| ㅤ | A. Nayan12 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘প্রচণ্ড গরমের দিনে…’ বরিশাল বোর্ড ২০১৯ – উদ্ভিদ শারীরতত্ত্ব, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ১ম পত্র (এইচএসসি)

প্রচণ্ড গরমের দিনে দুপুরে বড় গাছের নিচে কিছুটা শীতল অনুভব করল রাসেল। পরদিন ক্লাসে এর কারণ জানতে চাইলে শিক্ষক বললেন যে, এক প্রকার রন্ধ্রের মধ্য দিয়ে পানি বাষ্প আকারে বেরিয়ে পরিবেশ শীতল রাখে।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৯
একই সময়ে ডিম্বাণুর সঙ্গে একটি পুংগ্যামেটের মিলন ও সেকেন্ডারি নিউক্লিয়াসের সঙ্গে অপর পুংগ্যামেটের মিলন-প্রক্রিয়াকে দ্বিনিষেক বা বলে।
ক্রেবস চক্রকে চক্র বলা হয়। সবাত শ্বসনের যে পর্যায়ে গ্লাইকোলাইসিসে উৎপন্ন পাইরুভিক অ্যাসিড সম্পূর্ণ জারিত হয়ে বিভিন্ন প্রকার জৈব অ্যাসিড তৈরির মাধ্যমে , পানি এবং শক্তি উৎপন্ন করে তাকে ক্রেবস চক্র বলে।
ক্রেবস চক্রের প্রথম উৎপন্ন পদার্থ হলো সাইট্রিক অ্যাসিড, তাই এ চক্রকে সাইট্রিক অ্যাসিড চক্র বলা হয়। এই সাইট্রিক অ্যাসিডে তিনটি কার্বক্সিল () গ্রুপ থাকায় একে ট্রাই-কার্বক্সিলিক অ্যাসিড সাইকেল () বা সংক্ষেপে চক্র বলা হয়।
উদ্দীপকের নির্দেশিত রন্ধ্রটি হলো পত্ররন্ধ্র বা । নিচে একটি আদর্শ পত্ররন্ধ্রের গঠন বর্ণনা করা হলো:
১. রক্ষীকোষ (): প্রতিটি পত্ররন্ধ্র পাতার ত্বকে অবস্থিত দুটি অর্ধচন্দ্রাকৃতির রক্ষীকোষ এবং এদের দিয়ে বেষ্টিত রন্ধ্র নিয়ে গঠিত। পত্ররন্ধ্রের রক্ষীকোষে একটি সুস্পষ্ট নিউক্লিয়াস, বহু ক্লোরোপ্লাস্ট ও ঘন সাইটোপ্লাজম থাকে। রক্ষীকোষে প্রচুর ক্লোরোপ্লাস্ট থাকায় এটি খাদ্য তৈরি করে।
২. সহকারী কোষ (): রক্ষীকোষের চারদিকে সহকারী কোষ থাকে।
৩. বায়ুকুঠুরি (): স্টোমাটার নিচে একটি বড় বায়ুকুঠুরী থাকে।
৪. রন্ধ্রের উন্মুক্ততা: অধিকাংশ উদ্ভিদের পত্ররন্ধ্র সকাল ১০- ১১টা এবং বিকাল ২-৩টায় পূর্ণ খোলা থাকে, অন্যান্য সময় আংশিক খোলা থাকে এবং রাত্রিতে বন্ধ থাকে।
উদ্দীপকের শারীরতাত্ত্বিক প্রক্রিয়াটি হলো প্রস্বেদন বা প্রক্রিয়া। প্রস্বেদন প্রক্রিয়া উদ্ভিদের জন্য বিশেষভাবে প্রয়োজন বা গুরুত্বপূর্ণ। এ প্রক্রিয়ার গুরুত্ব তথা প্রয়োজনীয়তার বিশেষ কারণগুলো নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. পানি শোষণ ও রস উত্তোলন: পাতায় প্রস্বেদনের ফলে বাহিকা নালীতে পানির যে টান পড়ে সেই টান মূলরোম কর্তৃক পানি শোষণে সাহায্য করে থাকে। প্রস্বেদনের ফলে বাহিকা নালীতে পানির যে টান পড়ে তা সরাসরি পানিকে জাইলেম ভেসেলের মাধ্যমে মূল হতে কাণ্ড হয়ে পাতা পর্যন্ত পৌঁছাতে সহায়তা করে।
২. লবণ পরিশোষণ ও খনিজ পরিবহন: প্রস্বেদনের কারণে চারদিক থেকে লবণ উদ্ভিদমূলের কাছাকাছি আসে, তাই উদ্ভিদ সহজে লবণ পরিশোষণ করতে পারে। পাতার প্রতিটি ক্লোরোফিল অণু তৈরি হতে এর দরকার যা অতিদ্রুত মূল হতে পাতা পর্যন্ত পৌঁছে থাকে কেবল প্রস্বেদনের কারণেই।
৩. তাপ নিয়ন্ত্রণ ও শক্তি নির্গমন: প্রস্বেদন গাছকে অত্যধিক গরম হওয়া থেকে রক্ষা করে এবং উপযুক্ত তাপমাত্রা রক্ষা করে। পাতা সূর্য হতে যে প্রচুর শক্তি শোষণ করে, তার অধিকাংশ তাপশক্তি প্রস্বেদনের মাধ্যমে বের হয়ে যায়, নতুবা গাছ অধিক তাপে মরে যেত।
৪. সালোকসংশ্লেষণ ও কোষ বিভাজন: সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে খাদ্য তৈরির জন্য পানির প্রয়োজন। প্রস্বেদন না হলে বিপুল পরিমাণ পানি পাওয়া যেত না, ফলে সালোকসংশ্লেষণ তথা খাদ্য তৈরি কমে যেত। প্রস্বেদন পরোক্ষভাবে কোষের স্ফীতি অবস্থা এবং কোষ বিভাজনে সহায়তা করে।
৫. বৃষ্টিপাত: প্রস্বেদনের ফলে পানি বাষ্পাকারে বের হয়ে গিয়ে আকাশে ঘনীভূত হয়ে মেঘে পরিণত হয় এবং বৃষ্টিপাত ঘটায়।
তাই বলা যায় উদ্ভিদ জীবনে উদ্দীপকের এই শারীরতাত্ত্বিক প্রক্রিয়াটির অর্থাৎ প্রস্বেদনের গুরুত্ব অপরিসীম।