| ㅤ | A. Nayan13 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘পর্ব ‘X’ =…’ যশোর বোর্ড ২০২২ – প্রাণীর বিভিন্নতা ও শ্রেণিবিন্যাস, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি)

পর্ব ‘X’ = সকল প্রাণী সামুদ্রিক
পর্ব ‘Y’ = কৃমিজাতীয় এবং অধিকাংশ পরজীবী
পর্ব ‘Z’ = কৃমিজাতীয়, কেউ কেউ মুক্তজীবী এবং কেউ কেউ পরজীবী।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ১
প্রাণী শ্রেণিবিন্যাসের সর্বনিম্ন ধাপ ও মৌলিক একক হচ্ছে প্রজাতি। Ernst Mayr (1969) এর মতে প্রজাতি হলো এমন একটি জীবগোষ্ঠী যারা নিজেদের মধ্যে যৌন মিলনে এবং উর্বর সন্তান উৎপাদনে সক্ষম কিন্তু প্রায় অনুরূপ দৈহিক গঠন বিশিষ্ট নিকটতম জীবগোষ্ঠী হতে জনন সূত্রে আলাদা।
কোনো প্রাণিদেহে যখন কোনো অঙ্গের সংখ্যা একটি কিংবা একজোড়া হওয়ায় অনুদৈর্ঘ্য অক্ষ বরাবর শুধু দুটি তল পরস্পরের সমকোণে অতিক্রম করতে পারে। ফলে ঐ প্রাণিদেহ ৪টি সদৃশ অংশে বিভক্ত হতে পারে। এ ধরনের প্রতিসাম্য হচ্ছে দ্বি-অরীয় প্রতিসাম্য।
Ctenophora জাতীয় প্রাণীর, দেহ যেমন- Ceoloplana মৌলিকভাবে অরীয় প্রতিসম হলেও ২টি কর্ষিকা থাকায় এরা দ্বি-অরীয় প্রতিসম প্রাণী।
উদ্দীপকের 'X' এ একাইনোডার্মাটা পর্বের প্রাণীদের কথা বলা হয়েছে।নিচে এদের বৈশিষ্ট্যসমূহ দেয়া হল:
১. পূর্ণাঙ্গ প্রাণী পঞ্চঅরীয় প্রতিসম (pentaradial symmetry), অখণ্ডকায়িত, তারকাকার, গোলাকার, চাকতির মতো।
২. দেহ কণ্টকময়, স্পাইন (spine) ও পেডিসিলারি (pedicellariae) নামক বহিঃকঙ্কালযুক্ত।
৩. দেহ মৌখিক (oral) ও বিমৌখিক (aboral) তলে বিন্যস্ত।
৪. দেহের ভিতরে সিলোম থেকে সৃষ্ট অনন্য গড়নের পানি সংবহনতন্ত্র (water vuscular system) রয়েছে । এর সংশ্লিষ্ট নালিকা পদ বা টিউব ফিট (tube feet) এদের চলন অঙ্গ । এ তন্ত্রটি চলন ছাড়াও শ্বসন, খাদ্য আহরণেও সাহায্য করে ।
৫. রক্ত সংবহনতন্ত্র অনুপস্থিত তবে হিমাল (haemal) ও পেরিহিমালতন্ত্র সংবহনতন্ত্রের কাজ করে ।
৬. রেচনতন্ত্র নেই ।
৭. ত্বকীয় ফুলকা, নালিকা পা বা শ্বসনবৃক্ষ ইত্যাদি দিয়ে শ্বসন সম্পন্ন হয় ।
৮. একলিঙ্গ প্রাণী; নিষেক বাহ্যিক; জীবনচক্রে মুক্ত সাঁতারু বাইপিনারিয়া,অরিকুলারিয়া, অফিউকিটাস কিংবা একাইনোকিটাস লার্ভা বিদ্যমান ।
৯. সকল সদস্যই মুক্তজীবী সামুদ্রিক; এদের কোনো পরজীবী সদস্য নেই ।
