| ㅤ | A. Nayan16 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘পারভীন খাগড়াছড়ির দিঘিনালায়…’ সিলেট বোর্ড ২০১৭ – ই, পৌরনীতি ও সুশাসন, পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র (এইচএসসি)

পারভীন খাগড়াছড়ির দিঘিনালায় বাস করে। সে ঢাকা মেডিকেল কলেজে ভর্তি হতে চায়। তাই সে অনলাইনে আবেদন করে। তার বাবা ইউনিয়ন তথ্য কেন্দ্র হতে ইন্টারনেটের মাধ্যমে জাতীয় পরিচয়পত্রের ভুল সংশোধন করে। তারা সবাই এসব সুবিধা পেয়ে খুশি। কিন্তু একটি দুর্ঘটনা ঘটে, তার মা ক্রেডিট কার্ড জালিয়াতির মাধ্যমে কিছু টাকা হারায়।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৪
সকল প্রশ্নের উর্ধ্বে থেকে কোনো কাজ নিয়মনীতি মেনে সুষ্ঠুভাবে সম্পাদন করাকে স্বচ্ছতা বলে।
ই-গভর্নেন্স প্রক্রিয়ায় যখন পারস্পরিক যোগাযোগ বা সেবা কার্যক্রম সরকার ও নাগরিক, সরকার ও তার কর্মকর্তাদের মাঝে, এক রাষ্ট্রের সাথে অন্য রাষ্ট্রের যে যোগাযোগ হয় তাই দ্বিমুখী যোগাযোগ। এ ক্ষেত্রে দুই পক্ষেরই যোগাযোগ করার সুযোগ তৈরি হয়। আবার এ প্রক্রিয়ায় কোনো ব্যক্তি যে কোনো প্রতিষ্ঠানের সাথে ইন্টারনেটে সংলাপে বসতে পারেন। তাদের সমস্যা, অনুরোধ ও মন্তব্য সরকার ও প্রতিষ্ঠানকে জানাতে পারে। দ্বিমুখী যোগাযোগ পদ্ধতির সবচেয়ে ভালো উদাহরণ হলো টেলিফোন, মোবাইল ফোন। কেননা এগুলোর মাধ্যমে দুজন একই সাথে পরস্পরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে।
ই-গভর্নেন্স ব্যবস্থা উদ্দীপকে উল্লিখিত সুবিধাসমূহ নিশ্চিত করে। সরকারি তথ্য ও সেবা ইন্টারনেট এবং ওয়ার্ল্ডওয়াইড ওয়েবের (www) মাধ্যমে জনগণের নিকট পৌঁছানোর ব্যবস্থাই হলো ই-গভর্নেন্স। যা আধুনিক কম্পিউটার ও ইন্টারনেট ব্যবস্থার যুগান্তকারী ফসল। দক্ষতা ও দ্রুততার সাথে নাগরিক সেবা প্রদানে এর ভূমিকা অনন্য। ই-গভর্নেন্সের বহুবিধ সুবিধা রয়েছে। যেমন-
সরকারি অফিসগুলোতে ইলেকট্রনিক মাধ্যম ব্যবহার করে তথ্য ও সেবা প্রদান করার ফলে নাগরিকরা উন্নত সেবা পাচ্ছে। আবার প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে সরকার ও নাগরিকের মধ্যে তথ্য বিনিময়ের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। ফলে সরকারের বিভিন্ন কর্মকান্ডের সাথে জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধি পেয়েছে ও সরকারি কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা এসেছে। এর মাধ্যমে সরকারের জবাবদিহিতা ও দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করাও সম্ভব হচ্ছে। ফলে সরকারের কাজে গতিশীলতা এসেছে।
