| ㅤ | A. Nayan18 Oct 2026 (1 week ago) |
সৃজনশীলঃ ‘প্রাকৃতিক ভূগোল, ভূগোলশাস্ত্রের…’ a – প্রাকৃতিক ভূগোল, ভূগোল, ভূগোল ১ম পত্র (এইচএসসি)

প্রাকৃতিক ভূগোল, ভূগোলশাস্ত্রের একটি অন্যতম পুরাতন ক্ষেত্র। প্রকৃতির দেওয়া পরিবেশ নিয়েই প্রাকৃতিক পরিবেশ যা প্রাকৃতিক ভূগোলে অধ্যয়ন করা হয়। আকাশ, বাতাস, পাহাড়, পর্বত, মাটি, পানি, গাছপালা, নিম্নভূমি, হ্রদ, নদী, পশুপাখি এসবই প্রকৃতির দান।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ১
পৃথিবীর উপরের কঠিন ও পাতলা শিলাস্তরকে অশ্মমণ্ডল বা শিলা মণ্ডল বলে।
প্রাকৃতিক ভূগোলের আলোচ্য বিষয় অত্যন্ত ব্যাপক নিচে তা উল্লে- খ করা হলো-
| ভূমিরূপবিদ্যা | ভূমির গঠন ও প্রকৃতি, ভূত্বক, পৃথিবীর উৎপত্তি, ভূআন্দোলন প্রভৃতি। |
| জলবায়ুবিদ্যা | বায়ু, বায়ুস্তর, বায়ুপ্রবাহ, বায়ুর উপাদান, ধর্ম, বায়ুচাপ, বায়ুপ্রণালি, বৃষ্টিপাত প্রভৃতি। |
| সমুদ্রবিদ্যা | সাগর, মহাসাগর, সমুদ্রস্রোত, জোয়ারভাটা, শৈলশিরা প্রভৃতি। |
| জীবভূগোল | উদ্ভিদের বিস্তরণ, উদ্ভিদের বিন্যাস, বাস্তুবিদ্যা প্রভৃতি। |
উদ্দীপকে আলোচ্য অংশটি হলো প্রাকৃতিক ভূগোল। যার মূল আলোচ্য বিষয় হলো প্রাকৃতিক বিষয়াদি। পৃথিবীর জলভাগ, স্থলভাগ ও বায়ুমণ্ডলের যাবতীয় বিষয় সম্পর্কে জ্ঞান অর্জনের জন্য প্রাকৃতিক ভূগোলের বিষয়বস্তুকে তিনটি ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে। যথা- ১. অশ্মমণ্ডল, ২. বায়ুমণ্ডল, ৩. বারিমণ্ডল।
পৃথিবীর উপরিভাগের কঠিন আবরণকে অশ্মমণ্ডল বলে। এ মণ্ডলের নিচ থেকে উপরের দিকে ক্রমশ ভারী থেকে হালকা শিলা রয়েছে। এ স্তর গঠনকারী উপাদানগুলোর মধ্যে সিলিকন ও অ্যালুমিনিয়াম বেশি থাকায় এ স্তরকে সিয়াল স্তর বলে। ভূ-অভ্যন্তর ও বাইরে কার্যরত বিভিন্ন নিয়ামক ও শক্তি একত্রে অশ্মমণ্ডল বৈচিত্র্যে ভূমিরূপের সৃষ্টি করেছে। যেমন- পর্বত, মালভূমি ও সমভূমি।
আমাদের এ পৃথিবী নানা রকম গ্যাসীয় উপাদান দ্বারা পরিবেষ্টিত। এসব গ্যাসীয় উপাদানের নাম বায়ু। পৃথিবীর যে অদৃশ্য বায়ুরাশি পৃথিবীকে বেষ্টন করে আছে তার নাম বায়ুমণ্ডল। বায়ুমণ্ডলের বয়স প্রায় ৩৫ কোটি বছর। বায়ুর বিভিন্ন উপাদানও বায়ুমণ্ডলের স্তর বিন্যাস, জলবায়ু প্রভৃতি বায়ুমণ্ডলের আলোচ্য বিষয়।
প্রাকৃতিক ভূগোলের অন্যতম আলোচ্য বিষয় হলো বারিমণ্ডল। পৃথিবী 'বর্তমান অবস্থায় রূপান্তরের সময় ভূআন্দোলনের ফলে ভূপৃষ্ঠ অসমানভাবে সংকুচিত হয়। ফলে ভূপৃষ্ঠের কিছু অংশ বেশ উচ্চ এবং কিছু অংশ নিচু হয়েছে। এ নিচু অংশই বারিমণ্ডলে পরিণত হয়েছে। সাগর, মহাসাগর, উপসাগর, সমুদ্রস্রোত, জোয়ারভাটা, সাগর তলের ভূপ্রকৃতি প্রভৃতি বারিমণ্ডলের আলোচ্য বিষয়।
