| ㅤ | A. Nayan18 Oct 2026 (1 week ago) |
সৃজনশীলঃ ‘পার্বত্য চট্টগ্রামের পশ্চিম…’ ঢাকা বোর্ড ২০২২ – পৃথিবীর গঠন, ভূগোল, ভূগোল ১ম পত্র (এইচএসসি)

পার্বত্য চট্টগ্রামের পশ্চিম পার্শ্বে বঙ্গোপসাগর অবস্থিত। এ অঞ্চলে পাহাড়ের অবস্থানের কারণে এক বিশেষ বৃষ্টিপাত হয়। অন্যদিকে, বঙ্গোপসাগরে চাপের পার্থক্যজনিত কারণে গ্রীষ্মকালে প্রাকৃতিক দুর্যোগের সৃষ্টি হয়।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ২
উচ্চচাপ বলয় থেকে নিম্নচাপ বলয়ে যে বায়ু নিয়মিতভাবে সারাবছর প্রবাহিত হয় তাকে নিয়ত বায়ু বলা হয়।
নিরক্ষরেখার উভয় পাশে ৫° থেকে ১০° অক্ষাংশের মধ্যে এ বলয় অবস্থিত। এখানে সূর্যরশ্মি সারাবছর লম্বভাবে কিরণ দেয় বলে উষ্ণতা বেশি থাকে। ফলে বায়ু উত্তপ্ত হয়ে প্রসারিত হয় এবং হালকা হয়ে উপরে ওঠে যায়। এ অঞ্চলে স্থলভাগ অপেক্ষা জলভাগের পরিমাণ বেশি বলে সূর্যের প্রচণ্ড উত্তাপে জলভাগ হতে প্রচুর জলীয়বাষ্প উপরে ওঠে উষ্ণ বায়ুর সাথে মিশে যায় সেজন্য বায়ুমণ্ডলের চাপ খুব কম হয়। এ কারণে নিরক্ষীয় প্রদেশে বায়ুর নিম্নচাপ হয়।
উদ্দীপকে শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাতের কথা বলা হয়েছে।নিচে এর ধরন বর্ণনা করা হলো:
জলীয়বাষ্পপূর্ণ বায়ুর গতিপথে পর্বত থাকলে তা বাধাপ্রাপ্ত হয়ে পর্বতের প্রতিবাত অংশে বৃষ্টিপাত হয়। শৈল বা পাহাড় দ্বারা উৎক্ষিপ্ত হয়ে এ বৃষ্টিপাত হয় বলে একে শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত বলে।জলীয়বাষ্পপূর্ণ বায়ু স্থলভাগের উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার সময় যদি গমনপথে কোনো উঁচু পর্বতশ্রেণিতে বাধা পায় তাহলে ঐ বায়ু উপরের দিকে উঠে যায়। তখন জলীয়বাষ্পপূর্ণ বায়ু ক্রমশ প্রসারিত হয় এবং পর্বতের উঁচু অংশে শীতল ও ঘনীভূত হয়ে পর্বতের প্রতিবাত ঢালে বৃষ্টিপাত ঘটায়। এরূপ বৃষ্টিপাতকে শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টি বলা হয়। এ ধরনের বৃষ্টি পর্বতের অপর পার্শ্বে অর্থাৎ অনুবাত ঢালে হয় না। তাই পাহাড়ের একপাশে বৃষ্টি হয় ও অন্যপাশে বৃষ্টিহীন থাকে। উদ্দীপকের চিত্রে জলীয়বাষ্পপূর্ণ বায়ু পর্বতের বাধায় উপরের দিকে উঠে শীতল ও ঘনীভূত হয়ে বৃষ্টিপাত ঘটিয়েছে।
উদ্দীপকে ঘূর্ণিঝড়ের কথা বলা হয়েছে।জনজীবনে এর প্রভাব বিশ্লেষণ করা হলো-
বঙ্গপসাগরে বায়ুচাপের পার্থক্যের কারণে গ্রীষ্ককালে ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়। ঘূর্ণিঝড়ের কারণে পৃথিবীর অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়। ঘূর্ণিঝড়ের কবলে পড়ে অনেক ঘরবাড়ি, স্কুল-কলেজ, মসজিদ, মাদ্রাসা, মন্দির-প্যাগোডা, হাট-বাজারের স্থায়ী ঘর, গাছপালা প্রভৃতি ভেঙে যায়। এছাড়া উপকূলীয় জলোচ্ছ্বাসের ফলে কাঁচাঘর, রাস্তা, কালভার্ট ভেঙে যায়। অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠানের অংশবিশেষ ভেঙে পড়ে। এ কারণে শিল্পপ্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন বন্ধ থাকলে উৎপাদন ব্যাহত হয়। এছাড়া ঘূর্ণিঝড়ের অত্যধিক বাতাসের ফলে ফসল দুমড়ে মুচড়ে পড়ে। ফলে খেতের ফসল নষ্ট হয়ে যায়। উপদ্রুত এলাকায় প্রায় জনশূন্যতার সৃষ্টি হলে অন্য এলাকা থেকে আসা অনেকে ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়িতে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, খুন প্রভৃতি অসামাজিক কাজে লিপ্ত হয়।
এছাড়াও খাবার পানির অভাব, সংক্রামক ব্যাধির বিস্তার, খাদ্য সংকট, জ্বালানি সংকট, দারিদ্র্য, অপুষ্টি প্রভৃতি ঘূর্ণিঝড়ের কারণে হয়ে থাকে। এছাড়া ঘূর্ণিঝড়ের সময় উপকূলীয় এলাকার সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাস ৩ থেকে ২০ কিমি. পর্যন্ত লবণাক্ত পানিতে প্লাবিত করে। ফলে পুকুর ও জলাশয়ের মাটি লবণাক্ত হয়ে পড়ে এবং উৎপাদন ব্যাহত হয়।