| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘পাকা মসজিদের পুকুর…’ চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৪ – লালসালু, নাটক ও উপন্যাস, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

পাকা মসজিদের পুকুর পাড়ে কয়েক ঘর দিনমজুরের মাটির ঘর। রাতে প্রচন্ড কালবৈশাখী ঝড় আর প্রবল বৃষ্টির তাণ্ডবে তাদের ঘরের খড়ের চালগুলো উড়ে গেল। অগত্যা ওদের একজন সাহস করে মসজিদের ইমাম সাহেবকে তাদের দুরবস্থার কথা জানালে ইমাম সাহেব মসজিদ খুলে দেন। দিনমজুরের পরিবারেরা মসজিদের ভেতর আশ্রয় পেয়ে খুব খুশি হয়। ইমাম সাহেব তাদের সাথেই সে রাতটা জেগে কাটিয়ে দেন।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ২
মজিদ শ্রাবণ মাসে মহব্বতনগর গ্রামে প্রবেশ করে।
"গরিব মানুষ, খাইবার পাই না।”- কথাটি দ্বারা দুদু মিয়ার অভাবী জীবনের দিকটিকে নির্দেশ করা হয়েছে।
'লালসালু' উপন্যাসে মহব্বতনগর গ্রামের অশিক্ষিত দরিদ্র মানুষের কথা বলা হয়েছে। মজিদ একদিন সাত ছেলের বাপ দুদু মিয়াকে হঠাৎ প্রশ্ন করে সে কলমা জানে কি না। এই প্রশ্ন শুনে দুদু মিয়া সলাজ হেসে উত্তর দেয় সে গরিব মানুষ, খেতেই পায় না। বস্তুত দারিদ্র্যের কারণে যেখানে তার খাদ্যের সংস্থান হয় না সেখানে ধর্মীয় বা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নেওয়ার কথা অবান্তর। প্রশ্নোক্ত উক্তিটির মাধ্যমে এই কথাটিই তাৎপর্যময় হয়ে উঠেছে।
প্রকৃত ধর্মবোধ ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির দিক থেকে উদ্দীপকের ইমাম সাহেব আর 'লালসালু' উপন্যাসের মজিদ চরিত্রের বৈসাদৃশ্য রয়েছে।
পৃথিবীতে সব মানুষ একই রকম নয়। এখানে একশ্রেণির মানুষ নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য যেকোনো অন্যায় কর্ম, এমনকি ধর্মকে পর্যন্ত হাতিয়ার করে। পক্ষান্তরে উদার প্রকৃতির মানুষেরা মানবকল্যাণে আত্মনিয়োগ করে নিজেকে ধন্য মনে করেন।
উদ্দীপকের ইমাম সাহেব মানবিক বোধসম্পন্ন একজন মানুষ। এ কারণেই কালবৈশাখির কারণে দিনমজুরদের কষ্টের কথা শুনে তিনি তাদের থাকার ব্যবস্থা করেন। পক্ষান্তরে 'লালসালু' উপন্যাসের মজিদ একজন স্বার্থান্বেষী ও কপট চরিত্র। নিজ স্বার্থসিদ্ধির জন্য সে ধর্মকে ব্যবহার করে এবং সম্পদের পাহাড় গড়ে তোলে। শুধু তাই নয়, নিজের প্রভাব-প্রতিপত্তিকে ধরে রাখতে সে মাতব্বরকে দিয়ে আমেনা বিবিকে তালাক দেওয়ানো থেকে শুরু করে আক্কাসের স্কুল স্থাপনের চেষ্টাকে পর্যন্ত নস্যাৎ করে দেয়, যা উদ্দীপকের ইমাম সাহেবের আচরণের বিপরীত। এদিক থেকে তাদের চরিত্রের বৈসাদৃশ্য পরিলক্ষিত হয়।
"উদ্দীপক' ও 'লালসালু' উপন্যাস আমাদের সমাজবাস্তবতার দুই ভিন্ন মেরু।”- 'লালসালু' উপন্যাস এবং উদ্দীপকের আলোকে মন্তব্যটি যথার্থ।
আমাদের সমাজে দুই ধরনের মানুষ রয়েছে। তাদের মধ্যে এক ধরনের মানুষ ব্যক্তিস্বার্থকে সর্বাধিক প্রাধান্য দিয়ে থাকে। এজন্য তারা সামাজিক বিশৃঙ্খলা থেকে শুরু করে যেকোনো গর্হিত কাজ করতেও পিছপা হয়' না। অন্যদিকে দ্বিতীয় ধরনের ব্যক্তিবর্গ সদাই সৎ জীবনযাপন করেন এবং মনুষ্যত্বকে সর্বাধিক প্রাধান্য দেন।
'লালসালু' উপন্যাসের মূল বিষয় যুগ যুগ ধরে শেকড় গাড়া কুসংস্কার, অন্ধবিশ্বাস ও ভীতির সঙ্গে জীবনাকাঙ্ক্ষার দ্বন্দ্ব। এই দ্বন্দ্ব সৃষ্টিকারী মজিদ। তথাকথিত মোদাচ্ছের পিরের মাজারকে কেন্দ্র করে মজিদ ধর্মব্যবসায় করে। নারীদের প্রতি অমর্যাদাকর ও অমানবিক আচরণ করে। উদ্দীপকে তার এই বৈশিষ্ট্যের বিপরীত দিক প্রতিফলিত হয়েছে। উদ্দীপকে একজন উদারমনা ইমাম সাহেবের কথা বলা হয়েছে। কালবৈশাখির সময়টাতে মসজিদের পাশে বসবাসকারী কয়েকটি পরিবারের বাড়িঘর ভেঙে গেলে ইমাম সাহেব তাদের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন। বিপদগ্রস্ত এই মানুষগুলোকে সাহায্য করার জন্য তিনি মসজিদেই তাদের থাকার ব্যবস্থা করেন। শুধু তাই নয়, তাদের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করে তিনি সেই রাতে তাদের সঙ্গেই থেকে যান।
'লালসালু' উপন্যাসে মজিদ চরিত্রকে কেন্দ্র করে লেখক সমাজে জেঁকে বসা পিরপ্রথার অন্ধকার দিকটিকে আমাদের সামনে তুলে ধরেছেন। যেখানে ইসলাম ধর্মের সুফি দর্শনকে কেন্দ্র করে এক শ্রেণির মানুষ পির সেজে মানুষকে ঠকিয়ে সম্পদ ও প্রতিপত্তি গড়ে তোলে। 'লালসালু' উপন্যাসের মজিদ তাদেরই প্রতিনিধি। পক্ষান্তরে, উদ্দীপকের ঘটনাবর্তে আমরা একজন সৎ ও উদারচিত্তের ইমাম সাহেবকে দেখতে পাই, যিনি কালবৈশাখির ঝড়ে গৃহহারা কয়েকটি পরিবারের জন্য আশ্রয়ের ব্যবস্থা করেছেন। উদ্দীপক ও 'লালসালু' উপন্যাসে উঠে আসা এই ধরনের ঘটনা আমাদের সমাজবাস্তবতারই অংশ। সেই বিবেচনায় প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথাযথ।