| ㅤ | A. Nayan12 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘P→ উদ্ভিদ এবং…’ রংপুর ক্যাডেট কলেজ ২০২৬ – কোষ ও এর গঠন, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ১ম পত্র (এইচএসসি)

P→ উদ্ভিদ এবং প্রাণিকোষের বহিঃস্থ আবরণ
Q→ একটি অঙ্গাণু যা কোষের রান্নাঘর হিসেবে পরিচিত
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ১
পাশাপাশি কোষগুলো কোষ প্রাচীরের সূক্ষ্ম ছিদ্রের ভেতর দিয়ে প্রোটোপ্লাজমের সূত্রবৎ অংশের সাহায্যে পরস্পরের সাথে যুক্ত থাকে। প্রোটোপ্লাজমের সূত্রবৎ এ অংশগুলোই হলো প্লাজমোডেসমাটা।
বাধ্যতামূলক পরজীবী বলতে এমন জীবকে বুঝায়, যারা তাদের জীবনচক্র সম্পন্ন করার জন্য অবশ্যই একটি উপযুক্ত পোষক জীবদেহের ওপর নির্ভরশীল। এরা পোষক ছাড়া স্বাধীনভাবে বাঁচতে বা বংশবৃদ্ধি করতে পারে না। ভাইরাস এর একটি উৎকৃষ্ট উদাহরণ। ভাইরাসের নিজস্ব কোনো কোষীয় কাঠামো বা বিপাকীয় ব্যবস্থা নেই। তাই এরা পোষক কোষের বাইরে নিষ্ক্রিয় থাকে এবং কোষের ভিতরে প্রবেশ করেই পোষক কোষের উপকরণ ব্যবহার করে নিজেদের বংশবৃদ্ধি করে।
উদ্দীপকের Q হচ্ছে ক্লোরোপ্লাস্ট। নিচে ক্লোরোপ্লাস্টের গঠন চিহ্নিত চিত্রসহ ব্যাখ্যা করা হলো-
১. আবরণী ঝিল্লি: প্রতিটি ক্লোরোপ্লাস্ট লিপোপ্রোটিন দিয়ে গঠিত দুটি একক পর্দা দিয়ে আবৃত থাকে। বাইরের পর্দাটি বহিঃপর্দা ও ভিতরেরটিকে অন্তঃপর্দা বলে। বহিঃপর্দাটি ভেদ্য কিন্তু অন্তঃপর্দা বৈষম্যভেদ্য।
২. স্ট্রোমা: আবরণী ঝিল্লি দ্বারা আবৃত পানিগ্রাহী, কলয়েডধর্মী ম্যাট্রিক্স তরলকে স্ট্রোমা বলে। স্ট্রোমাতে 70S রাইবোসোম, অসমোফিলিক দানা, DNA, RNA ইত্যাদি থাকে। এতে শর্করা তৈরির এনজাইমও থাকে।
৩. থাইলাকয়েড ও গ্রানা: স্ট্রোমায় একক পর্দাবেষ্টিত চ্যাপ্টা থলির মতো যে অংশগুলো থাকে তাদের থাইলাকয়েড বা গ্রানাম চক্র বলে। উচ্চ শ্রেণির উদ্ভিদে কতগুলো থাইলাকয়েড স্তরীভূত হয়ে গ্রানা গঠন করে। প্রতিটি ক্লোরোপ্লাস্টে প্রায় 40-60টি গ্রানা থাকে। প্রতিটি গ্রানাম 10-100টি থাইলাকয়েড নিয়ে গঠিত।
৪. স্ট্রোমা ল্যামেলি: দুটি পাশাপাশি গ্রানার কিছু সংখ্যক থাইলাকয়েডস সূক্ষ্ম নালিকা দ্বারা সংযুক্ত থাকে। এই সংযুক্তকারী নালিকাকে স্ট্রোমা ল্যামেলি বলে। এদের অভ্যন্তরেও কিছু পরিমাণ ক্লোরোফিল বিদ্যমান থাকে।
