| ㅤ | A. Nayan13 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘প্রাণিজগতের সর্ববৃহৎ পর্বের…’ সিলেট বোর্ড ২০২৫ – প্রাণীর পরিচিতি, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি)

প্রাণিজগতের সর্ববৃহৎ পর্বের প্রাণীদের তীব্র ও মৃদু আলোতে দুটি ভিন্ন দর্শন কৌশল রয়েছে।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ২
ঘাসফড়িং-এর পুঞ্জাক্ষির ষড়ভূজাকার দর্শন একককে ওমাটিডিয়াম বলে।
যে রূপান্তরে একটি পতঙ্গ ডিম ফুটে বেরিয়ে কায়েকটি নিম্ফ দশা অতিক্রমের পর পূর্ণাঙ্গ পতঙ্গে পরিণত হয় তাকে অসম্পূর্ণ রূপান্তর বলে। প্রত্যেক নিম্ফ দশা দেখতে প্রায় পূর্ণাঙ্গ পতঙ্গের ক্ষুদ্র প্রতিরূপের মতো দেখায়, কিন্তু এগুলো ডানা ও 'জ জননাঙ্গবিহীন থাকে এবং স্পষ্ট বর্ণ পার্থক্য প্রদর্শন করে। অসম্পূর্ণ রূপান্তরের শিশু অবস্থায় প্রাণীকে নিম্ফ বলে। উদাহরণ- ঘাসফড়িং ও তেলাপোকার রূপান্তর।
উদ্দীপকে উল্লেখিত প্রাণীটির দর্শন অঙ্গের একক হলো ওমাটিডিয়াম। নিচে ওমাটিডিয়ামের গঠন বর্ণনা করা হলো-
১. কর্নিয়া: এটি ওমাটিডিয়ামের বাইরের দিকের বর্ণহীন, স্বচ্ছ, উত্তল ও ছয়কোণা কিউটিকল আবরণী। এটি লেন্সের মতো কাজ করে।
২. কর্নিয়াজেন কোষ: এরা কর্নিয়ার নিচে একজোড়া চাপা ও পাশাপাশি অবস্থিত কোষ। এদের ক্ষরণ থেকে কর্নিয়া সৃষ্টি হয়।
৩. ক্রিস্টালাইন কোণ কোষ: এগুলো, কর্নিয়াজেন কোষের নিচে ক্রিস্টালাইন কোণকে ঘিরে অবস্থিত দীর্ঘ ৪টি কোষ। এসব কোষের ক্ষরণ থেকে ক্রিস্টালাইন কোণ গঠিত হয়।
৪. ক্রিস্টালাইন কোণ: এটি কোণ কোষে পরিবেষ্টিত এবং এগুলোর মধ্যবর্তীস্থানে অবস্থিত একটি স্বচ্ছ, মোচাকৃতি অঙ্গ। কোণ কোষ থেকে নিঃসৃত পদার্থে ক্রিস্টালাইন কোণ গঠিত হয়।
৫. আইরিশ রঞ্জক আবরণী: এগুলো দীর্ঘ রঙিন (কালো কণিকা বহনকারী) কোষ যা কোণ কোষগুলোকে ঘিরে রাখে। তীব্র আলোতে এ আবরণ প্রসারিত হয়ে কোণ কোষগুলোকে সম্পূর্ণরূপে আবৃত করে, আবার মৃদু আলোকে সংকুচিত হয়ে আংশিক উন্মুক্ত রাখে।
৬. রেটিনুলার কোষ: কোণ কোষগুলোর নিচে বৃত্তাকার ৭/৮টি লম্বা রেটিনুলার কোষ অবস্থিত। এগুলোর নিউক্লিয়াস কোণ কোষ সংলগ্ন প্রান্তে অবস্থিত। এসব কোষ একদিকে কোণ কোষের সাথে অন্যদিকে স্নায়ুতন্তুর সাথে যুক্ত।
৭. র্যাবডোম: ক্রিস্টালাইন কোণের নিচে অবস্থিত স্বচ্ছ প্রলম্বিত এ অংশটি অনুপ্রস্থভাবে রেখান্বিত। একে ঘিরে অবস্থিত রেটিনুলার কোষগুলোর ক্ষরণ থেকেই র্যাবডোম গঠিত ও পুষ্ট হয়।
৮. রেটিনাল রঞ্জক আবরণী: এটি রেনটিনুলার কোষকে ঘিরে রঞ্জকময় কোষে গঠিত কালো পর্দার একটি আবরণ। এটি প্রত্যেক ওমাটিডিয়ামকে পরস্পর থেকে পৃথক করে রাখে।
৯. ভিত্তিপর্দা: ওমাটিডিয়াম যে পাতলা পর্দার উপর অবস্থান করে তার নাম ভিত্তিপর্দা। এটি ওমাটিডিয়ামকে ধারণ করে।
১০. স্নায়ুতন্তু: প্রতিটি রেটিনুলার কোষ থেকে স্নায়ুতন্তু বেরিয়ে অপটিক স্নায়ুর সাথে যুক্ত হয়। এসব তন্তু ওমাটিডিয়ার মাধ্যমে গৃহীত প্রতিবিম্ব মস্তিষ্কে প্রেরণ করে।
উদ্দীপকে উল্লেখিত প্রাণীদের দর্শক একক হলো ওমাটিডিয়াম। আলোর তীব্রতা অনুসারে এদের দর্শন কৌশল পরিবর্তিত হয়। দর্শন অঙ্গটি দিনের উজ্জল আলো ও দিনের শেষে মৃদু আলোতে ভিন্ন ভিন্ন ধরন্দ্রে প্রতিবিম্ব সৃষ্টি করে এদের দৃষ্টিশক্তি কার্যকর করে।
মৃদু আলোতে সুপার পজিশন এবং উজ্জল আলোতে অ্যাপোজিশন প্রতিবিম্ব গঠন করে। নিচে দর্শন কৌশল দুইটির মধ্যে তুলনামূলক বিশ্লেষণ উল্লেখ করা হলো-