উদ্দীপকে আলোচিত বিষয়টি হলো প্রাকৃতিক ভূগোল যা ভূগোলের একটি গুরুত্বপূর্ণ শাখা। এটি পাঠের গুরুত্ব অপরিসীম।
প্রাকৃতিক ভূগোল পাঠের মাধ্যমে পৃথিবীপৃষ্ঠের গঠন, এর বিভিন্ন স্তর বারিমণ্ডল, বায়ুমণ্ডল প্রভৃতি সম্পর্কে ধারণা লাভ করা যায়। প্রাকৃতিক ভূগোলের এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো বায়ুমণ্ডল। হাজার হাজার কিলোমিটার পুরু যে বায়ু সমগ্র পৃথিবীর চারপাশে বেষ্টন করে আছে তাই বায়ুমণ্ডল। বায়ুমণ্ডলের গভীরতা, বায়ুর স্তরবিন্যাস, বায়ুর উপাদান, বায়ুর ধর্ম, বায়ুর তাপ ও চাপ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায় প্রাকৃতিক ভূগোল পাঠের মাধ্যমে। এছাড়া বায়ুপ্রবাহের কারণ, বায়ুপ্রবাহের দিক, বায়ুর শ্রেণিবিভাগ, বিভিন্ন প্রকার ঘূর্ণিবাত, জলীয়বাষ্প, বায়ুর আর্দ্রতা, বৃষ্টিপাতের কারণ, বৃষ্টিবলয়, বৃষ্টিপাতের শ্রেণিবিভাগ এবং বিভিন্ন প্রকার আবহাওয়া ও জলবায়ু সম্পর্কে সম্যক ধারণা লাভ করা যায়। ভূত্বকের অবনত অংশে অবস্থিত বিশাল পানিরাশিকে বারিমণ্ডল বলে। এটিও প্রাকৃতিক ভূগোল পাঠের মাধ্যমে জানা যায়। অর্থাৎ সাগর-মহাসাগরের উৎপত্তি, সমুদ্রতলদেশের ভূপ্রকৃতি, সমুদ্রের পানির বৈশিষ্ট্য, সমুদ্রস্রোত, জোয়ারভাটা, কীভাবে স্থলমণ্ডল ও বারিমণ্ডল সৃষ্টি হলো, ভূপৃষ্ঠের সুবিশাল এলাকা সম্পর্কে ধারণা, বিভিন্ন প্রকার শৈবাল, সমুদ্র তরঙ্গ ও তার কাজ প্রভৃতি যাবতীয় বিষয় প্রাকৃতিক ভূগোল পাঠের মাধ্যমে জানা যায়।
পৃথিবীর উপরিভাগ যা স্থলভাগ নামে পরিচিত। একে অশ্মমণ্ডল বলা হয়। অশ্ম অর্থ শিলা। তাই একে শিলামন্ডলও বলা হয়। এটি প্রাকৃতিক ভূগোল অধ্যয়নের মাধ্যমে জানতে পারি। অর্থাৎ পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ অবস্থা, তার উপাদানসমূহ, পৃথিবীর জন্ম, শিলার উৎপত্তি, 'ভূ- আন্দোলন, পৃথিবীর জন্ম সম্পর্কিত বিভিন্ন ভূগোলবিদের মতবাদ, কীভাবে পাহাড় থেকে নদীর উৎপত্তি, হিমবাহ ও বায়ুপ্রবাহের ক্ষয়কার্যের ফলে কীভাবে ভূমিরূপ সৃষ্টি হয় প্রভৃতি যাবতীয় বিষয় প্রাকৃতিক ভূগোল পাঠের মাধ্যমে জানতে পারি। এছাড়া জীবমণ্ডল তথা জীবের বৈশিষ্ট্য ও ধরন, মানুষ ও প্রাণীর আবাসস্থল, পরিবেশভেদে তাদের জীবিকার ধরন প্রভৃতি সম্বন্ধে প্রাকৃতিক ভূগোল পাঠের, মাধ্যমে জানা যায়।
পরিশেষে বলা যায়, মানবজীবনে প্রাকৃতিক ভূগোল অধ্যয়নের গুরুত্ব অপরিসীম।