| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘পদ্মা যমুনা সুরমা…’ a – পদ্মা, পদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

পদ্মা যমুনা সুরমা মেঘনা
গঙ্গা কর্ণফুলী,
তোমাদের বুকে আমি নিরবধি
গণমানবের তুলি!
কত বিচিত্র জীবনের রং
চারদিকে করে খেলা,
মুগ্ধ মরণ বাঁকে বাঁকে ঘুরে
কাটায় মারণ বেলা!
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ১৭
পদ্মার গতি সুতীব্র।
➤ সংগ্রামী মানুষ পদ্মার দুই তীরে লাঙল চালিয়ে প্রচুর শস্যদানা পেয়েছে।
➤ পদ্মার প্রকৃত রূপ ভয়ংকর ও প্রমত্ত। পদ্মার প্রচন্ড ঢেউয়ে দুই পাড় প্লাবিত হওয়ার ফলে পলি পড়ে পান্ডুর হয়ে যায়। তবুও পদ্মাপাড়ের সংগ্রামী মানুষ পদ্মার দুই পাড়ের ভরসায়ই বেঁচে থাকে। তারা পদ্মার সঙ্গে সংগ্রাম করে দুই পাড়ে ফসল ফলিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে। পদ্মার দুই পাড়ের ফসলই তাদের বেঁচে থাকার অন্যতম অবলম্বন। তাই তারা পদ্মাপাড়ে লাঙল চালিয়ে কঠিন শ্রমের বিনিময়ে প্রচুর শস্যদানা পায়।
সারকথা: জীবনের তাগিদে সংগ্রামী মানুষ পদ্মার । দুই পাড়ে লাঙল চালিয়ে প্রচুর শস্যদানা ফলায়।
➤ উদ্দীপকটি 'পদ্মা' কবিতার সঙ্গে এই দিক দিয়ে সাদৃশ্যপূর্ণ যে, নদীর সঙ্গে মানুষের জীবনও জড়িয়ে থাকে।
➤ নদী বাংলার মানুষের জীবন-জীবিকার অন্যতম উৎস। নদীকে কেন্দ্র করে অনেকেই জীবনের স্বপ্ন সাজায়। অথচ নদী আশীর্বাদের পাশাপাশি মানুষের জন্য অনেক সময় অভিশাপের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
➤ উদ্দীপকে এই বাংলায় জীবনরূপ যেসব নদী নিরন্তর বয়ে চলেছে, গণশিল্পীর তুলি হাতে কবি সেই বিচিত্র জীবনেরই রূপকার। তবে কবি মনে করেন বহমান জীবন এখানে বাধাহীন নয়। বহমান নদীর বাঁকে বাঁকে পাতা রয়েছে মৃত্যুর ফাঁদ। 'পদ্মা' কবিতায়ও কবি পদ্মার এই রূপবৈশিষ্ট্য তুলে ধরেছেন। কবিতায় তিনি বলেছেন নদী যেমন মানুষের জীবিকার উৎস তেমনই কষ্টেরও কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বর্ষায় পদ্মার রূপ হয় অন্যরকম। তার গতিস্রোতের সামনে যা কিছু পড়ে তা ভাসিয়ে নিয়ে যায়। প্রচন্ড আক্রোশে আর ভয়াবহ স্রোত শত শত নর-নারীর সাজানো বাগান, ঘরবাড়ি, অসংখ্য জীবন ভাসিয়ে নিয়ে যায়। সর্বোপরি বলা যায় যে, মানবজীবনের সঙ্গে নদী গভীরভাবে জড়িয়ে থাকে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকটি 'পদ্মা' কবিতার এই নদীর সঙ্গে মানুষের জীবন জড়িয়ে থাকার বিষয়টি সাদৃশ্যপূর্ণ।
সারকথা: নদীর সঙ্গে মানুষের জীবন ও জীবিকা জড়িয়ে থাকে। জীবিকার এ জন্য নদীতে গিয়ে মানুষ যেমন জীবিকা আহরণ করে বেঁচে থাকে তেমনই বন্যা, স্রোত ইত্যাদি কারণে অনেক সময় মৃত্যুর মুখে পতিত হয়। উদ্দীপক ও আলোচ্য কবিতায় এ বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে।
➤ "উদ্দীপকের কবিতাংশে 'পদ্মা' কবিতার আংশিক ভাবের প্রতিফলন ঘটেছে মাত্র।"- মন্তব্যটি যথার্থ।
➤ বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ। নদীর সঙ্গে এদেশের মানুষের নিবিড় সম্পর্ক। নদী এদেশের মানুষের বেঁচে থাকার অবলম্বন। এদেশের মানুষের জীবন ও জীবিকা ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে বিভিন্ন নদ-নদীর সঙ্গে।
➤ উদ্দীপকের কবিতাংশে কবি নদীমাতৃক বাংলাদেশের বন্দনা করেছেন। নদীর সঙ্গে এদেশের মানুষের জীবন যে বিচিত্রপূর্ণভাবে জড়িয়ে আছে তার কথা তুলে ধরেছেন। কবির মতে এই নদীকেন্দ্রিক মানুষের জীবন বাধাহীন নয়। নদীর প্রতিটি বাঁকে বাঁকে মৃত্যুর ফাঁদ পাতা রয়েছে। 'পদ্মা' কবিতায়ও বর্ষায় মানুষের জীবন ও জীবিকার ক্ষতির বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে। তবে এই বিষয়টি ছাড়াও পদ্মার সৌন্দর্য, পদ্মার হিংস্রতা, পদ্মার দান এবং বাংলার মানুষের জীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে পদ্মার সম্পর্কের বিষয়গুলো উঠে এসেছে। উদ্দীপকে এসব বিষয় অনুপস্থিত।
➤ ' পদ্মা' কবিতায় পদ্মার বিচিত্র রূপ ও বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করেছেন কবি। কবি একদিকে যেমন তুলে ধরেছেন পদ্মার হিংস্রতা, তেমনই অন্যদিকে তুলে ধরেছেন পদ্মার গতিশীলতা, মানুষের সঙ্গে পদ্মার সম্পর্ক, পদ্মার দান ও কৃষকের অবস্থা। অন্যদিকে উদ্দীপকে শুধু নদীর হিংস্র রূপের প্রকাশই ঘটেছে। তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
সারকথা: উদ্দীপক ও 'পদ্মা' কবিতায় নদীর হিংস্রতার দিকটি উঠে এলেও আলোচ্য কবিতার অনেক বিষয় উদ্দীপকের অনুপস্থিত। তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।