| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘প্রাঞ্জলতা রচনার বড়…’ a – বাঙালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন, গদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

প্রাঞ্জলতা রচনার বড় গুণ। তুমি যাহা লিখিবে লোকে পড়িবামাত্র যেন তাহা বুঝিতে পারে। যাহা লিখিলে, লোকে যদি তাহা না বুঝিতে পারিল, তবে লেখা বৃথা, কিন্তু অনেক লেখক একথা মনে রাখেন না। জটিল বাক্য রচনা করিও না। অনেকগুলি বাক্য একত্রে জড়িত করা হইলে বাক্য জটিল হয়। যেখানে বাক্য জটিল হইয়া আসিবে, সেখানে জটিল বাক্যটি ভাঙিয়া ছোট ছোট সরল বাক্যে সাজাইবে।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৩
'লোকরঞ্জন' বলতে জনসাধারণের মনোরঞ্জন বা সন্তোষ বিধানকে বোঝায়।
- যশের জন্য লিখলে লেখার মান ও যশ কোনোটাই হবে না। এ কারণে লেখক যশের জন্য লিখতে নিষেধ করেছেন।
- 'বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন' প্রবন্ধে প্রাবন্ধিক যশের জন্য লিখতে নিষেধ করেছেন। তিনি গুরুত্ব দিয়েছেন ভালো লেখার প্রতি। কারণ প্রাবন্ধিক জানেন যশ বা খ্যাতির দিকে গুরুত্ব দিলে লেখার মান ভালো করা সম্ভব নয়। লেখার মান ভালো হলে যশ আপনা-আপনিই আসবে। তাই লেখক যশের জন্য লিখতে নিষেধ করেছেন।
সারকথা: প্রাবন্ধিক যশ লাভের জন্য লিখতে নিষেধ করেছেন, কারণ লেখার মান উন্নত ও ভাষা প্রাঞ্জল হলে যশ আপনিই আসবে।
- উদ্দীপকে 'বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন' প্রবন্ধে রচনার সরলতা ও পাঠকের বোধগম্যতার দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে।
- সরলতা রচনার বড় গুণ। যিনি সহজে ও সরল ভাষায় রচনার বিষয়টি পাঠককে বোঝাতে পারেন, তিনি শ্রেষ্ঠ লেখক। রচনায় জটিল বাক্য ব্যবহার না করে সরল বাক্য ব্যবহার করলে পাঠকের বুঝতে সহজ হয়।
- উদ্দীপকে বলা হয়েছে প্রাঞ্জলতা রচনার বড় গুণ এবং লেখক যা লিখবেন তা পড়ামাত্র যেন পাঠক বুঝতে পারেন। যদি রচনার উদ্দেশ্য বা অর্থ পাঠক বুঝতে না পারেন তাহলে রচনার মূল্য থাকে না। জটিল বাক্য ও জটিল শব্দ পরিহার করার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। সাহিত্যের উদ্দেশ্য পাঠককে আনন্দ প্রদান করা, লেখকের স্বার্থ হাসিল করা নয়। অন্যদিকে 'বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন' প্রবন্ধে লেখক অপ্রয়োজনে বাক্যে দুর্বোধ্য শব্দ ও অলংকার ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকতে বলেছেন। যিনি সহজ ভাষায় নিজের মনের ভাব পাঠককে বোঝাতে পারেন, তিনিই শ্রেষ্ঠ লেখক। লেখকের মতে, সকল অলংকারের শ্রেষ্ঠ অলংকার সরলতা। পরিশেষে বলা যায় যে, উদ্দীপকে আলোচ্য প্রবন্ধের সাহিত্যের ভাষা হবে সহজ, বোধগম্য ও সরল এই দিকটি পরিলক্ষিত হয়েছে।
সারকথা: সাহিত্য রচনার ভাষ্য হওয়া উচিত প্রাঞ্জল এবং বাক্য হওয়া উচিত সহজ-সরল। উদ্দীপক ও আলোচ্য প্রবন্ধে এই বিষয়ে সুদৃষ্টি বা গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
- "উদ্দীপকে 'বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন' প্রবন্ধের আংশিক ভাব ফুটে উঠেছে।"- মন্তব্যটি যথার্থ।
- সাহিত্য রচনাকালে লেখকদের অনেক বিষয় খেয়াল রেখে সাহিত্য রচনা করতে হয়। কোন বিষয়গুলো গ্রহণীয় বা বর্জনীয় তা মাথায় রেখে লেখকরা সাহিত্য রচনা করে থাকেন।
- উদ্দীপকে সাহিত্য রচনার বিষয়টিকে সরল বাক্য ও শব্দে সহজভাবে প্রকাশের দিকটি গুরুত্ব লাভ করেছে। সাহিত্যের ভাষা হবে সহজবোধ্য। সাহিত্যের কাজ ব্যক্তির অনুভূতিকে, মানুষের অন্তরের সত্যকে সুন্দর ও সরল ভাষায় বর্ণনা করা। 'বাঙ্গালার নব্য লেখকদিকের প্রতি নিবেদন' প্রবন্ধে প্রাবন্ধিক নতুন লেখকদের সাহিত্য রচনার সময় বিশেষ কিছু বিষয়ের প্রতি খেয়াল রেখে সাহিত্য রচনা করতে বলেছেন।
- প্রাবন্ধিক 'বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন' প্রবন্ধে যেসব বিষয়ের দিকে নজর প্রদান করতে বলেছেন উদ্দীপকের বিষয়টি সেগুলোর মধ্যে একটি। কিন্তু এই বিষয়টি ছাড়া প্রবন্ধের অন্যান্য বিষয় উদ্দীপকে অনুপস্থিত থাকায় বলা যায় যে, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
সারকথা: আলোচ্য প্রবন্ধে সার্থক সাহিত্যের অনেক দিক প্রকাশ পেয়েছে। কিন্তু উদ্দীপকে আলোচ্য প্রবন্ধের আংশিক দিক ফুটে উঠেছে। প্রবন্ধের অন্যান্য দিক উদ্দীপকে প্রকাশিত হয়নি বলে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।