আবার, প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে সরকার আগের চেয়ে বেশি কাজ দক্ষতার সাথে করতে সক্ষম হচ্ছে। ফলে সরকারের উৎপাদনশীলতা, দক্ষতা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, সমস্যা সমাধানে দ্রুত সাড়া দেওয়ার প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে সরকার ও নাগরিকের মধ্যে সুসম্পর্ক তৈরি হচ্ছে এবং শাসনব্যবস্থায় জনগণের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এড়ানো সম্ভব হচ্ছে। পরিশেষে বলা যায়, ই-গভর্নেন্সের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় কাজে নাগরিককে সম্পৃক্তকরণ, রাষ্ট্রের ব্যয় হ্রাস, সেবার মান উন্নতকরণ, সর্বোপরি সুশাসন প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হচ্ছে।
ই-গভর্নেন্স বাস্তবায়নের জন্য রোহানের দেশে সরকার বহুবিধ পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন বলে আমি মনে করি।
উদ্দীপকে আলোচিত রাষ্ট্রে ই-গভর্নেন্স চালু হওয়ায় নাগরিক সেবাসহ যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালনায় গতি বৃদ্ধি পেয়েছে এবং জটিলতা হ্রাস পেয়েছে। তবে এক্ষেত্রে সরকারকে বহু সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। এ সকল সমস্যা উত্তরণের মাধ্যমে ই-গভর্নেন্স বাস্তবায়নের জন্য সরকারের পাশপাশি বেসরকারি পর্যায়েও বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। ই-গভর্নেন্স বাস্তবায়নে রোহানের দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ঘটাতে হবে। বড় শহরগুলো থেকে শুরু করে গ্রামাঞ্চল পর্যন্ত ই-গভর্নেন্স সেবা পৌঁছে দেওয়ার জন্য তথ্য সেবা কেন্দ্রগুলো উন্নত ও আধুনিক করতে হবে। প্রযুক্তি ও কারিগর দক্ষতাসম্পন্ন জনসংখ্যার বৃদ্ধি করতে হবে। ই-গভর্নেন্স বাস্তবায়নে প্রয়োজন কম্পিউটার ইন্টারনেট সংযোগ ও এর যথাযথ ব্যবহার। গ্রাম ও শহর উভয় অঞ্চলেই নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের মাধ্যমে জনগণকে ই-গভর্নেন্সের সেবা প্রাপ্তির নিশ্চয়তা দিতে হবে। এটি বাস্তবায়নের জন্য সরকারকে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহকে উৎসাহ প্রদান করতে হবে। তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তির অপব্যবহার রোধ ও সাইবার ক্রাইম প্রতিরোধে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তৎপর হতে হবে। সরকারি তথ্য ও সেবাপ্রাপ্তির সুবিধা সকলের জন্য উন্মুক্ত করার লক্ষ্যে ব্যাপক প্রচারণা চালাতে হবে। বিভিন্ন সেমিনার, বক্তৃতা ইত্যাদি বিষয়ে উদ্যোগ গ্রহণ করে জনগণের নিকট ই-গভর্নেন্স সম্পর্ক তথ্য পৌঁছে দিতে হবে। শুধু ই-গভর্নেন্স ব্যবস্থা চালুর মাধ্যমেই ই-গর্ভনেন্স ব্যবস্থার বাস্তবায়ন ঘটে না। এটির বাস্তবায়নের লক্ষ্যে পর্যায়ক্রমে ই-গভর্নেন্স মনিটরিং ব্যবস্থার দিকে যত্নবান হতে হবে। ই-গভর্নেন্স বাস্তবায়নে এটির কার্যক্রমে ইংরেজি ভাষা ব্যবহারের পরিবর্তে নিজ দেশের ভাষায় প্রযুক্তি ব্যবহারের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। সর্বোপরি এ ব্যবস্থাকে সফল করতে হলে ব্যাপক জনসচেতনতা গড়ে তুলতে হবে।
পরিশেষে বলা যায় যে, দেশে ই-গভর্নেন্স ব্যবস্থা বাস্তবায়নের জন্য রোহানের সরকারকে জনগণের মধ্যে তথ্যপ্রযুক্তির জ্ঞান ও শিক্ষার প্রসারের পাশাপাশি উপযুক্ত পদক্ষেপগুলোও গ্রহণ করতে হবে।