পরপর তিনটি কন্যা সন্তান জন্মদানের জন্য সুফিয়াকে তার স্বামী তালাক দিলে সে একটি গার্মেন্টসে শ্রমিকের চাকুরী নেয়। একদিন তার পার্শ্ববর্তী একটি গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিতে অগ্নিকাণ্ডের ফলে কয়েকজনের শরীর এমনভাবে পুড়ে গিয়েছিল যে তাদের শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছিল না। পরবর্তীতে একটি বিশেষ টেস্টের মাধ্যমে শনাক্ত করে তাদেরকে নিকট আত্মীয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
জিন হলো জীবের সকল দৃশ্য ও অদৃশ্যমান লক্ষণ বা বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণকারী একক।
প্রাকৃতিক নির্বাচন প্রজাতির ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কারণ এটি পরিবেশের সাথে সবচেয়ে উপযোগী বৈশিষ্ট্যধারী জীবগুলোকে টিকে থাকতে এবং বংশবৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। যেসব জীব পরিবেশের সাথে মানিয়ে নিতে পারে (যেমন- খাদ্য সংগ্রহ, শিকারি থেকে বাঁচা, আবহাওয়া সহ্য করা) তারা বেঁচে থাকে ও অধিক সন্তান উৎপন্ন করে। আবার যেসব বৈশিষ্ট্যগুলো জীবটিকে টিকে থাকতে সাহায্য করে না। তারা বেঁচে থাকে না, বা কম সন্তান উৎপন্ন করে। ফলে বৈশিষ্ট্যগুলো ধীরে ধীরে প্রজাতি থেকে হারিয়ে যায়। প্রাকৃতিক নির্বাচন পরিবেশের পরিবর্তনের সঙ্গে জীবের অভিযোজন ঘটায়, ফলে একটি নির্দিষ্ট পরিবেশে একটি প্রজাতির সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গিয়ে অন্য প্রজাতিকে ধ্বংস করে না।
এভাবেই প্রাকৃতিক নির্বাচন প্রজাতির সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করে।
উদ্দীপক অনুসারে আগুনে পোড়া রোগীদের শনাক্ত করতে যে বিশেষ টেস্টটি করা হয়েছিলো তা হলো DNA টেস্ট। নিচে DNA টেস্ট করার পদ্ধতিটি বর্ণনা করা হলো-
DNA টেস্ট করার জন্য প্রথমে কারখানার দুর্ঘটনাস্থলে প্রাপ্ত মৃত ব্যক্তির কাছ থেকে প্রাপ্ত জৈবিক নমুনা যেমন- মৃত ব্যক্তির হাড়, দাঁত, চুল, রক্ত, লালা ইত্যাদি এর DNA নকশা সংগ্রহ করা হয়। অতঃপর মৃত ব্যক্তির নিকট আত্মীয় তথা পিতামাতা, ভাই-বোন-এর কাছ থেকে নেওয়া DNA আলাদা করে নিতে হয়। পরে একাধিক সীমাবদ্ধ এনজাইম দিয়ে কেটে ছোট ছোট টুকরা করা হয়। এক বিশেষ পদ্ধতিতে ইলেকট্রোফোরেসিস এগারোজ বা পলি এক্রিলামাইড জেল এ DNA টুকরাগুলো তাদের দৈর্ঘ্য অনুসারে বিভিন্ন ব্যান্ড আকারে আলাদা করা হয়। এক ধরনের বিশেষ নাইট্রোসেলুলোজ কাগজে রেডিও অ্যাকটিভ আইসোটোপ DNA প্রোবের সাথে হাইব্রিডাইজ করে এক্স-রে ফিল্মের উপর রেখে অটোরেডিওগ্রাফ পদ্ধতিতে দৃশ্যমান ব্যান্ডের সারিগুলো নির্ণয় করা হয়। মৃতদেহ থেকে প্রাপ্ত নমুনার সাথে নিকট আত্মীয়ের তথা পিতামাতা, ভাইবোন-এর নমুনার সাথে মিল ও অমিল চিহ্নিত করে তুলনা করা হয়। এ পদ্ধতিকে ফিঙ্গার প্রিন্টিং বা DNA টেস্ট বলা হয়। বর্তমানে পলিমারেজ চেইন বিক্রিয়া বা পিসিআর পদ্ধতিতে আরও নিপুণভাবে অল্প নমুনা ব্যবহার করে নির্ভুলভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে।
পরিশেষে বলা যায়, কারখানার দুর্ঘটনায় মৃতদেহ শনাক্তকরণে DNA টেস্ট করা হয়।
উদ্দীপক অনুসারে সুফিয়ার স্বামী পরপর তিনটি কন্যা সন্তান জন্মদানের জন্য সুফিয়াকে তালাক দিয়েছিল। যা সুফিয়ার স্বামীর করা যৌক্তিক হয়নি। কারণ কন্যা সন্তান জন্মদানের জন্য সুফিয়া দায়ী নয় বরং তার স্বামী দায়ী। নিচে উত্তরের সপক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করা হলো-
জীবের লিঙ্গ নির্ধারণকারী ক্রোমোজোমকে সেক্স ক্রোমোজোম বলে। সেক্স ক্রোমোজোম দুটি X এবং Y নামে পরিচিত। স্ত্রীলোকের ডিপ্লয়েড কোষে দুটি সেক্স ক্রোমোজোমই X ক্রোমোজোম অর্থাৎ XX। কিন্তু পুরুষদের ক্ষেত্রে দুটির মধ্যে একটি X এবং অপরটি Y ক্রোমোজোম অর্থাৎ XY। X এবং Y উভয় ধরনের সেক্স ক্রোমোজোমই আকৃতিতে লম্বা এবং রডের মতো তবে Y ক্রোমোজোম X ক্রোমোজোমের তুলনায় কিছুটা ছোট। স্ত্রীলোকদের ডিম্বাশয়ে ডিম্বাণু সৃষ্টির সময় যখন মিয়োসিস বিভাজন ঘটে তখন প্রতিটি ডিম্বাণু অন্যান্য ক্রোমোজোমের সাথে একটি X ক্রোমোজোম লাভ করে। অপরপক্ষে পুরুষে শুক্রাণু সৃষ্টির সময় অর্ধেক সংখ্যক শুক্রাণু একটি করে X এবং অর্ধেক সংখ্যক শুক্রাণু একটি করে Y ক্রোমোজোম লাভকরে। ডিম্বাণু পুরুষের X বা Y ক্রোমোজোমবাহী শুক্রাণু দ্বারা নিষিক্ত হতে পারে। ফলে জাইগোটটি দুটি X অথবা একটি X এবং একটি Y ক্রোমোজোম বিশিষ্ট হতে পারে। দুটি X নিয়ে যে শিশু জন্মাবে সে হবে একটি মেয়ে অর্থাৎ XX আর যে শিশু একটি X এবং একটি Y অর্থাৎ XY নিয়ে জন্মাবে সে হবে একটি ছেলে।
মানুষের লিঙ্গ নির্ধারণে, অর্থাৎ কন্যা বা পুত্রসন্তান জন্ম হওয়ার ব্যাপারে মায়ের আদৌ কোনো ভূমিকা নাই। কারণ মা সবসময় কেবল X. বহনকারী ডিম্বাণু তৈরি করে। অন্যদিকে পিতা X এবং Y দু'ধরনেরই শুক্রাণু উৎপাদন করে লিঙ্গ নির্ধারণে ভূমিকা রাখে।
পরিশেষে বলা যায়, কন্যা সন্তান জন্ম নেওয়ার জন্য বাবুলের মা'র রিয়াকে দোষারোপ করা যৌক্তিক নয়।
