| ㅤ | A. Nayan18 Oct 2026 (1 week ago) |
সৃজনশীলঃ ‘পর্বত-১: ভাঁজবিশিষ্ট।পর্বত-২: লাভা…’ রাজশাহী বোর্ড ২০২৪ – পৃথিবীর গঠন, ভূগোল, ভূগোল ১ম পত্র (এইচএসসি)

পর্বত-১: ভাঁজবিশিষ্ট।
পর্বত-২: লাভা সঞ্চিত হয়ে গঠিত।
পর্বত-৩: গম্বুজ আকৃতির।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ২
সমতলভূমি হতে উঁচু, খাড়া ঢাল, সমতল থেকে আপেক্ষিক সমতল উপরিভাগবিশিষ্ট, বিস্তীর্ণ উচ্চভূমিকে মালভূমি বলে।
নদীবাহিত পলি, বালি, কাঁকর প্রভৃতি সঙ্গিত হয়ে ভূপৃষ্ঠের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে সমভূমি গঠিত হয়। এরূপ পলি গঠিত সমভূমি হলো পলল সমভূমি।
বাংলাদেশে ছোট-বড় অসংখ্য নদী জালের মতো ছড়িয়ে রয়েছে। উক্ত নদীগুলোর পানি পাহাড়ি অঞ্চল হতে যখন নিম্ন অঞ্চলগুলোতে প্রবাহিত হয়, তখন প্রচুর পরিমাণ পলি, বালি ও কাঁকর বহন করে নিম্ন অঞ্চলে এসে সঞ্চিত হয়ে বিশালাকার সমভূমির সৃষ্টি করে; যা পলল সমভূমি নামে পরিচিত।
উদ্দীপকের 'পর্বত-৩' বলতে ল্যাকোলিথ পর্বতকে বোঝানো হয়েছে।
পৃথিবীর অভ্যন্তরের ম্যাগমা বা গলিত শিলার উপাদানের সাথে গ্যাস মিশ্রিত হয়ে যে পর্বত গঠিত হয় তাকে ল্যাকোলিথ পর্বত বলে। এ পর্বতের ঢাল খাড়া এবং উচ্চতা কম। তবে এ জাতীয় পর্বতগুলো অল্প অঞ্চলব্যাপী অবস্থান করে। পৃথিবীর অভ্যন্তরের ম্যাগমা বা গলিত শিলার উপাদানসমূহের সাথে বিভিন্ন গ্যাস মিশ্রিত অবস্থায় থাকে। এ গ্যাস উর্ধ্বমুখী হয়ে ভূপৃষ্ঠের দিকে আসতে চেষ্টা করে। এ গ্যাসের সাথে প্রচুর পরিমাণে ম্যাগমাও থাকে। কিন্তু প্রায়ই তা উপরের দিকে আসবার পথে বাধাগ্রস্ত হয়ে ভূত্বকের নিচেই সঞ্চিত হতে থাকে। আস্তে আস্তে চাপ বাড়ার ফলে ভূত্বকের শিলা ভেঙে পর্বতের ন্যায় উঁচু হয়ে ওঠে এবং তার নিচের ম্যাগমা কঠিন আকার ধারণ করে। এই পর্বত দেখতে অনেকটা গম্বুজের মতো দেখায় বলে এজাতীয় পর্বতকে ল্যাকোলিথ বা গম্বুজ আকৃতির পর্বতও বলা হয়।
উদ্দীপকের 'পর্বত-১' বলতে ভঙ্গিল পর্বত এবং 'পর্বত-২' বলতে সদায়জাত বা আগ্নেয় পর্বতকে বোঝানো হয়েছে। নিম্নে পর্বত দুটির পার্থক্য বিশ্লেষণ করা হলো-
• মহাদেশীয় পাতগুলোর পরিচলন স্রোতের মাধ্যমে গতিশীল হয়ে •পড়লে প্রবল পার্শ্বচাপের সৃষ্টি করে ভূত্বকের উপরের পাললিক শিলাস্তর ভাঁজের সৃষ্টি হয়ে ভঙ্গিল পর্বতের সৃষ্টি হয়। অন্যদিকে আগ্নেয়গিরি থেকে উদগিরিত পদার্থ সঞ্চিত ও জমাট বেঁধে আগ্নেয় পর্বতের সৃষ্টি হয়।
• ভঙ্গিল পর্বতের ক্ষেত্রে ক্ষয়প্রাপ্ত শিলা ক্ষয় হয় এবং ক্ষয়প্রাপ্ত পদার্থসমূহ পলির আকারে স্তরে স্তরে সঞ্চিত হয়। পক্ষান্তরে, আগ্নেয় পর্বতের ক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ লাভা, নানা প্রকার গ্যাস, বাষ্প, ছাই, ধাতু প্রবলবেগে, বাইরে বের হয়ে আসে।
• ভঙ্গিল পর্বতের ক্ষেত্রে পার্শ্বচাপের কারণে শিলাসমূহ উঁচু হয়। অন্যদিকে আগ্নেয় পর্বত আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ফলে অভ্যন্তরীণ পদার্থসমূহের বাইরে বের হয়ে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে।
• ভঙ্গিল পর্বত সাধারণত পাতসমূহের গতিশীলতায় সৃষ্টি হয়। অন্যদিকে আগ্নেয় পর্বত আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতে সৃষ্ট লাভাসমূহের সঞ্চয়ের ফলে সৃষ্টি হয়।
• হিমালয়, আল্পস পর্বত হলো ভঙ্গিল পর্বত। অন্যদিকে ইতালির ভিসুভিয়াস, আফ্রিকার কিলিমানজারো, হাওয়াই দ্বীপের মনলোয়া আগ্নেয় পর্বতের উদাহরণ।
সুতরাং বলা যায় যে, উদ্দীপকের উল্লিখিত দুটি ভূমিরূপ পর্বত হলেও প্রত্যেকের মধ্যে সৃষ্টিগত পার্থক্য বিদ্যমান।