভাবেন শম্ভুনাথ ঠাট্টা করছেন। কিন্তু শম্ভুনাথ নিজের সিদ্ধান্তে অটল থেকে বলেন, ঠাট্টা তিনি নয়, অনুপমের মামা করেছেন। কারণ, মেয়ের গহনা বাবা চুরি করতে পারে এই ধরনের হীন চিন্তাকেই ঠাট্টাই বলা যায়, তার বিয়ে না দেওয়ার সিদ্ধান্তকে নয় ।
উদ্দীপকের তমালিকা চরিত্রটি 'অপরিচিতা' গল্পের কল্যাণী চরিত্রের সাথে সংগতিপূর্ণ।
‘অপরিচিতা' গল্পের কল্যাণী একজন ব্যক্তিত্বসম্পন্ন নারী। পিতার সিদ্ধান্তে অনুপমের সঙ্গে বিয়ে ভেঙে গেলে সে পিতার যৌক্তিক মতামতকে সম্মান জানিয়েছে। পরবর্তী সময়ে সে মাতৃভূমি সেবার ব্রত গ্রহণ করেছে। আর তার উপায় হিসেবে বেছে নিয়েছে মেয়েদের শিক্ষাদান করাকে। অর্থাৎ একই সঙ্গে সে হয়ে উঠেছে দেশপ্রেমী ও নারী জাগরণের পথপ্রদর্শক। গল্পের শেষে অনুপমের আচরণে শম্ভুনাথ বাবুর হৃদয় নরম হলেও বিয়ে না করার সিদ্ধান্তে অটল থাকে কল্যাণী ।
তমালিকা আত্মপ্রত্যয়ী এবং আত্মমর্যাদাসম্পন্ন নারী। তার মা নিজের শেষ সম্বল জমিটুকু বিক্রি করে তমালিকার বিয়ের ব্যবস্থা করে। কিন্তু বর পক্ষের আকাশচুম্বী লোভের কাছে তার মা দিশাহারা হয়ে পড়ে। তখন তমালিকা নিজেই তার বিয়ে ভেঙে দেয় এবং স্বনির্ভর হয়ে একা পথ চলার সিদ্ধান্ত নেয়। তাই বলা যায়, যৌতুকের কাছে আত্মসমর্পণ না করে দৃঢ়প্রত্যয় নিয়ে নিজেকে স্বাবলম্বী করার পথ বেছে নেওয়ায় তমালিকা ও কল্যাণী চরিত্র দুটি সংগতিপূর্ণ ।
উদ্দীপকের ঘটনাটি যৌতুক প্রথার ভয়াবহতা প্রকাশ করে যা ‘অপরিচিতা' গল্পে বর্ণিত তৎকালীন সামাজিক সমস্যার দিকটি তুলে ধরতে সমর্থ হয়েছে।
আমাদের সমাজে এখনো কিছু ক্ষেত্রে যৌতুক প্রথার প্রচলন আছে। আগেকার দিনেও বিয়ের সময় কন্যা সম্প্রদানের জন্য যৌতুক প্রদান করার রেওয়াজ ছিল । এমনকি সম্পূর্ণ টাকা না পেলে বরকে বিয়ের আসরে বসতে দিতো না তার পরিবার। সে সময় যৌতুকপ্রথা একটা সামাজিক ব্যাধিতে পরিণত হয়েছিল । আলোচ্য গল্পে যৌতুক প্রথার নির্মমতা উন্মোচিত হয়েছে। অনুপমের মামার হীনমানসিকতা ও যৌতুকের প্রতি লোভ তৎকালীন ভয়ংকর যৌতুক প্রথা সম্পর্কে ধারণা দেয়।
উদ্দীপকে যৌতুক প্রথার নির্মমতা প্রকাশ পেয়েছে। বিধবা শুভারাণী অর্থের অভাবে তার মেয়েকে পাত্রস্থ করতে পারছে না। অথচ তার মেয়ের বিয়ের বয়স পার হয়ে যাচ্ছে। অবশেষে নিজের শেষ আশ্রয় জমিটুকু বিক্রি করে তিনি তার মেয়ের বিয়ের ব্যবস্থা করে। তারপরও বর পক্ষের আকাশচুম্বী চাওয়ার কাছে তাকে পরাজিত হতে হয় ।
যৌতুক একটি সামাজিক ব্যাধি। এর কারণে সমাজে শৃঙ্খলা ও শান্তি বিনষ্ট হয়। স্বল্প আয়ের মানুষেরা অনেক সময় এ দাবি পূরণে ব্যর্থ হওয়ার কারণে তিক্ত অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়। ‘অপরিচিতা' গল্পে এই যৌতুকের কাছে মানবিকতাবোধের পরাজয় প্রকাশ পেয়েছে। নিজ অহংবোধ ও লোভের কারণে কল্যাণীর গা থেকে গহনা খুলে তা যাচাই করতেও দ্বিধা করেননি অনুপমের মামা। অন্যদিকে বিধবা শুভারাণীকেও যৌতুকের নির্মমতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের ঘটনাটি আলোচ্য গল্পে বর্ণিত যৌতুক প্রথার দিকটি তুলে ধরতে সমর্থ হয়েছে।