পারুল তার মায়ের কাছে বায়না ধরেছে- এবার ঘটা করে যেন ওর জন্মদিনটা পালন না করা হয়। বরং সেই টাকা দিয়ে বইমেলা থেকে ওকে বেশ কিছু বই কিনে দেয়া হোক। কারণ সে পাঠ্যবইয়ের বাইরের বইগুলোর মধ্যেই তার নতুন জগৎ ও জীবন খুঁজে পায়। এ কথা শুনে ওর ভাই পলাশ অট্টহাসিতে ফেটে পড়ে। সে বলে- আরে বোকা, পাঠ্যবই মুখস্থ কর, কাজে দেবে। পরীক্ষায় ভালো ফল করতে পারবি আর জন্মদিনেও আমার মতো অনেক ধরনের গিফ্ট পাবি।
যথার্থ পুরুর কাজ শিষ্যের আত্মাকে উদ্বোধিত করা এবং তার অন্তর্নিহিত সকল প্রচ্ছন্ন শক্তিকে ব্যক্ত করে তোলা।
আনন্দের স্পর্শেই মানুষের মন-প্রাণ সজীব ও সতেজ হয়ে ওঠে। মনের আনন্দের সেই দাবি রক্ষা করতে না পারলে মানুষের আত্মা বাঁচে না।
সাহিত্য তার রসসিঞ্চন করে মানবমনকে সরস করে তোলে। জাতির আত্মাকে বাঁচিয়ে রাখতে তাই সাহিত্যচর্চার বিকল্প নেই। সাহিত্যচর্চায় অপরিমেয় আনন্দ যা সাহিত্যচর্চা মনকে আনন্দরসে পরিতৃপ্তি দেয়। তাই আনন্দ লাভের জন্য, সজীবতার জন্য মনের এই দাবিকে আমাদের রক্ষা করতেই হবে।
পলাশের মানসিকতা' 'বই পড়া' প্রবন্ধের শিক্ষার ফললাভের দিকটিকে প্রতিফলিত করে।
শিক্ষার উদ্দেশ্য হচ্ছে মানুষের মনুষ্যত্ববোধ জাগিয়ে তোলা। সেই জাগরণ না ঘটলে সেটাকে প্রকৃত শিক্ষা বলা যাবে না। একজন স্বচ্ছন্দচিত্তে ও স্বতঃস্ফূর্তভাবে সেই প্রকৃত শিক্ষা অর্জন করতে পারে।
উদ্দীপকে শিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্য এবং শিক্ষার নগদ বাজারদরের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। শিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্যের প্রতিনিধি পারুল এবং শিক্ষার নগদ বাজারদর পাওয়ার লোভী মানুষের প্রতিনিধি পলাশ। পলাশের মানসিকতায় 'বই পড়া' প্রবন্ধে প্রতিফলিত শিক্ষার ফললাভ বা নগদ বাজারদরের বিষয়টি নির্দেশ করেছে। বেশিরভাগ মানুষই শিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্য অনুধাবন করতে পারে না। উদ্দীপকের পলাশের ক্ষেত্রেও তাই ঘটেছে। সে স্বচ্ছন্দচিত্তে বই পড়ে জ্ঞান অর্জন করার পক্ষে মত না দিয়ে স্কুলের সিলেবাসভুক্ত বই মুখস্থের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে, যা মানুষের প্রকৃত শিক্ষার অন্তরায় হিসেবে কাজ করে। তাই বলা যায় যে, পলাশের মানসিকতা 'বই পড়া' প্রবন্ধের শিক্ষার ফল লাভের দিক তথা নগদ বাজারদরের দিকটিকে প্রতিফলিত করেছে।
উদ্দীপকের পারুলই যেন 'বই পড়া' প্রবন্ধের শিক্ষিত মানুষ-মন্তব্যটি যথার্থ।
শিক্ষা হচ্ছে আনন্দের মধ্যে অর্জিত জ্ঞান, যা মানুষের জীবন ও জগতের কল্যাণ সাধন করে। জোর করে চাপিয়ে মুখস্থ করানো শিক্ষার প্রকৃত পদ্ধতি নয়। তাতে মনের যোগ থাকে না। তাই যথার্থ শিক্ষিত হতে হলে বই পড়ে মনের প্রসারতা বৃদ্ধি করতে হবে।
'বই পড়া' প্রবন্ধে লেখক বই পড়ার উপযোগিতা এবং বই পড়া সম্পর্কে পাঠকের মানসিকতা আলোচনা করেছেন। তিনি পাঠে অনীহার ক্ষেত্রে আমাদের বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থাকে দায়ী করেছেন। লেখক প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থা কীভাবে অর্থ উপার্জন করতে আমাদের অনুপ্রাণিত করে, কীভাবে আমাদের হৃদয়ানুভূতিকে নষ্ট করে সেই বিষয়টি ব্যাখ্যা করেছেন। লেখক আরও বলেছেন, মনের প্রসারতার জন্য বই পড়তে হবে। তার এই মতের সঙ্গে উদ্দীপকের পারুলের মানসিকতার মিল রয়েছে। পারুল তার পাঠ্যবইয়ের বাইরে বই পড়ে প্রকৃত শিক্ষায় শিক্ষিত হতে চায়। কারণ এই বইগুলোর মধ্যে সে নতুন জগৎ ও জীবন খুঁজে পায়।
উদ্দীপকের পারুল তার জন্মদিনের জন্য খরচের টাকায় একুশের বইমেলা থেকে বই কেনার বায়না করে। এতে স্কুলের পাঠ্যবইয়ের বাইরে বই কিনে পড়ার প্রতি তার আগ্রহ প্রকাশ পেয়েছে। 'বই পড়া' প্রবন্ধের লেখকও বাঙালির মনে বই পড়ার আগ্রহ জাগিয়ে তুলতে চেয়েছেন। যাতে তারা প্রকৃত শিক্ষায় শিক্ষিত হতে পারে। এক্ষেত্রে আলোচ্য প্রবন্ধের আলোকে বলা যায় পারুলের চিন্তাচেতনা ও কর্মকান্ড অনুযায়ী সে একজন শিক্ষিত মানুষ।
