A. Nayan
A. Nayan
28 May 2026 (4 months ago)
Dhaka, Narayanganj

সৃজনশীলঃ ‘পেশা তার দর্জিগিরি…’ ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৪ – বাংলা ১ম পত্র (এসএসসি)


Listen to this article
📘 ক্লাস: 9-10🎓 গ্রুপ: general📚 বই: বাংলা📖 ৫ম অধ্যায় : বই পড়া - প্রমথ চৌধুরী🔢 সৃজনশীল নং: ১৩🏫 বোর্ড: ময়মনসিংহ বোর্ড📅 সাল: ২০২৪⭐ গুরুত্ব: ★★★★★

💡 সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর

পেশা তার দর্জিগিরি কিন্তু নেশা তার বই পড়া। বাল্যকালে পিতা মারা যাওয়ায় পঞ্চম শ্রেণির পর আর পড়তে পারেনি কাশেম মিয়া। তবে বই পড়ার নেশা থেকেই বাড়ির পাশে প্রায় দুই হাজার বই নিয়ে গড়ে তুলেছে ‘স্বপ্ন গড়ি লাইব্রেরি’। গ্রামের ছোট-বড় সবাই সেখানে জ্ঞানচর্চা করে। শিক্ষার্থীরা পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি অন্যান্য বইও পড়ে। কিন্তু ব্যবসায়ী মামুন মোল্যা তার সন্তানকে ঐ লাইব্রেরিতে যেতে নিষেধ করে বলেন, “তোমার এত জ্ঞান অর্জনের দরকার নেই, বাসায় প্রাইভেট শিক্ষক রেখেছি। তাঁর কাছে পড়ে (এ+) অর্জন করো।”

উত্তর:

যে কথা জজে শোনে না, তার যে কোনো মূল্য নেই; এটাই হচ্ছে পেশাদারদের মহাভ্রান্তি।

উত্তর:

সাহিত্যচর্চার সুফল হাতে হাতে পাওয়া যায় না বলে এর সুফল সম্বন্ধে অনেকেই সন্দিহান। 

আমাদের শিক্ষিত সমাজের লোলুপ দৃষ্টি আজ অর্থের ওপরেই পড়ে রয়েছে। তাই তারা সাহিত্যসাধনা না করে অর্থসাধনা করে। কেননা সাহিত্যের কোনো নগদ বাজারদর নেই। এর ফল হাতে হাতে পাওয়া যায় না এবং তা স্বচক্ষে প্রত্যক্ষ করার সুযোগ নেই। ফলে সাহিত্যচর্চার সুফল সম্বন্ধে অনেকেই সন্দিহান।

উত্তর:

উদ্দীপকের মামুন মোল্যার মনোভাব 'বই পড়া' প্রবন্ধে উল্লিখিত প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থায় শিক্ষিত হওয়ার দিকটিকে নির্দেশ করে।
'বই পড়া' প্রবন্ধে লেখক আমাদের স্কুল-কলেজের প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থার সমালোচনা করে বলেছেন যে, পরীক্ষায় পাশের জন্য জোর করে নোট মুখস্থ করানোর শিক্ষা প্রকৃত শিক্ষা নয়। এখানে শিক্ষার্থীদের পাঠ্যপুস্তকের বাইরে বই পড়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হয়। শিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্য দূরে রেখে অর্থ উপার্জনকে শিক্ষার একমাত্র উদ্দেশ্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। তিনি বলেন, বই পড়ে জ্ঞান অর্জন করে সুশিক্ষিত হওয়াই শিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্য। আর সুশিক্ষিত লোকমাত্রই স্বশিক্ষিত।

উদ্দীপকে মামুন মোল্যা তার ছেলেকে লাইব্রেরিতে যেতে নিষেধ করেন। সার্টিফিকেট লাভ করাটাই তাঁর কাছে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। জ্ঞান অর্জনের প্রতি তার কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই। এ ধরনের মানসিকতা প্রসঙ্গে 'বই পড়া' প্রবন্ধের লেখক পাশ করা ও শিক্ষিত হওয়া যে এক বস্তু নয় সেই বিষয়টি উত্থাপন করেছেন। অনেকেরই ধারণা, দেশে যত ছেলে পাশ করছে ততই শিক্ষার বিস্তার হচ্ছে। অথচ শিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্য পাশ করে সার্টিফিকেট অর্জন নয়। শিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্য জ্ঞান অর্জন করা। আর বেশি বেশি বই পড়ার মাধ্যমে এই উদ্দেশ্য বাস্তবায়িত হতে পারে। তাই উদ্দীপকের মামুন মোল্যার মনোভাব 'বই পড়া' প্রবন্ধের তথাকথিত শিক্ষিত হওয়ার দিকটিকে নির্দেশ করে।

উত্তর:

'বই পড়া' প্রবন্ধে লেখকের লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠার গুরুত্বের সঙ্গে কাশেম মিয়ার লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠার বিষয়টি একসূত্রে গাঁথা বলে "কাশেম মিয়ার উদ্যোগের মধ্যেই প্রমথ চৌধুরীর আকাঙ্ক্ষার যথার্থ প্রতিফলন ঘটেছে" মন্তব্যটি যৌক্তিক।

'বই পড়া' প্রবন্ধের লেখক প্রমথ চৌধুরী বই পড়া ও সাহিত্যচর্চার জন্য এবং নিজের ইচ্ছামতো বই পড়ে সুশিক্ষিত ও স্বশিক্ষিত হওয়ার জন্য লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠার কথা বলেছেন। আমাদের স্কুল-কলেজের প্রচলিত শিক্ষা পদ্ধতি শিক্ষার্থীর মানসিক বিকাশের অনুকূল নয় বরং উলটো। এখানে ছেলেদের বিদ্যে গেলানো হয়। ফলে তারা মানসিকভাবে জীর্ণ হয়ে পড়ে। এ অবস্থা থেকে লাইব্রেরি তাদেরকে মুক্তি দিতে পারে। লাইব্রেরিতে প্রত্যেকে নিজ নিজ শক্তি ও রুচি অনুসারে মনকে নিজের চেষ্টায় আত্মার রাজ্যে জ্ঞানের পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে। এ কারণে লেখক লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। তাঁর এই প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটেছে উদ্দীপকের কাশেম মিয়ার মধ্যে।

উদ্দীপকের কাশেম মিয়া নিজ উদ্যোগে একটি লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠা করে। সেখানে সব ধরনের বইয়ের সমাহার আছে। তার লাইব্রেরিতে গিয়ে ছোট-বড় সবাই জ্ঞানচর্চা করে। এভাবে সবার মধ্যে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে ওঠে। এমন আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন 'বই 'পড়া' প্রবন্ধেও দেখতে পাওয়া যায়।

'বই পড়া' প্রবন্ধে লেখক বই পড়ার প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার ঘাটতি দূর করার জন্য ব্যাপকভাবে বই পড়তে বলেছেন। তিনি বই পড়ার অভ্যাস বাড়ানোর জন্য লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছেন। কেননা লাইব্রেরিতে, গিয়ে স্বেচ্ছায় নিজের পছন্দ অনুযায়ী বই পড়ে শিক্ষিত হওয়া যায়। লেখকের এই আকাঙ্ক্ষার যথার্থ প্রতিফলন ঘটেছে উদ্দীপকের কাশেম মিয়ার লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগের মধ্যে। তাই প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

11 Views
No Comments
Share
0
No comments to “সৃজনশীলঃ ‘পেশা তার দর্জিগিরি…’ ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৪ – বাংলা ১ম পত্র (এসএসসি)”