| ㅤ | A. Nayan12 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘পলিস্যাকারাইডের একটি প্রাণীদেহের…’ দিনাজপুর বোর্ড ২০১৯ – কোষ রসায়ন, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ১ম পত্র (এইচএসসি)

পলিস্যাকারাইডের একটি প্রাণীদেহের যকৃত ও পেশিকোষে জমা থাকে। যার গাঠনিক একক হলো
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৩
শৈবাল ও ছত্রাকের সহঅবস্থানের ফলে সম্পূর্ণ পৃথক ধরনের যে উদ্ভিদের সৃষ্টি হয় তা হলো লাইকেন।
কোনো জীবের জীবনচক্রে ডিপ্লয়েড (2n) স্পোরোফাইটিক জনু ও হ্যাপ্লয়েড (n) গ্যামিটোফাইটিক জনুর পর্যায়ক্রমিক আবর্তনকে জনুক্রম বলে। অর্থাৎ, জীবনচক্রে এক জনুর সাথে অপর জনুর অনুক্রমই জনুক্রম। Pteris উদ্ভিদে হেটারোমরফিক জনুক্রম দেখা যায়।
উদ্দীপকে উল্লিখিত পলিস্যাকারাইডটি হলো গ্লাইকোজেন যা প্রাণিদেহের যকৃত ও পেশিকোষে জমা থাকে। গ্লাইকোজেনের গাঠনিক একক হলো ' -D গ্লুকোজ।
গ্লুকোজের ১নং কার্বন এবং ৫নং কার্বন কাছাকাছি এলে এদের মধ্যে একটি অক্সিজেন সেতু (-O-) তৈরি হয়। একই সাথে ১নং কার্বনে একটি -OH গ্রুপ সৃষ্টি হয়। এ-OH গ্রুপটি ১নং কার্বনের ৫ অথবা B অবস্থানে থাকতে পারে। -OH গ্রুপের এ এবং ẞ অবস্থানের কারণে গ্লুকোজের ভৌত, রাসায়নিক এবং জৈবিক বৈশিষ্ট্যের পরিবর্তন ঘটে। যেমন ৫ গ্লুকোজ স্টার্চ ও গ্লাইকোজেন গঠন করলেও ৪ গ্লুকোজ সেলুলোজ গঠন করে।
চিত্র: -D- গ্লুকোজের রিং স্ট্রাকচার
আবার, গ্লুকোজের ৫নং কার্বন হলো দূরবর্তী 'অপ্রতিসম' কার্বন। এই ৫নং কার্বনে সংযুক্ত -OH মূলক ডান দিকে থাকলে তাকে বলা হয় D গ্লুকোজ। ৫নং কার্বনে সংযুক্ত -OH মূলক বাম দিকে থাকলে তাকে বলা হয় L গ্লুকোজ।
-D গ্লুকোজে ১ নং কার্বনের -OH গ্রুপটি অবস্থানে এবং ৫নং কার্বনের -OH গ্রুপটি ডান দিকে থাকে বলে এরূপ নামকরণ করা হয়েছে।
উদ্দীপকের পলিস্যাকারাইডটি হলো গ্লাইকোজেন এবং উদ্ভিদদেহে সঞ্চিত পলিস্যাকারাইড হলো স্টার্চ। গ্লাইকোজেন ও স্টার্চের মধ্যে বহু মিল-অমিল রয়েছে।
গ্লাইকোজেন ও স্টার্চ উভয়ই কার্বোহাইড্রেট যৌগ। প্লাইকোজেন ও স্টার্চ উভয়ই জীবদেহে সঞ্চিত খাদ্যরূপে জমা (প্রাণিদেহে গ্লাইকোজেন ও উদ্ভিদদেহে স্টার্চ) থাকে এবং শ্বসনের সময় প্রয়োজনীয় শক্তির উৎস হিসেবে ব্যায়িত হয়। গ্লাইকোজেন ও স্টার্চ উভয় যৌগই অসংখ্য গ্লুকোজ অণুর সমন্বয়ে গঠিত। উভয়ই সাদা পাউডার জাতীয় জৈব-রাসায়নিক পদার্থ।
গ্লাইকোজেন 'ও স্টার্চের মধ্যে বেশ কিছু অমিল রয়েছে। গ্লাইকোজেন প্রাণিদেহের সঞ্চিত খাদ্য হিসেবে যকৃত ও মাংসপেশিতে পাওয়া যায়; অপরদিকে স্টার্চ উদ্ভিদদেহের সঞ্চিত খাদ্য হিসেবে ধান, গম, আলু, গম বীজ ইত্যাদিতে পাওয়া যায়। গ্লাইকোজেন অ্যামাইলোপেকটিনের মতো শাখান্বিত শৃঙ্খলযুক্ত; অন্যদিকে অ্যামাইলোপেকটিন ও অ্যামাইলেজ এ দুটি অংশ নিয়ে স্টার্চ গঠিত। গ্লাইকোজেন ঠান্ডা পানিতে দ্রবণীয় কিন্তু স্টার্চ গরম পানিতে দ্রবণীয়। গ্লাইকোজেন আয়োডিনের সংস্পর্শে লালচে বেগুনী বর্ণ ধারণ করে আর স্টার্চ আয়োডিনের সংস্পর্শে নীল বর্ণ ধারণ করে। গ্লাইকোজেন অধিক শাখা-প্রশাখাযুক্ত হলেও স্টার্চ কম শাখা- প্রশাখাযুক্ত হয়।
উপরের আলোচনা থেকে আমরা বুঝতে পারি যে, গ্লাইকোজেন ও স্টার্চের মধ্যে অনেক মিল ও অমিল রয়েছে।