| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘পাড়ার সকলের প্রিয়…’ দিনাজপুর বোর্ড ২০২২ – আঠারো বছর বয়স, পদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

পাড়ার সকলের প্রিয় পল্টু। অদ্ভুত তার চরিত্র। এখনই কারও গাছের ফল চুরি করে খেল, তো পরক্ষণেই শীতার্তকে নিজের গায়ের জামা খুলে দিয়ে দিল। কখনো গৃহস্থের গরুর গলার রশি খুলে দিয়ে মজা করছে, কখনও মহিলাদের আড্ডায় রাবারের সাপ ছেড়ে দিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে, কখনো পথচারীর গায়ে সাইকেল তুলে দিয়ে খিলখিল করে হাসছে। সেই পল্টুই আবার প্রতিবেশীর বাড়িতে হামলা করা ডাকাত দলকে একাই রুখে দিতে লড়াই করছে। কারও বাচ্চাটাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না, কারও অসুস্থ আত্মীয়কে হাসপাতালে নিতে হবে, কোনো কন্যাদায় গ্রস্থ পিতার বিয়ের সব ব্যবস্থাপনা করে দিতে হবে, কারও অন্ন-বস্ত্রের সংস্থান করতে হবে- এ সবে পল্টুর সর্বাগ্রে।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ১৯
সুকান্ত ভট্টাচার্য সম্পাদিত কাব্যগ্রন্থটির নাম 'আকাল' ।
‘আঠারো বছর বয়স' কবিতায় কবি ‘এ বয়সে কানে আসে কত মন্ত্রণা'— চরণটির মাধ্যমে এ বয়সে নতুন নতুন তত্ত্বের সঙ্গে পরিচিত হওয়াকে বুঝিয়েছেন ।
আঠারো বছর বয়সে মানুষ আত্মপ্রত্যয়ে প্রথমবারের মতো স্বনির্ভর জীবনযাপনের প্রয়াস চালায়। এ জন্য তাকে বাস্তব রুক্ষ মাটির পৃথিবীর ওপর দাঁড়াতে হয়। এ সময় তারা ভালো-মন্দ, ইতিবাচক-নেতিবাচক নানা তত্ত্ব, মতবাদ ও ভাবধারার সঙ্গে পরিচিত হতে শুরু করে ।
পল্টুর পরোপকারের বিষয়টি 'আঠারো বছর বয়স' কবিতার আত্মত্যাগের মহান মন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে পরোপকার করার দিকটির ইঙ্গিতবাহী।
আঠারো বছর বয়স মানবজীবনের এক উত্তরণকালীন পর্যায়। এই বয়সে মানুষ যৌবনে পদার্পণ করে আত্মপ্রত্যয়ী হয়। তারুণ্য স্বপ্ন দেখে নতুন জীবনের, নব নব অগ্রগতি সাধনের। চারপাশের অন্যায়, অত্যাচার, শোষণ, পীড়ন, সামাজিক বৈষম্য ও ভেদাভেদ ইত্যাদি দেখে প্রাণবন্ত তরুণেরা প্রতিবাদী হয়ে ওঠে। অত্যাচারিত, নিপীড়িত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে উপকার করে।
উদ্দীপকে পল্টুর পরোপকারের বিষয়টির মধ্যেও আঠারো বছর বয়সের বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান। পল্টুও নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিবেশীকে ডাকাতদের আক্রমণ থেকে রক্ষা করে। কেউ নিখোঁজ হলে পল্টু দিনরাত পরিশ্রম করে খুঁজে আনার চেষ্টা করে। আবার কারো আত্মীয়কে অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার জন্য সবার আগে পল্টু দৌড়ে যায়। পল্টুর এই মহানুভবতা তার বয়সের সাথে মিশে আছে। আঠারো বছর বয়সের মানুষই এমন নির্বিঘ্নে মানুষের পাশে আসতে পারে, পাশে দাঁড়াতে পারে, নিঃস্বার্থভাবে মানুষের উপকার করতে পারে। তাই বলা যায়, পল্টুর পরোপকারের বিষয়টি 'আঠারো বছর বয়স' কবিতার আত্মত্যাগের মহান মন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে পরোপকার করার দিকটির ইঙ্গিতবাহী।
"তবু আঠারোর শুনেছি জয় ধ্বনি" পদ্ধতিটির মাধ্যমে কবি আঠারো বছর বয়সের জয়গান গেয়েছেন ।
আঠারো বছর বয়স এক উদ্দীপনা ও উৎসাহের নাম। কৈশোর থেকে যৌবনে পদার্পণের এ বয়সটি উত্তেজনার, প্রবল আবেগ ও উচ্ছ্বাসে জীবনের ঝুঁকি নেবার। এ বয়স অদম্য দুঃসাহসে সকল বাধা-বিপত্তিকে পেরিয়ে যাওয়ার এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবার। এ বয়সের ধর্মই হলো আত্মত্যাগের মহান মন্ত্রে উজ্জীবিত হওয়া, আঘাত-সংঘাতের মধ্যে রক্ত- শপথ নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়া। পাশাপাশি সমাজজীবনের নানা বিকার, অসুস্থতা ও সর্বনাশের অভিঘাতে এ বয়স হয়ে উঠতে পারে ভয়ংকর। বিকৃতি ও বিপর্যয়ের অজস্র আঘাতে ক্ষতবিক্ষত ও নিঃশেষিত হতে পারে সহস্র প্রাণ ।
উদ্দীপকেও আঠারো বছর বয়সের ভালো-মন্দ উভয় দিক তুলে ধরা হয়েছে। জগতে সমস্ত কিছুরই দুটি বিপরীত দিক রয়েছে। ভালো-মন্দ, হাসি-কান্না, জয়-পরাজয়, সুন্দর-কুৎসিত ইত্যাদি। আমরা যখন কোনো কিছু সম্পর্কে ধারণা পোষণ করি তখন তার ভালো-মন্দ দুটো দিক আমাদের বিচার করে দেখতে হয়। তারুণ্যের এমন কিছু বৈশিষ্ট্য আছে যেগুলোকে আমরা মানবজীবনে শুভ ও মঙ্গলজনক বলে মনে করি। এসব দিককে আমরা বলতে পারি ইতিবাচক দিক। আবার তারুণ্যের এমন কিছু বৈশিষ্ট্য আছে যা সমাজের জন্য ক্ষতি বয়ে আনতে পারে। এরপরও সমাজ, জাতি ও দেশের কল্যাণে যা কিছু অর্জিত হয়েছে তার পেছনে আঠারো বছর বয়সের অবদান বিদ্যমান ।
উদ্দীপক ও 'আঠারো বছর বয়স' কবিতার আলোকে বলা যায়, আঠারো বছর বয়সের যত মন্দ ও ত্রুটিপূর্ণ দিক থাকুক না কেন, জাতি ও দেশের জন্য এই বয়স তাৎপর্যময়। দেশ, জাতি ও মানবতার জন্য যুগে যুগে এ বয়সের মানুষই এগিয়ে গেছে সবচেয়ে বেশি। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দাঁড়িয়েছে সমস্ত বিপদ মোকাবিলায়। প্রাণ দিয়েছে অজানাকে জানবার জন্য, দেশ ও জনগণের মুক্তি ও কল্যাণের সংগ্রামে। এই বয়সই জানে সুন্দর, শুভ ও কল্যাণের জন্য রক্তমূল্য দিতে। তাই বলা যায়, “তবু আঠারোর শুনেছি জয় ধ্বনি” পঙক্তিটির মাধ্যমে কবি আঠারো বছর বয়সের জয়গান গেয়েছেন ।