| ㅤ | A. Nayan13 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘প্রাণিজগতে এমন একটি…’ যশোর বোর্ড ২০১৭ – প্রাণীর পরিচিতি, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি)

প্রাণিজগতে এমন একটি প্রাণী রয়েছে যার দেহে আক্রমণাত্মক কোষ বিদ্যমান। আবার এ প্রাণীটি পদতলকে মুক্ত করে দ্রুত গতিতে এবং মুক্ত না করে লম্বা দূরত্ব অতিক্রম করে।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ২
দেহের মুক্ত প্রান্তে অবস্থিত মোচাকৃতির ছোট ও সংকোচন- প্রসারণশীল অংশই হলো হাইপোস্টোম।
ভিন্ন প্রজাতির দুটি জীব যখন পারস্পরিকভাবে সহাবস্থান করে এবং উভয়ই উভয়ের নিকট থেকে উপকৃত হয় তখন এ ধরনের সহাবস্থানকে মিথোজীবিতা বলা হয়। সহাবস্থানকারী জীবদ্বয়কে বলা হয় মিথোজীবী। যেমন: হাইড্রা ও সবুজ শৈবাল মিথোজীবিতার মাধ্যমে সহাবস্থান করে এবং পরস্পর উপকৃত হয়।
উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রাণীটি হলো Hydra। এদের দেহে নিডোসাইট নামক আক্রমণাত্মক কোষ বিদ্যমান। নিচে কোষটির গঠন ব্যাখ্যা করা হলো-
কর্ষিকা ব্যতীত এরা এককভাবে থাকে। কর্ষিকায় বিদ্যমান গুচ্ছাকার নিডোসাইট কোষ ব্যাটারী নামে পরিচিত। একটি আদর্শ নিডোসাইট কোষ দ্বিস্তরী আবরণ দ্বারা আবৃত। স্তর দুটির মাঝখানে দানাদার সাইটোপ্লাজমসহ সকল কোষীয় অঙ্গাণু উপস্থিত থাকে। কোষের অভ্যন্তরস্থ গহ্বর ও সূত্রকযুক্ত থলেটি হলো নেমাটোসিস্ট। গহ্বরটি আমিষ ও ফেনলের সমন্বয়ে গঠিত বিষাক্ত তরল হিপনোটক্সিন দ্বারা পূর্ণ থাকে। লম্বা সরু, ফাঁপা সূত্রকটি থলের সরু সম্মুখ প্রান্তে লাগানো থাকে। সূত্রকের গোড়ায় তিনটি বড় ও অসংখ্য ছোট কাঁটা থাকে। স্বাভাবিক অবস্থায় সূত্রকটি থলের ভেতর ঢোকানো থাকে। স্বাভাবিক অবস্থায় নেমাটোসিস্টের সূত্রক ও থলি যে ঢাকনা দিয়ে আবৃত থাকে, তাই অপারকুলাম। উন্মুক্ত অবস্থায় এটি পাশে সরে যায়। নিডোসাইট কোষের মুক্ত প্রান্তের শক্ত, দৃঢ়, সংবেদনশীল কাঁটাটি হলো নিডোসিল। এটি ট্রিগারের মত কাজ করার ফলে প্যাঁচানো সূত্রকটি বাইরে বেরিয়ে আসে। কোষস্থ সাইটোপ্লাজম ও নেমাটোসিস্টের প্রাচীরে সংকোচনশীল কিছু পেশিতন্তু থাকে। এছাড়াও কোষের নিচের প্রান্তে ল্যাসো নামের একটি প্যাঁচানো সূত্র থাকে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রাণীটি হলো Hydra। উদ্দীপকে এদের চলন প্রক্রিয়াকে বর্ণনা করা হয়েছে। প্রাণীটি পদতলকে মুক্ত করে দ্রুত গতিতে অর্থাৎ সমারসল্টিং বা ডিগবাজী প্রক্রিয়ায় এবং পদতল মুক্ত না করে লম্বা দূরত্ব অতিক্রম করতে লুপিং বা হামাগুড়ি প্রক্রিয়ায় চলন সম্পন্ন করে। নিচে প্রক্রিয়া দুটো বিশ্লেষণ করা হলো-
সমারসন্টিং বা ডিগবাজী চলন প্রক্রিয়া হাইড্রার সাধারণ ও দ্রুত চলন প্রক্রিয়া। এ প্রক্রিয়ার শুরুতে হাইড্রা দেহকে বাঁকিয়ে কর্ষিকাস্থিত মুটিন্যান্ট জাতীয় নেমাটোসিস্টের সাহায্যে চলনের গতিপথকে স্পর্শ করে। এসময় গন্তব্যস্থলের দিকের পেশি-আবরণী কোষের সংকোচন ও অপর পাশের অনুরূপ কোষের সম্প্রসারণ ঘটে। এ প্রক্রিয়ার পুনরাবৃত্তি ঘটিয়ে হাইড্রা দ্রুত স্থান ত্যাগ করে।
অপরদিকে লম্বা দূরত্ব অতিক্রমের জন্য হাইড্রা সাধারণত লুপিং বা হামাগুড়ির সাহায্যেই চলে। এ প্রক্রিয়ার শুরুতে এক পাশে পেশি- আবরণী কোষগুলো সংকুচিত হয় এবং অপর পাশের অনুরূপ কোষগুলো সম্প্রসারিত হয়। ফলে হাইড্রা গতিপথের দিকে দেহকে প্রসারিত ও বাঁকিয়ে মৌখিক তলকে ভিত্তির কাছাকাছি নিয়ে আসে এবং কর্ষিকার গ্লুটিন্যান্ট নেমাটোসিস্টের সাহায্যে ভিত্তিকে আটকে ধরে। এরপর পদতলকে মুক্ত করে মুখের কাছাকাছি এনে স্থাপন করে এবং কর্ষিকা বিমুক্ত করে সোজা হয়ে দাঁড়ায়। এ পদ্ধতির পুনরাবৃত্তি ঘটিয়ে হাইড্রা স্থান পরিবর্তন করে।