৫. ফটোসিনথেটিক ইউনিট ও ATP-Synthases: থাইলাকয়েড মেমব্রেনের ভেতরের গাত্রে অসংখ্য সালোকসংশ্লেষণকারী একক ও ATP Synthases নামক বস্তু থাকে। ATP Synthases নামক বস্তুতে ATP তৈরির সকল এনজাইম থাকে। মেমব্রেনগুলোতে অসংখ্য ফটোসিনথেটিক ইউনিট থাকে।
৬. DNA ও রাইবোসোম: ক্লোরোপ্লাস্টে তার নিজস্ব বৃত্তাকার, নগ্ন, চক্রাকার বা রেখাকার DNA থাকে। তাছাড়া এতে 70S প্রকৃতির রাইবোসোম থাকে। এদের সাহায্যে ক্লোরোপ্লাস্ট নিজস্ব অনুরূপ সৃষ্টি ও কিছু প্রয়োজনীয় প্রোটিন সংশ্লেষ করতে পারে।
উদ্দীপকে উল্লেখিত P হচ্ছে প্রাণিকোষের বহিরাবরণ বা কোষঝিল্লি। কোষঝিল্লি বা প্লাজমামেমব্রেনের গঠনের সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য মডেল হলো ফ্লুইড মোজাইক মডেল। বিজ্ঞানী Singer ও Nicolson ১৯৭২ সালে প্লাজমামেমব্রেনের ফ্লুইড মোজাইক মডেলটি প্রবর্তন করেন। নিচে মডেলটি বিশ্লেষণ করা হলো-
১. ফসফোলিপিড বাইলেয়ার: প্লাজমামেমব্রেন দুটি স্তরে বিন্যস্ত থাকে। প্রত্যেকটি স্তর ফসফোলিপিড অণু দিয়ে গঠিত। প্রতিটি ফসফোলিপিডে এক অণু গ্লিসারল থাকে এবং গ্লিসারলের সাথে দুটি নন-পোলার ফ্যাটি অ্যাসিড লেজ এবং একটি পোলার ফসফেট মাথা বা হেড থাকে।
২. মেমব্রেন প্রোটিন: কোষঝিল্লিতে তিন রকমের প্রোটিন দেখা যায়।
i. পেরিফেরাল প্রোটিন: এগুলো ফসফোলিপিড স্তরের বাইরে ও ভেতরের তলে অর্থাৎ ঝিল্লির সার্ফেসে অবস্থান করে।
ii. লিপিড সম্পৃক্ত প্রোটিন: এগুলো ফসফোলিপিড স্তরে আংশিক বা সম্পূর্ণ প্রবিষ্ট থাকে।
iii. ইন্টিগ্রাল প্রোটিন: এগুলো ফসফোলিপিডের দু'স্তর জুড়েই অবস্থান করে। এ প্রোটিনগুলো ছিদ্রযুক্ত এবং এই ছিদ্রপথে অণু বা আয়নের চলাচল সম্ভব হয়।
৩. গ্লাইকোক্যালিক্স: অনেক ফসফোলিপিড অণু এবং অধিকাংশ প্রোটিন অণুর সঙ্গে ক্ষুদ্র কার্বোহাইড্রেট শৃঙ্খল যুক্ত থাকে। তখন এগুলোকে যথাক্রমে গ্লাইকোলিপিড ও গ্লাইকোপ্রোটিন বলে। এ দুটোকে মিলিতভাবে গ্লাইকোক্যালিক্স বলা হয়।
৪. কোলেস্টেরল: ফসফোলিপিড অণুর ফাঁকে ফাঁকে কোলেস্টেরল অণু অবস্থান করে। ফসফোলিপিড অণুগুলো সবসময় সচল থাকে, কাঁপে, পরস্পরের সাথে ঠোকাঠোকি করে লাফিয়ে উঠে এবং স্তরের মধ্যেই স্থান পরিবর্তন করে।
প্লাজমামেমব্রেনের মধ্যে উপাদানগুলোর এই স্থানান্তরকে ঘূর্ণন বা Flip-Flop movement বলা হয়ে থাকে। প্রোটিন অণুগুলো ফসফোলিপিডের মধ্যে ভেসে থাকে ফলে এদের মোজাইকের মতো দেখা যায়। এসব বৈশিষ্ট্যের কথা বিবেচনা করে প্লাজমামেমব্রেনের - এই মডেলটির নামকরণ হয়েছে ফ্লুইড মোজাইক মডেল।