'Y' ও 'Z' হলো যথাক্রমে প্লাটিহেলমিনথিস ও নেমাটেডার কথা বলা হয়েছে। এদের বৈশিষ্ট্যগুলো হলো:
পর্ব Platyhelminthes-এর বৈশিষ্ট্যসমূহ:
১. টিস্যু-অঙ্গ মাত্রার প্রথম ত্রিস্তরী প্রাণী; দেহ নরম, দ্বিপার্শ্বীয় প্রতিসম ও পাতা বা ফিতার মতো পৃষ্ঠ-অঙ্কীয়ভাবে চাপা।
২. দেহত্বক সিলিয়াযুক্ত এপিডার্মিস (ciliated epidermis) অথবা কিউটিকল (cuticle)-এ আবৃত।
৩. ত্রিস্তরী প্রাণী হলেও এরা অ্যাসিলোমেট (সিলোমবিহীন)।
৪. একমাত্র পরিপাকনালি ছাড়া অন্তঃস্থ আর কোন গহ্বর নেই ।একমাত্র পরিপাকনালি ছাড়া অন্তঃস্থ আর কোন গহ্বর নেই ।বিভিন্ন অঙ্গের মাঝে ফাঁকা স্থানগুলো প্যারেনকাইমা (parenchyma) নামক যোজক টিস্যু বা মেসেনকাইম (mesenchyme)-এ পূর্ণ থাকে।
৬. পোষকদেহে সংযুক্তির জন্য অনেক ক্ষেত্রে বাহ্যিক চোষক (sucker) বা হুক (hook) অথবা উভয়ই উপস্থিত; কিছু প্রাণীতে খন্ডক সদৃশ্য গঠন প্রোগ্লটিড (proglotids) থাকে।
৭. পৌষ্টিকতন্ত্র পায়ুছিদ্রবিহীন এবং শাখান্বিত।
৮. রক্ত সংবহন ও শ্বসনতন্ত্র অনুপস্থিত; রেচনতন্ত্র শাখা-প্রশাখাযুক্ত রেচননালি ও শিখা কোষ (flame cell) নিয়ে গঠিত।
৯. অধিকাংশ পরজীবী। অনেক সদস্য সরাসরি দেহতলের সাহায্যে পুষ্টি গ্রহণ করে। কিছুসংখ্যক মুক্তজীবী ।
১০. এ পর্বের প্রাণীরা উভলিঙ্গ; নিষেক অভ্যন্তরীণ এবং পরিস্ফুটন প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ধরনের।
পর্ব Nematoda-র বৈশিষ্ট্যসমূহ:
১. দেহ নলাকার, দ্বিপার্শ্বীয় প্রতিসম, উভয় প্রান্তই ক্রমশ সরু ও মধ্যভাগ চওড়া; আণুবীক্ষণিক থেকে এক মিটার পর্যন্ত লম্বা।
২. প্রাণীরা স্যুডোসিলোমেট (অপ্রকৃত সিলোমযুক্ত) ও অখণ্ডকায়িত (unsegmented)।
৩. দেহ নমনীয়; ইলাস্টিন (elastin) নির্মিত অকোষীয়, পুরু প্রতিরোধক্ষম কিউটিকল (cuticle)-দিয়ে আবৃত।
৪. দেহপ্রাচীরে শুধু অনুদৈর্ঘ্য পেশি থাকে; বৃত্তাকার পেশি থাকে না।
৫. পৌষ্টিকনালি সোজা ও শাখাহীন এবং মুখ থেকে পায়ু পর্যন্ত প্রসারিত। এ কারণে এসব প্রাণীর দেহকে 'নলের ভিতর নল' ('tube within a tube') ধরনের গঠনের মতো দেখায় ।
৬. মুখছিদ্র সাধারণত বৈশিষ্ট্যপূর্ণ ওষ্ঠে পরিবৃত। শ্বসনতন্ত্র ও সংবহনতন্ত্র অনুপস্থিত।
৭. যৌন দ্বিরূপতা (sexual dimorphism) যায়।
৮.স্থলচর বা জলচর, মুক্তজীবী বা পরজীবী প্রাণী।
উপরের বৈশিষ্ট্যসমূহ পর্যালোচনা করলে দেখা যায় , উদ্দীপকের Z তথা নেমাটেডা পর্বের প্রাণীরা বেশি উন্নত।