| ㅤ | A. Nayan16 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘’P’ রাষ্ট্রের জনগণ…’ আবদুল কাদির মোল্লা সিটি কলেজ ২০২৬ – মূল্যবোধ, আইন, স্বাধীনতা ও সাম্য, পৌরনীতি ও সুশাসন, পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র (এইচএসসি)

‘P’ রাষ্ট্রের জনগণ জীবনধারণের জন্য প্রয়োজনীয় কর্মসংস্থান, ন্যায্য মজুরি ও বেকারত্ব দূরীকরণ ইত্যাদি সুযোগ-সুবিধা লাভের অধিকার সংরক্ষণ করেন। ফলে মানুষের ব্যক্তিত্ব বিকাশ ও জীবনের পূর্ণতা অর্জনের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৩
নাগরিকের মৌলিক অধিকার রক্ষায় আদালত স্বপ্রণোদিত হয়ে রুল জারি করলে তাকে সুয়োমোটো রুল জারি বলে।
সব ধরনের অনৈতিকতা পরিহার করে নিয়মনীতি মেনে কোনো কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পাদন করাকে স্বচ্ছতা বলে।
স্বচ্ছতার অর্থ হলো স্পষ্টতা। কোনো কাজ কতটুকু ন্যায়সঙ্গত বা বৈধ তা এর মাধ্যমে মানুষ বুঝতে পারে। স্বচ্ছতা সুশাসনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। একে সুশাসনের পূর্বশর্তও বলা হয়। একটি দেশের প্রশাসনিক কার্যক্রম, নীতি বা সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া স্পষ্টতার মধ্যদিয়ে পরিচালিত হলে তা সহজেই জনগণের কাছে বোধগম্য ও গ্রহণযোগ্য হয়। এতে সুশাসন প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হয়।
'P' রাষ্ট্রের জনগণ অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ভোগ করছেন।
অর্থনৈতিক স্বাধীনতা বলতে যোগ্যতা ও দক্ষতা অনুযায়ী জীবিকা নির্বাহের উপযুক্ত পরিবেশ প্রাপ্তি এবং দৈনন্দিন অভাব ও অনিশ্চয়তা থেকে মুক্তিকে বোঝায়। ব্রিটিশ রাজনৈতিক তাত্ত্বিক, হ্যারল্ড জোসেফ লাস্কির (Harold Joseph Laski) মতে, “অর্থনৈতিক স্বাধীনতা বলতে প্রতিনিয়ত বেকারত্বের আশঙ্কা ও আগামীকালের অভাব থেকে মুক্তি এবং দৈনিক জীবিকার্জনের সুযোগ-সুবিধাকে বোঝায়।” যোগ্যতা ও দক্ষতা অনুযায়ী কাজ পাওয়া, ন্যায্য মজুরি লাভ, বেকার ও বৃদ্ধ বয়সে ভাতা পাওয়ার অধিকার, অক্ষম অবস্থায় রাষ্ট্রের মাধ্যমে প্রতিপালন প্রভৃতি অর্থনৈতিক স্বাধীনতার অন্তর্ভুক্ত। ব্যক্তির ব্যক্তিত্ব বিকাশ এবং অন্যান্য স্বাধীনতাকে অর্থবহ করার জন্য অর্থনৈতিক স্বাধীনতা আবশ্যক।
উদ্দীপকে দেখা যায়, 'P' রাষ্ট্রের জনগণ জীবনধারণের জন্য প্রয়োজনীয় কর্মসংস্থান, ন্যায্য মজুরি ও বেকারত্ব দূরীকরণ ইত্যাদি সুযোগ-সুবিধা লাভের অধিকার সংরক্ষণ করে। ফলে সে রাষ্ট্রে মানুষের ব্যক্তিত্ব বিকাশ ও জীবনে পূর্ণতা অর্জনের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। পূর্বোক্ত এসব আলোচনা থেকেই বলা যায়, 'P' রাষ্ট্রের জনগণ অর্থনৈতিক স্বাধীনতা উপভোগ করছেন।
উদ্দীপকে বর্ণিত স্বাধীনতা অর্থাৎ অর্থনৈতিক স্বাধীনতা রাজনৈতিক ও সামাজিক স্বাধীনতাকে অর্থবহ করে- উক্তিটি যথার্থ।
জীবনধারণের জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক সুযোগ-সুবিধা লাভের অধিকারকে অর্থনৈতিক স্বাধীনতা বলা হয়। অন্যদিকে, সমাজে মর্যাদার সাথে বসবাস করার অধিকারকে সামাজিক স্বাধীনতা এবং রাষ্ট্রের শাসনকার্যে অংশগ্রহণের অধিকারকে রাজনৈতিক স্বাধীনতা বলা হয়। অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ছাড়া রাজনৈতিক ও সামাজিক স্বাধীনতা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অর্থহীন হয়ে পড়ে। উদ্দীপকের 'P' রাষ্ট্রে কর্মসংস্থান ও ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করার মাধ্যমে জনগণের অর্থনৈতিক ভিত্তি মজবুত করা হয়েছে। যখন একজন নাগরিকের অভাব ও বেকারত্বের চিন্তা থাকে না, তখনই সে সামাজিকভাবে মর্যাদা পায় এবং রাজনৈতিক বিষয়ে সচেতন হওয়ার সুযোগ পায়। অর্থনৈতিকভাবে সচ্ছল নাগরিকই কেবল স্বাধীনভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে এবং রাষ্ট্রের গঠনমূলক সমালোচনা করতে পারে।
রাজনৈতিক স্বাধীনতা যেমন-ভোট দেওয়া বা নির্বাচিত হওয়া, তখনই কার্যকর হয় যখন নাগরিকের অন্ন-বস্ত্রের সংস্থান থাকে। একজন ক্ষুধার্ত মানুষের কাছে রাজনৈতিক অধিকারের চেয়ে খাদ্যের নিশ্চয়তা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। একইভাবে, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা না থাকলে সামাজিক স্বাধীনতা বা সমাজে সমান সুযোগ ভোগ করা সম্ভব হয় না। দারিদ্র্য ও বেকারত্ব দূর হলে নাগরিকরা তাদের ব্যক্তিত্ব বিকাশের সুযোগ পায়, যা উদ্দীপকের 'P' রাষ্ট্রের ক্ষেত্রে পরিলক্ষিত হয়েছে।
পরিশেষে বলা যায়, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা হলো সকল স্বাধীনতার ভিত্তি। এটি নাগরিককে অভাব থেকে মুক্তি দিয়ে রাজনৈতিকভাবে সচেতন এবং সামাজিকভাবে মর্যাদাবান করে তোলে। তাই 'P' রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা তাদের রাজনৈতিক ও সামাজিক স্বাধীনতাকে প্রকৃত অর্থেই ফলপ্রসূ ও অর্থবহ করে তুলেছে।