| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘পলাশপুর গ্রামের মৌলভি…’ সিলেট সরকারি কলেজ ২০২৫ – লালসালু, নাটক ও উপন্যাস, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

পলাশপুর গ্রামের মৌলভি সাহেব জোয়ারদার মিয়া সকলের প্রিয়পাত্র। শুধু ধর্মীয় ব্যাপারে নয়, সবখানেই তার পদচারণা। অসুখ-বিসুখে ঝাড়ফুঁক, পানিপড়া এসবের পরিবর্তে তিনি সবাইকে অভিজ্ঞ ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে পরামর্শ দেন।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ২
• বাহে মুলুক উত্তরবঙ্গ এলাকায়।
• "শস্যের চেয়ে টুপি বেশি, ধর্মের আগাছা বেশি।”- উক্তিটিতে বোঝানো হয়েছে যে, খাদ্য না থাকলেও লোক দেখানো ধর্মচর্চায় কেউ কার্পণ্য করে না।
• 'লালসালু' উপন্যাসে লেখক যে এলাকার বর্ণনা দিয়েছেন সেখানকার মানুষ প্রচণ্ড অভাবী। এই অভাবের মধ্যেও তারা ধর্মচর্চা করে। ঘরে খাদ্য না থাকলেও সেই অঞ্চলের মানুষের মধ্যেও ধর্মচর্চায় কোনো কার্পণ্য নেই। তাদের মধ্যে সবাই যে খোদার ভয়ে ধর্মচর্চা করে ব্যাপারটা এমন নয়। কেউ কেউ ধর্মের নামে প্রতারণা ও ভন্ডামি করে। এই প্রতারকরাই ধর্মের আগাছা। এই দিকটি বোঝাতেই লেখক প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেছেন।
• না, মজিদ কোনো দিক দিয়েই জোয়ারদার মিয়ার সমকক্ষ হতে পারেনি।
• ব্যক্তিত্বশীল, ন্যায়-নিষ্ঠাসম্পন্ন মানুষ মাত্রই আত্মসম্মান সচেতন। তিনি মানুষকে সৎ পরামর্শ প্রদান করেন এবং মানব-কল্যাণে কাজ করেন। ক্ষুদ্র স্বার্থের জন্য কখনই মানুষের ক্ষতি করেন না।
• উদ্দীপকের জোয়ারদার মিয়া একজন আদর্শবান সৎ মৌলভি। তিনি সকলের প্রিয়পাত্র। শুধু ধর্মীয় বিষয় নয়, সকল বিষয়ে তিনি জ্ঞান রাখেন। অসুখ-বিসুখে ঝাড়ফুঁক, পানিপড়া এসবের পরিবর্তে তিনি সবাইকে অভিজ্ঞ ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে বলেন। 'লালসালু' উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র মজিদের মধ্যে মাজার ব্যাবসাসহ সর্বপ্রকারে মানুষের কল্যাণের নামে ক্ষতি করে এবং অসৎ পরামর্শ প্রদান করে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের জোয়ারদার সাহেবের সাথে 'লালসালু' উপন্যাসের মজিদের পার্থক্য বিদ্যমান।
• 'লালসালু' উপন্যাসের মজিদ যদি উদ্দীপকের জোয়ারদার মিয়ার মতো হতো তবে ধর্মের নামে ভণ্ডামি লোপ পেত। মন্তব্যটি যথার্থ।
• সমাজের প্রগতিশীল মানুষেরা সামাজিক অসংগতি নিয়ে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে লেখালেখি করেন। সামাজিক পরিবর্তনের ক্ষেত্রে তাদের এমন সচেতনতা সৃষ্টির উদ্যোগ বিশেষ গুরুত্ব পেয়ে থাকে।
• উদ্দীপকের জোয়ারদার মিয়া একজন সৎ ও আদর্শবান ব্যক্তি। তার মধ্যে ধর্মকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার কোনো কুমতলব আমরা দেখি না। তিনি চাইলেই তা করতে পারতেন। কারণ মসজিদের ইমাম হওয়ার সুবাদে তিনি সকলের প্রিয়পাত্র। অথচ গ্রামের লোকজন অসুখ-বিসুখে পড়লে তিনি ঝাড়ফুঁক, পানিপড়া এসবের পরিবর্তে তাদের অভিজ্ঞ ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে পরামর্শ দেন। 'লালসালু' উপন্যাসের মজিদ যদি জোয়ারদার সাহেবের মতো আদর্শবান মৌলভি হতো তাহলে তার হাতে গ্রামের সহজ-সরল মানুষজন প্রতারিত হতো না।
• 'লালসালু' উপন্যাসের বিষয় ও ঘটনায় রয়েছে যুগ যুগ ধরে শেকড় গাড়া কুসংস্কার, অন্ধবিশ্বাস ও ভীতির সঙ্গে জীবনাকাঙ্ক্ষার দ্বন্দ্ব। এই দ্বন্দ্ব সৃষ্টিকারী মজিদ। সে মাজার প্রতিষ্ঠা করে, মাজারকে কেন্দ্র করে ধর্মব্যাবসা করে, মানুষকে ঠকিয়ে নিজের অবস্থার উন্নতি করে। মজিদ যদি উদ্দীপকের জোয়ারদার মিয়ার মতো সৎ ও আদর্শবান ব্যক্তি হতো তাহলে এসব কিছুই হতো না। তাই বলা যায় যে, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।