| ㅤ | A. Nayan12 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘পার্বত্য জেলার অধিবাসীগণ…’ ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২২ – অণুজীব, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ১ম পত্র (এইচএসসি)

পার্বত্য জেলার অধিবাসীগণ প্যাথোজেনিক প্রটোজোয়া সৃষ্ট একটি বিশেষ জ্বর রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকেন। রোগটির কারণে লোহিত রক্ত কণিকা ধ্বংসপ্রাপ্ত হয় এবং রোগীর
মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৪
সংক্রমণক্ষম সম্পূর্ণ ভাইরাসকে বলা হয় ভিরিয়ন।
যে সকল পরজীবী পোষকের দেহে স্থায়ীভাবে বসবাস করে তাদের সমস্ত জীবনচক্র সম্পন্ন করে সেগুলোকে বাধ্যতামূলক পরজীবী বলে।এদের হলোপ্যারাসাইটও বলা হয়। প্লাজমোডিয়াম, নিউমোসাইটিস,ভিরিয়ন ইত্যাদি হলো বাধ্যতামূলক পরজীবী।
উদ্দীপকের উল্লেখিত রোগটি হলো ম্যালেরিয়া।
ম্যালেরিয়া যেহেতু মশকী বাহিত একটি রোগ তাই মশকী প্রতিরোধের মাধ্যমে এ রোগ হতে মুক্ত থাকা সম্ভব। ম্যালেরিয়া প্রতিকার তিনভাবে হতে পারে; যথা-
(১) মশকী নিধন,
(২) মশকী হতে আত্মরক্ষা এবং
(৩) চিকিৎসা।
(১) মশকী নিধন : মশককুলের বংশ পরিবেশ হতে নির্মূল করা প্রায় অসম্ভব। কিন্তু নিম্নলিখিত পন্থা অবলম্বন এদের বিস্তার রোধ করা যায়-
(i)মশকীরা বদ্ধ পচা পানিতে ডিম পাড়ে। তাই বাড়ির আশেপাশের পরিত্যক্ত ডোবা, নালা পরিষ্কার রাখা, যেখানে সেখানে পানি জমতে না দেয়া, বাড়ির আশেপাশের ঝোপ-ঝাড়, জঙ্গল কেটে ফেলার মাধ্যমে মশকীর বসবাস ও প্রজননক্ষেত্র ধ্বংস করা সম্ভব।
(ii)পচা পানিতে ডিম ফুটে মশকীর লার্ভা ও পিউপা দশা সৃষ্টি হয়। পানিতে কেরোসিন বা পেট্রোল জাতীয় পদার্থ ছিটিয়ে দিলে এরা অক্সিজেনের অভাবে মারা পড়ে। পানিতে জুভেনাইল হরমোন ছিটিয়ে দিলে, লার্ভাগুলোর রূপান্তর ব্যাহত হয় ফলে এরা পূর্ণাঙ্গ মশকীতে রূপান্তরিত হতে পারে না।
(iii) ফগিং মেশিনের মাধ্যমে সালফার ডাই-অক্সাইডের ধোয়া সৃষ্টি করে মশা তাড়ানো বা মেরে ফেলা সম্ভব।
(iv) অধিকাংশ শহর এলাকাতে মশা নিয়ন্ত্রণের জন্য কীটনাশক ব্যবহার করা হয়।
(২) মশকীর দংশনের হাত হতে আত্মরক্ষা : ঘরের দরজা-জানালায় মাশকীরোধী ঘন তারের নেট ব্যবহার করে মশকীর দংশন হতে আত্মরক্ষা করা যায়। এছাড়া কয়েল বা বিভিন্ন ধরনের স্প্রে ব্যবহার করা বা দেহের অনাবৃত অংশে বিশেষ ধরনের ক্রিম বা লোশন লাগানোর মাধ্যমে মশকীর দংশন হতে বাঁচা যায়। শয়নের সময় মশারি ব্যবহার এবং সন্ধ্যায় ধূপের ধোঁয়া প্রয়োগ করা।
