অভাবের সংসার শুকুর মিয়ার। সব কিছু হারিয়ে এখন একটি গাভিই তার শেষ সম্বল। সংসারের চাহিদা মেটাতে তিনি তার গাভিকে বিক্রির জন্য গোয়ালঘরে যান। তিনি দেখতে পান দশ বছরের বাকপ্রতিবন্ধী মেয়ে শান্তা গাভির গলা জড়িয়ে ধরে অ্যাঁ অ্যাঁ করে কী যেন বলছে। শুকুর মিয়া এ দৃশ্য দেখে অবাক হন এবং তাদের ভাষা বুঝতে পারেন। তাই তিনি গাভিকে বিক্রি না করার সিদ্ধান্ত নেন।
সুভার বাবাকে সবাই বাণীকণ্ঠ নামে ডাকে।
প্রকৃতির বিভিন্ন শব্দ ও কোলাহল দিয়ে প্রকৃতি সুভার ভাষার অভাব পূরণ করে দেয়।
নদীর কলধ্বনি, পাখির ডাক, মাঝির গান, লোকের কোলাহল ইত্যাদি দিয়ে প্রকৃতি সুভার ভাষার অভাব পূরণ করে দেয়। সে সময় পেলেই নদীর পাড়ে এসে বসে। তখন প্রকৃতির নানান উপাদান নিজের সমস্ত ভাষা নিয়ে সমুদ্রের ঢেউয়ের মতো সুভার হৃদয়ে আছড়ে পড়ে। এই ভাষার বিস্তার যেন বিশ্বব্যাপী। এভাবেই প্রকৃতি বিভিন্ন শব্দের মধ্য দিয়ে সুভার ভাষার অভাব পূরণ করে দেয়।
বাকপ্রতিবন্ধিতার দিক থেকে উদ্দীপকের শান্তার সঙ্গে 'সুভা' গল্পের সুভার সাদৃশ্য রয়েছে।
'সুভা' গল্পের সুভা বাকপ্রতিবন্ধী এক কিশোরী। কথা বলতে না পারায় সুভাকে প্রতিবেশী ছেলেমেয়েরা এক প্রকার ভয় পায়। তাই তারা তার কাছ থেকে দূরে থাকে। বাড়ির গবাদি পশুর সঙ্গে তার সখ্য গড়ে ওঠে।
উদ্দীপকের শান্তা 'সুভা' গল্পের সুভার মতো একজন বাক্প্রতিবন্ধী কিশোরী। গোয়ালের গাভির সঙ্গে তার সখ্য গড়ে ওঠে। শুকুর মিয়া গরু বিক্রি করতে চাইলে শান্তা গরুর গলা জড়িয়ে ধরে কান্না করে। 'সুভা' গল্পের সুভাও কলকাতা যাওয়ার সময় গোয়ালের গাভি সর্বশী ও পাঙ্গুলির কাছ থেকে বিদায় নিতে আসে। সে তাদের গলা জড়িয়ে ধরে যতটা পারে কান্না করে। 'সুভা' গল্পের এ দিকটির সঙ্গে উদ্দীপকের সাদৃশ্য রয়েছে।
উদ্দীপকে বাষ্প্রতিবন্ধী দশ বছরের মেয়ে শান্তা ছাড়া অন্য বিষয়ের উপস্থিতি না থাকায় “উদ্দীপকের মূলভাব 'সুভা' গল্পের সমগ্র ভাবকে ধারণ করে না" উক্তিটি সমর্থনযোগ্য।
'সুভা' গল্পে গল্পকার বাক্প্রতিবন্ধী কিশোরী সুভার প্রতি হৃদয় নিংড়ানো ভালোবাসা ও মমত্ববোধ প্রকাশ করেছেন। সুভা কথা বলতে পারে না। তার মা তাকে নিয়তির অভিশাপ মনে করে।
উদ্দীপকে বাক্প্রতিবন্ধী শান্তার গৃহপালিত পশুর প্রতি মমত্ববোধের দিকটি প্রকাশ পেয়েছে। অভাবের কারণে শুকুর মিয়া তার গাভিটি বিক্রি করতে চাইলে শান্তা গাভিটির গলা জড়িয়ে ধরে কান্না করে। পশুদের প্রতি বাপ্রতিবন্ধী সুভার মমত্ববোধ 'সুভা' গল্পেও প্রকাশ পেয়েছে। কলকাতা যাওয়ার দিন সুভা তাদের গৃহপালিত গাভি সর্বশী ও পাঙ্গুলির গলা জড়িয়ে ধরে কান্না করে।
উদ্দীপকে গৃহপালিত পশুর প্রতি মমত্ববোধের দিকটি 'সুভা' গল্পের একটি গৌণ দিক। এ গল্পের প্রধান উপজীব্য প্রতিবন্ধী শিশুদের প্রতি মমত্ববোধের জাগরণ। বাষ্প্রতিবন্ধী হওয়ার কারণে সুভা নানামুখী সমস্যার সম্মুখীন হয়। তার মা তাকে গর্ভের কলঙ্ক মনে করে, প্রতিবেশীরা তার সামনেই তার ভবিষ্যৎ সম্পর্কে দুশ্চিন্তা প্রকাশ করে, সমবয়সি ছেলে-মেয়েরা তাকে ভয় পায়। তাই সুভা নিজেকে সবার আড়ালে রেখে প্রকৃতি ও বোবা প্রাণীদের সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলে। এ কারণেই বলা যায়, "উদ্দীপকের মূলভাব 'সুভা' গল্পের সমগ্র ভাবকে ধারণ করে না” মন্তব্যটি যথার্থ।
