| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘অটোমান সাম্রাজ্যের পথ…’ বরিশাল বোর্ড ২০২৩ – সিরাজউদ্দৌলা, নাটক ও উপন্যাস, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

অটোমান সাম্রাজ্যের পথ প্রদর্শক সুলতানা কোসেম। যখনই রাজ পরিবার বিপদগ্রস্ত হয়েছে, তখনই সুলতানা কোসেম মুখ্য ভূমিকা পালন করেছেন। এক সৈনিক শত্রুর সাথে হাত মেলালে প্রমাণ সাপেক্ষে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেন। এতে ঐ সৈনিকের পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সুলতানা ঐ পরিবারের দায়ভার ও তার ছেলে হাবিবের লেখাপড়ার দায়িত্ব নেন। কিন্তু হাবিব পিতৃহত্যার কথা জানতে পেরে মনে মনে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন। সুযোগ পেয়ে কোসেমকে হত্যার উদ্দেশ্যে আঘাত করেন। এ যাত্রায় সুলতানা রক্ষা পেলে হাবিব নাবালক বলে তাকে ক্ষমা করেন এবং সংশোধনাগারে পাঠিয়ে দেন। দীর্ঘদিন সংশোধনাগারে রাখার পর হাবিবকে আবার সৈনিক হিসেবে নিয়োগ দেন। কিন্তু হাবিব সুযোগ পেয়ে সুলতানাকে হত্যা করেন।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ১
সিরাজ মানিকচাঁদ কে আলিনগরের দেওয়ান নিযুক্ত করেন।
শুভ কাজে অযথা বিলম্ব করা বুদ্ধিমানের কাজ নয়—উক্তিটি মীরজাফর ক্লাইভের উদ্দেশে করেছিলেন। এখানে শুভ কাজ বলতে গোপন চুক্তিপত্রে সই করাকে বোঝানো হয়েছে।
ইংরেজরা নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে হটিয়ে মীরজাফরকে বাংলার নবাব বানানোর গোপন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। মীরজাফর নবাব হওয়ার আশায় তাদের প্রস্তাবে সহজেই রাজি হয়ে যান। চুক্তি অনুযায়ী বাংলার নবাব হবেন মীরজাফর আর পরোক্ষভাবে দেশ চালাবে ইংরেজরা। বিশ্বাসঘাতক মীরজাফর এই গোপন ষড়যন্ত্রকে শুভ কাজ বলে আখ্যায়িত করেছিলেন এবং এই শুভ কাজে অযথা বিলম্ব করা বুদ্ধিমানের কাজ নয় বলে তিনি মন্তব্য করেছিলেন।
'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের মহম্মদী বেগ চরিত্রের সাথে উদ্দীপকে বর্ণিত হাবিব চরিত্রটির সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্য তুলে ধরা হলো।
মোহাম্মদী বেগ সিরাজের হত্যাকারী। ১০ হাজার টাকার লোভে মিরনের প্ররোচনায় সে নবাবকে খুন করে। নবাব তার কাছে দুই রাকাত নামায পড়ার সময় চাইলে সে লাঠি দিয়ে নবাবকে ফেলে দেয় ও ছুরির আঘাতে হত্যা করে। অথচ নবাবের পিতা তাকে আপন সন্তানের মত লালন করেন এবং নবাবের মাতা হৈ চৈ করে তার বিয়ে দেন। নাটকের সবচেয়ে জঘন্য চরিত্র।
উদ্দীপকে কোসেম সুলতানা হাবিবের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের দায়ভার গ্রহণ করেন এবং হাবিব এর পড়াশোনার খরচ এর দায়িত্ব নেন। পরবর্তীতে হাবিব বড় হয়ে যখন তার পিত্ত হত্যার কথা জানতে পারে তখন সে সুলতানা কোসেম কে হত্যার পরিকল্পনা করে। কিন্তু সুলতানা কোসেম যখন জানতে পারেন তখন থেকে নাবালক বলে ছেড়ে দেন। পরবর্তীতে সে আবার সুলতানা কোসেম কে হত্যা করে।
উদ্দীপকের হাবিব এবং মোহাম্মদী বেগের মধ্যে সাদৃশ্ রয়েছে। এবং হত্যার পরিকল্পনার দিক থেকে বৈসাদৃশ্য লক্ষ্য করা যায়।
ক্ষমা প্রদর্শন করে কোসেম সুলতানার যে পরিণতি সিরাজউদ্দৌলা নাটকে নবাব সিরাজউদ্দৌলারও একই পরিণতি হয়েছে।
সন্তান ছিল না। তাই তিনি ছোট কন্যার সন্তান সিরাজকে বাংলার নবাব করে দিয়ে গিয়েছেন। কিন্তু সিংহাসনে আরোহণের পর থেকেই নবাবের বিরুদ্ধে আত্মীয় স্বজন ও প্রাসাদের অমাত্যরা ষড়যন্ত্র করা শুরু করে। রাজ্য শাসন করার ক্ষেত্রে তিনি নানা ভাবে বাধার সম্মুখীন হন। নবাব শক্ত হাতে সকল পরিস্থিতি মোকাবিলা করার চেষ্টা করেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত ষড়যন্ত্রের কাছে তিনি পরাজিত হন। এবং নবাবের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছিল তারই ঘনিষ্ঠ আত্মীয় তার খালা ঘসেটি বেগম এবং প্রাসাদের অমাত্যদের। সেই সাথে ইংরেজরা বাংলাকে দখল করার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিল। মিরজাফরসহ নানা অমাতারা হাত মেলায় ইংরেজদের সাথে। পলাশির যুদ্ধে নবাব নিজেদের লোকের দ্বারা প্রতারিত হন এবং পরাজিত হন। নবাবের পিতা তাকে আপন সন্তানের মত লালন করেন এবং নবাবের মাতা হৈ চৈ করে তার বিয়ে দেন ।শেষে তাঁর বাবা-মার পালিত পুত্র মোহাম্মদি বেগের হাতে তাঁর করুণ মৃত্যু ঘটে।
ঠিক একই ভাবে উদ্দীপকে সুলতানা কোসেম যে হাবিবের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার এবং তার সমস্ত দায়ভার গ্রহণ করেছিল সেই হাবিবি এক পর্যায়ে তাকে হত্যা করে। তার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে।
সুতরাং উদ্দীপকের সুলতানা কোসেম এবং সিরাজউদ্দৌলা নাটকে নবাব সিরাজউদ্দৌলা এর পরিণতি একই।