| ㅤ | A. Nayan13 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘অস্থি এবং পেশি…’ কুমিল্লা ক্যাডেট কলেজ ২০২৪ – চলন ও অঙগচালনা, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি)

অস্থি এবং পেশি পরস্পরের সাথে সংযুক্ত হয়ে লিভার তৈরি করে। এটি বিভিন্ন ধরনের হয়। আমাদের শরীরের নড়াচড়া পিভারের কার্যক্রম দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ৭
কোনো কারণে কারও শ্বাসপ্রশ্বাস বা হৃদস্পন্দন বন্ধ হয়ে গেলে তাকে বাঁচিয়ে রাখার একটি তাৎক্ষণিক পদ্ধতি হলো CPR বা Cardiopulmonary Resuscitation.
সাইনুসাইটিস এর লক্ষণগুলো হলো-
১. নাক থেকে ঘন তরল বের হতে থাকে। এটি সাধারণত হলদে বা সবুজ বর্ণের হয় এবং তাতে পুঁজ বা রক্ত থাকতে পারে।
২. তীব্র ও বিরক্তিকর মাথা ব্যথা লেগেই থাকে যা সাইনাসের বিভিন্ন অঞ্চলে হতে পারে।
৩. মাথা নাড়াচাড়া করলে, হাঁটলে বা মাথা নিচু করলে ব্যথার তীব্রতা আরো বেড়ে যায় ।
৪. জ্বর জ্বর ভাব থাকে, কোনো কিছুতেই ভালো লাগে না এবং অল্পতেই ক্লান্ত হয়ে যায়।
উদ্দীপকে উল্লিখিত তন্ত্রটি হলো লিভারতন্ত্র। ফালক্রাম, বল ও ভারের অবস্থানের উপর নির্ভর করে মানব কঙ্কালে ৩ ধরনের লিভার লক্ষ করা যায়। এগুলো হলো-
প্রথম শ্রেণির লিভার: এক্ষেত্রে লিভারটির ফালক্রাম, বল ও ভারের সাথে থাকে যেমন: কাঁচি। মানবদেহে মাথা ও ঘাড়ের সংযোগস্থল অস্থি। এক্ষেত্রে ঘাড়ের করোটি হলো লিভার বাহু। করোটি ও অ্যাটলাসের মধ্যকার সন্ধিটি পিভট। মাথার পেছনে অবস্থিত পেশি থেকে আসা পেশল ক্রিয়া হলো প্রচেষ্টা। বল ও ভর হচ্ছে মাথার ওজন।
দ্বিতীয় শ্রেণির লিভার: এ ধরনের লিভারে ভারের অবস্থান থাকে পিভট ও প্রচেষ্টার মাঝখানে, যা ঠেলাগাড়ির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। পায়ের গোড়ালির অস্থি দ্বিতীয় শ্রেণির লিভারের উদাহরণ। এক্ষেত্রে পায়ের আঙ্গুলের সন্ধিগুলো হলো পিভট। দুই পা লিভার বাহু; কাফ পেশি ও গোড়ালির টেনডন প্রচেষ্টা এবং দেহের ওজন হচ্ছে ভার।
তৃতীয় শ্রেণির লিভার: মানবদেহে এ জাতীয় লিভারের সংখ্যা সর্বাধিক। যেমন- হাতের কনুইয়ে অবস্থিত অস্থি। এক্ষেত্রে কুনই সন্ধি হচ্ছে পিভট। সম্মুখ বাহু হলো লিভার বাহু। বাইসেপস পেশি হলো প্রচেষ্টা। সম্মুখ বাহু কিংবা কোনো ওজনদার বস্তুসহ সম্মুখ বাহু হচ্ছে ভার।
উদ্দীপকে উল্লিখিত দ্বিতীয় টিস্যুটি হলে পেশিটিস্যু। উর্ধ্ববাহুর বাইসেপস ও ট্রাইসেপস অ্যান্টাগোনিস্টিক পেশি- জোড়ের কার্যাবলি থেকে “পেশিতে টান পড়ে কিন্তু ধাক্কা দেয়না” এর সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা করা যায়।
আমাদের হাত ও পা সঞ্চালনের জন্য বিপরিতধর্মী জোড়া জোড়া পেশি কাজ করে। এদের একটিকে অপরটির অ্যান্টাগোনিস্টিক পেশি বলে । এদের একটি যখন সংকুচিত হয় অন্যটি তখন শিথিল হয়। এ ঘটনা পর্যায়ক্রমে সংঘটিত হয়। হাতের সামনে অবস্থিত বাইসেপস পেশির একপ্রান্ত স্ক্যাপুলার সঙ্গে ও অন্য প্রান্ত রেডিয়াস অস্থির সাথে যুক্ত থাকে। বাইসেপস পেশি সংকুচিত হলে কনুইসন্ধি ভাঁজ হয়ে রেডিয়াস ও আলনার স্ক্যাপুলার দিকে উত্তোলিত হয়। ফলে হাত বাঁকানো সম্ভব হয়। এই প্রক্রিয়াকে ফ্লেক্সন বলে এবং পেশিকে ফ্লেক্সর পেশি বলে। বাইসেপস এর অ্যান্টাগোনিস্টিক পেশি হলো ট্রাইসেপস যা হিউমেরাসের পিছন দিকে অবস্থিত। এর একপ্রান্ত স্ক্যাপুলা ও হিউমেরাসের সাথে এবং অন্যপ্রান্ত আলনার সাথে সংযুক্ত থাকে। এ পেশির সংকোচনে হাত পূর্বের অবস্থার ফিরে আসে। আর এই পেশি কনুই সন্ধিকে প্রসারিত করে। তাই একে এক্সটেনসর পেশি বলে। ফ্লেক্সর ও এক্সটেনসর পেশি একসঙ্গে পরস্পর বিরোধি কাজ করে অর্থাৎ বাইসেপস পেশি সংকুচিত হলে ট্রাইসেপস শ্লথ হয়। আবার ট্রাইসেপস সংকুচিত হলে বাইসেপস শ্লথ হয় । ফলে হাত বাঁকানো ও সোজা করা সম্ভবপর হয়ে থাকে। এসব কারণে সংকোচনের জন্য পেশিতে টান পড়লেও ধাক্কা লাগেনা । অর্থাৎ পেশি টান দিতে পারে কিন্তু ধাক্কা দিতে পারে না।