| ㅤ | A. Nayan16 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘প্রেক্ষাপট-১: সাদিকের বাবা…’ রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ ২০২৬ – সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান, পৌরনীতি ও সুশাসন, পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র (এইচএসসি)

প্রেক্ষাপট-১: সাদিকের বাবা ২০ বছর যাবত সরকারি একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত রয়েছে। সম্প্রতি মহামান্য রাষ্ট্রপতি তাকে একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। সংবিধানের ১২৭নং অনুচ্ছেদে পদটির কথা বলা হয়েছে।
প্রেক্ষাপট-২: তিতাস রহমান দীর্ঘদিন যাবৎ অসৎপথে বিপুলবিত্ত বৈভবের মালিক হয়েছে। সম্প্রতি একটি প্রতিষ্ঠান তার অবৈধভাবে উপার্জিত সম্পদের তদন্ত শুরু করে। উক্ত প্রতিষ্ঠানটি আদালতের শরণাপন্ন হন।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ৭
বাংলাদেশ সংবিধানের ১৪০নং অনুচ্ছেদে সরকারি কর্ম কমিশনের দায়িত্ব বা কার্যাবলি সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ১১৮নং অনুচ্ছেদের আওতায় নির্বাচন কমিশন গঠিত হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অনধিক চারজন কমিশনারসহ মোট ৫ জন সদস্য নিয়ে বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশন গঠিত হয়। তাদেরকে রাষ্ট্রপতি নিয়োগ দেন। নির্বাচন কমিশনের সভায় সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার। প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য কমিশনারের মেয়াদ তাদের কার্যভার গ্রহণের তারিখ থেকে ৫ বছর। নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব পালনে সহায়তা করা সরকার ও অন্যান্য কর্তৃপক্ষের কর্তব্য। নির্বাচন কমিশন সংবিধানে বর্ণিত নির্দেশাবলি ছাড়াও দেশের প্রচলিত আইন দ্বারা পরিচালিত হয়।
উদ্দীপকে উল্লেখিত নাফিসা রহমান মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক পদে আছেন।
মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক বাংলাদেশের সংবিধান দ্বারা প্রতিষ্ঠিত একটি পদ। এটি বাংলাদেশ সরকারের আর্থিক ব্যবস্থাপনার সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষ। তাই এই পদে অধিষ্ঠিত ব্যক্তিকে জাতীয় স্বার্থের অভিভাবক হিসেবে দেশের আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ন্ত্রণ করতে হয়। সংবিধানের ১২৭নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী মহা হিসাব-নিরীক্ষক রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিয়োগ লাভ করবেন। দায়িত্ব গ্রহণের তারিখ হতে পাঁচ বছর অথবা তার বয়স ৬৫ বছর পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত তিনি নিজ দায়িত্বে অধিষ্ঠিত থাকবেন।
উদ্দীপকে লক্ষ করা যায়, একটি দেশের সাংবিধানিক পদে অধিষ্ঠিত নাফিসা রহমান দেশের আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ন্ত্রণ করেন। তিনি মহামান্য রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিয়োগ লাভ করেছেন এবং আইন অনুযায়ী চাকরির শেষ সময়সীমা পর্যন্ত তিনি স্বীয় পদে অধিষ্ঠিত থাকবেন। উদ্দীপকের এসব তথ্যের সাথে সাংবিধানিক পদ মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের সাদৃশ্য রয়েছে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে উল্লেখিত নাফিসা রহমান মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক পদে বহাল আছেন।
বাংলাদেশের দুর্নীতি প্রতিরোধে সুলতান আলীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণকারী কমিশন তথা দুর্নীতি দমন কমিশন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, সুলতান আলী চাকরিতে যোগদানের পর ক্ষমতার অপব্যবহার ও অনিয়মের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জন করে ও বিদেশে তা পাচার করে। একটি কমিশন তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে। এখানে দুর্নীতির দমন কমিশনের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। কেননা, দুর্নীতি দমন কমিশন ব্যক্তি এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও কর্মচারীদের সম্ভাব্য দুর্নীতি বিষয়ে অনুসন্ধান ও তদন্ত করে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকে।
দুর্নীতি দমন কমিশন তার ক্ষমতা ও কার্যাবলি যথাযথভাবে প্রয়োগের মাধ্যমে বাংলাদেশের দুর্নীতি প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। দুর্নীতি দমন কমিশনের উদ্দেশ্য হলো দুর্নীতির বেড়াজাল থেকে দেশকে রক্ষা করা। এ কমিশনের গৃহীত ব্যবস্থার মাধ্যমে দেশের দুর্নীতি অনেকটা হ্রাস করা সম্ভব। দুর্নীতি দমন কমিশনকে আইনানুযায়ী সাক্ষী তলব, অভিযোগ সম্পর্কে অভিযুক্তকে জেরা, বেসরকারি দলিলপত্র উপস্থাপন এবং গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশন আইন-২০০৪-এ বলা হয়েছে, দুর্নীতি দমন কমিশন অথবা প্রধান দুর্নীতি দমন কমিশনার যেকোনো স্থানে তার ক্ষমতা প্রয়োগ এবং দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেফতার করতে পারবেন। আইনে আরো বলা হয়েছে, অবৈধ সম্পদ অর্জনকারী ব্যক্তির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা যাবে। এর ফলে সাধারণত ব্যক্তি দুর্নীতি করা থেকে নিজেকে বিরত রাখে। ২০০৪-এর আইনে দুর্নীতি দমন কমিশনকে আরো ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে যে, তার অধস্তন যেকোনো অফিসার দুর্নীতি বিষয়ে তদন্ত করতে পারবেন। দুর্নীতি দমন কমিশন আইন বাস্তবায়নের মাধ্যমে দুর্নীতি দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। কেননা এ আইনের বলে কমিশন দুর্নীতিগ্রস্তদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করলে অন্যরাও দুর্নীতি করার ক্ষেত্রে শাস্তির ভয় পাবে এবং নিজেকে দুর্নীতি মুক্ত রাখতে উদ্বুদ্ধ হবে।
উপরিউক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, দুর্নীতি দমন কমিশন তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব ও ক্ষমতা যথাযথভাবে প্রয়োগের মাধ্যমে বাংলাদেশের দুর্নীতি প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।