(৩) ম্যালেরিয়াগস্থ রোগীর চিকিৎসা : ম্যালেরিয়া রোগীকে অবশ্যই উন্নত চিকিৎসা প্রদান করা আবশ্যক। রোগ শনাক্ত করা ও উপযুক্ত চিকিৎসা প্রদান করলে ম্যালেরিয়া রোগ হতে পরিত্রাণ পাওয়া যায়। সিনকোনা গাছের বাকল হতে তৈরি কুইনাইন ম্যালেরিয়া নিরাময়ের মূল ওষুধ।
উপরিউক্ত পদক্ষেপগুলোর মাধ্যমে ম্যালেরিয়া প্রতিরোধ করা সম্ভব।
উদ্দীপকে উল্লেখিত রোগটি হলো ম্যালেরিয়া।
ম্যালেরিয়া জ্বরের কারণে নির্দিষ্ট সময় পরপর জ্বর আসে।
ম্যালেরিয়ার জীবন চক্রে ‘সাইজন্ট’ নামক বহু নিউক্লিয়াসবিশিষ্ট একটি বিশেষ দশা বিদ্যমান থাকে। এ ধরনের জীবন চক্রকে সাইজোগনি বলে। মানবদেহে সংঘটিত সাইজোগনিকে দুটি ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
(১) হেপাটিক সাইজোগনি বা যকৃত সাইজোগনি এবং
(২) এরিথ্রোসাইটিক সাইজোগনি বা লোহিত রক্ত কণিকায় সাইজোগনি।
ম্যালেরিয়া জ্বরের কারণে লোহিত রক্তকণিকা ধ্বংস হয় নিচে তা দেয়া হলো-
১। মাইক্রো-মেটাক্রিপ্টোমেরোজয়েটগুলো যকৃত কোষ থেকে লোহিত রক্ত কণিকায় প্রবেশ করে এবং খাদ্য গ্রহণ করে স্ফীত ও গোলাকার হয়।
২। কোষ গহ্বরটি ধীরে ধীরে বড় হয় ও নিউক্লিয়াসটি একপাশে সরে যায়, ফলে জীবাণুটি একটি আংটি আকৃতি লাভ করে।
৩। প্রায় ৮ ঘণ্টার মধ্যে পরজীবীর অন্তঃস্থ গহ্বর অদৃশ্য হয়ে যায় এবং পরজীবীটি ক্ষণপদবিশিষ্ট আকৃতি প্রাপ্ত হয়। এ সময় লোহিত রক্ত কণিকাটি আকারে স্ফীত হয় এবং এর সাইটোপ্লাজমে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দানা দেখা যায়। এ দানার উপস্থিতি দেখে ম্যালেরিয়া রোগ শনাক্ত করা হয়।
৪। অ্যামিবয়েড ট্রফোজয়েট দশার কোষস্থ নিউক্লিয়াস বারবার বিভাজনের মাধ্যমে অপত্য নিউক্লিয়াস সৃষ্টি করে।
৫। সাইজন্ট দশার প্রতিটি নিউক্লিয়াস সাইটোপ্লাজম ও প্লাজমামেমব্রেনসহ বিভক্ত হয়ে মেরোজয়েট-এ পরিণত হয়। মেরোজয়েটগুলো গোলাপের পাপড়ির ন্যায় দুই স্তরে সজ্জিত হয়।
৬। পরবর্তী অবস্থায় লোহিত রক্ত কণিকা ভেঙ্গে যায় এবং মেরোজয়েটগুলো প্লাজমায় বের হয়ে আসে। এ সময় রক্তে প্রচুর পরিমাণে পাইরোজেন জমা হয় এবং দেহে জ্বর আসে।
এভাবেই ম্যালেরিয়া লোহিত রক্তকণিকাকে ধ্বংস করে।