| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘পরপীড়া পরিহার, পূর্ণ…’ সরকারি আজিজুল হক কলেজ ২০২৬ – প্রতিদান, পদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

পরপীড়া পরিহার, পূর্ণ পরিতোষ।
সদানন্দে পরিপূর্ণ স্বভাবের কোষ।
নাহি চায় আপনার পরিবার সুখ।
রাজ্যের কুশল কার্যে সদা হাস্যমুখ।
কেবল পরের হিতে প্রেম লাভ যার
মানুষ তারেই বলি, মানুষ কে আর?
স্বর্ণ করে নিজ রূপে অপরে শোভিত,
বংশী করে নিজ স্বরে অপরে মোহিত,
শস্য জন্মাইয়া নাহি খায় জলধরে
সাধুর ঐশ্বর্য শুধু পরহিত তরে।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ১৩
কবি জসীমউদ্দীনকে কলকাতার রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় সম্মানসূচক ডিলিট উপাধি প্রদান করে।
'প্রতিদান' কবিতায় কবি বিষে-ভরা বাণের বদলে বুকভরা গান দিতে চান।
কবি ব্যক্তিস্বার্থকে গুরুত্ব না দিয়ে সমষ্টির কথা ভাবেন। তিনি মনে করেন হিংসা-বিদ্বেষ মানবসমাজের ক্ষতি করে। ভালোবাসাপূর্ণ ক্ষমাশীল মানুষই পৃথিবীকে সুন্দর করতে পারে। তাই তিনি শত্রুকে হিংসার বদলে প্রতিহিংসা না দিয়ে হৃদয় উজাড় করে শুভকামনা জানিয়েছেন।
উদ্দীপকে 'প্রতিদান' কবিতার অপরের কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত করার দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে।
'প্রতিদান' কবিতায় কবি প্রত্যেক মানুষকে নিজের ব্যক্তিস্বার্থ বিসর্জন দিয়ে অপরের কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত করার কথা বলেছেন। কারণ ব্যক্তিস্বার্থে নিমজ্জিত মানুষ আত্মকেন্দ্রিক, যারা প্রকৃত মানবতাকে খর্ব করে। প্রত্যেক মানুষের উচিত পরার্থপরতায় নিজেকে নিয়োজিত করে প্রকৃত মানবিকতার নির্যাস আস্বাদন করা।
উদ্দীপকের কবিতাংশে কবি প্রকৃতির সমস্ত উপাদান যে. অন্যের কল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করে সে কথা বলেছেন। কবির মতে নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত থাকতে এই পৃথিবীতে কেউ আসেনি। 'প্রতিদান' কবিতায়ও এ বিষয়টি লক্ষণীয়। কবি দিন-রাত তাঁকে আঘাতকারী মানুষের জন্য ব্যাকুল হন। যে ব্যক্তি কবির ঘর ভাঙে, কবি তারই ঘর বাঁধতে ব্যস্ত হয়ে ওঠেন; এমনকি কাঁটা পেয়েও তাকে ফুল দান করেন। উদ্দীপকের সঙ্গে 'প্রতিদান' কবিতার অপরের কল্যাণ সাধনের দিকটি এভাবেই ফুটে উঠেছে।
"সাধুর ঐশ্বর্য শুধু পরহিত তরে'- কথাটি সত্য হলে 'প্রতিদান' কবিতার মমার্থ বদলে যায়" মন্তব্যটি যথার্থ নয়। কারণ এ কথাটি 'প্রতিদান' কবিতার মূলভাবের সাথে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ।
'প্রতিদান' কবিতায় কবি ক্ষুদ্র স্বার্থকে বিসর্জন দিয়ে পরার্থপরতার মধ্যেই যে জীবনের প্রকৃত সুখ ও সার্থকতা নিহিত সেই বিষয়ে আলোকপাত করেছেন। কবির কণ্ঠে প্রতিশোধ-প্রতিহিংসার বিপরীতে ব্যক্ত হয়েছে প্রীতিময় এক পরিবেশ সৃষ্টির আকাঙ্ক্ষা। তিনি সুন্দর ও নিরাপদ পৃথিবী গড়তে চেয়েছেন।
উদ্দীপকের "সাধুর ঐশ্বর্য শুধু পরহিত তরে" কথাটির অর্থ হলো- সৎ মানুষের সম্পদ শুধু অন্যের কল্যাণে ব্যবহৃত হয়। 'প্রতিদান' কবিতায়ও কবি অন্যের অনিষ্টের প্রতিশোধ না নিয়ে উপকার করে পরহিত সাধনের কথা বলেছেন। কবি তাঁর সম্পদ বা ভালোবাসা অন্যের কল্যাণেই ব্যয় করেছেন। তাই উদ্দীপকের বক্তব্য কবিতার মর্মার্থের সাথে একাত্ম।
'প্রতিদান' কবিতায় কবি জসীমউদ্দীন অনিষ্টকারীর প্রতিও উদারতা দেখিয়েছেন, যা 'সাধুর ঐশ্বর্য শুধু পরহিত তরে'- এই ভাবনারই প্রতিফলন। কবি তাঁর সম্পদ বলতে ভালোবাসা, ক্ষমা ও উদারতাকে বুঝিয়েছেন। তিনি এই সম্পদ প্রতিহিংসার পরিবর্তে মানবকল্যাণে ব্যয় করেছেন। উদ্দীপকে নদী, তরু, গাভি, শস্য সবই অপরের কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছে। তাই আমার অভিমত হলো প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। বরং উদ্দীপকের বক্তব্য 'প্রতিদান' কবিতার মর্মার্থকে আরও স্পষ্ট ও দৃঢ় করেছে।