| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘পিরোজপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের…’ a – সাহিত্যে খেলা, গদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

পিরোজপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে প্রতিদিন বিকেলে ছেলেরা খেলাধুলা করে। এই গ্রামে ধনীদরিদ্র সকলের সন্তান এই মাঠে খেলা করে আনন্দ উপভোগ করে। তাদের মধ্যে মাঝে মাঝে সামান্য একটু ঝগড়া হলেও পরক্ষণেই তা মিটে যায়, কারণ খেলাধুলার যে আনন্দ তা ঝগড়ার বিষাদকে নিঃশেষ করে দেয়। একই গ্রামের শিক্ষিত যুবক করিম শেখ বিকেল বেলায় অবসর সময়ে ছেলেদের খেলা দেখে প্রায়ই আনন্দ উপভোগ করে থাকেন।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৬
সমাজের মনোরঞ্জন করতে গেলে সাহিত্য স্বধর্মচ্যুত হয়ে পড়ে।
➤ সাহিত্য ও শিক্ষার রীতি ভিন্ন বলে প্রমথ চৌধুরী সাহিত্য ও শিক্ষাকে ভিন্ন ভিন্নভাবে দেখিয়েছেন।
➤ প্রমথ চৌধুরীর মতে, শিক্ষা মানুষ অনিচ্ছা সত্ত্বেও গলাধঃকরণ করে থাকে, কিন্তু সাহিত্যের রস মানুষ স্বেচ্ছায় পান করে। লেখকের মতে, সাহিত্যের উদ্দেশ্য অনাবিল আনন্দদান করা, শিক্ষা দেওয়া নয়। বিশ্বের খবরাখবর পরিবেশন করে মানুষের জ্ঞানের পরিধি বৃদ্ধির কাজটি শিক্ষার মাধ্যমে হয়ে থাকে। শিক্ষার সঙ্গে জ্ঞানচর্চার সম্পর্ক বিদ্যমান। পক্ষান্তরে সাহিত্যের উদ্দেশ্য মানুষের মনকে জাগানো। অন্যের মনের অভাব পূরণ করার উদ্দেশ্যেই শিক্ষার জন্ম, আর সাহিত্যের জন্ম মানবমনের পরিপূর্ণতা থেকে।
সারকথা: শিক্ষার সঙ্গে জ্ঞানচর্চার সম্পর্ক বিদ্যমান। পক্ষান্তরে সাহিত্যের উদ্দেশ্য মানুষের মনকে জাগানো।
➤ উদ্দীপকের মাঠের খেলার মতো শিল্পরাজ্যের খেলায় সবার অংশগ্রহণ করার সুযোগ রয়েছে- এই দিকটি 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
➤ মানুষ কোনোরূপ জাগতিক লাভের আশায় খেলাধুলা করে না। খেলাধুলার ক্ষেত্রে মানুষ সব ভেদাভেদ ভুলে একত্রে অংশগ্রহণ করে। সাহিত্যের বেলায়ও ঠিক তেমনই। এখানেও মূল উদ্দেশ্য আনন্দলাভ হওয়ায় সবাই এতে অংশগ্রহণ করতে পারে।
➤ উদ্দীপকে মাঠের খেলার মতো প্রবন্ধের শিল্পরাজ্যের খেলায় ধনী-দরিদ্র সবারই অংশগ্রহণ করার সুযোগ রয়েছে। পৃথিবীতে খেলার মাঠে ব্রাহ্মণ-শূদ্রের যেমন প্রভেদ নেই, সাহিত্যের রাজ্যও তেমনই। রাজার ছেলের সঙ্গে দরিদ্রের ছেলের খেলায় যোগ দেওয়ার অধিকার যেমন সর্বজনস্বীকৃত, সাহিত্যেও তাই। মূলত উদ্দীপকের খেলার জগতে প্রবেশ করার সঙ্গে প্রবন্ধের সাহিত্যের জগতে সবার প্রবেশ করার দিকটাই সাদৃশ্যপূর্ণ।
সারকথা: পৃথিবীতে খেলার মাঠে ব্রাহ্মণ-শূদ্রের যেমন প্রভেদ নেই, সাহিত্যের রাজ্যেও তেমনই। খেলায় অধিকার যেমন সর্বজনস্বীকৃত, সাহিত্যেও তাই।
➤ "উদ্দীপকের করিম শেখের খেলা দেখা এবং 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধে সাহিত্য রচনা উভয় ক্ষেত্রেই আনন্দই প্রধান।" উক্তিটি যথার্থ।
➤ খেলা দেখা মানবজীবনে কোনো গুরুত্বপূর্ণ অর্থ বহন করে না। এ দেখার পেছনে একটিই কারণ বিদ্যমান, তা হলো আনন্দলাভ। এ রকম নিছক আনন্দলাভের জন্য মানুষ আরেকটি কাজ করে, তা হলো সাহিত্যপাঠ।
➤ উদ্দীপকের করিম শেখ যেমন খেলা দেখে আনন্দ উপভোগ করেন তেমনই সাহিত্য পাঠ করে পাঠক অনাবিল আনন্দ উপভোগ করে থাকেন। প্রমথ চৌধুরী সাহিত্যকে খেলার সঙ্গে তুলনা করেছেন। সাহিত্য এক জটিল শিল্পকর্ম, কিন্তু তা আনন্দদায়ক। এর স্রষ্টারা আনন্দ ভুবনে কল্পনারথের অভিযাত্রী। সে কারণেই সাহিত্যকে খেলা বলা হয়েছে। লেখকের মতে, সাহিত্যের উদ্দেশ্য অনাবিল আনন্দ দান করা, শিক্ষা দেওয়া নয়। খেলার উদ্দেশ্যও তাই। এ কারণে উদ্দীপকের করিম শেখ খেলা দেখে এবং সাহিত্য পাঠ করে অনাবিল আনন্দ উপভোগ করেন।
➤ লেখক শিল্পরাজ্যে কোনো রকম কার্যোদ্ধার বা উদ্দেশ্য সাধনের চেয়ে খেলা করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন। খেলার মাধ্যমে যেমন উদ্দীপকের করিম শেখ নিছক আনন্দ উপভোগ করে থাকেন, তেমনই সাহিত্যের মাধ্যমেও পাঠক অনাবিল আনন্দ উপভোগ করে থাকেন। এদিক থেকে মন্তব্যটি যথার্থ।
সারকথা: খেলাধুলা যেমন মানুষকে আনন্দদান করে তেমনই সাহিত্যও মানুষকে অনাবিল আনন্দদান করে। তাই আলোচ্য প্রবন্ধে সাহিত্যকে প্রমথ চৌধুরী খেলাধুলার সঙ্গে তুলনা করেছেন।