| ㅤ | A. Nayan16 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘প্রফেসর গোলাম রব্বানী…’ রাজশাহী কলেজ ২০২৬ – সুশাসন, পৌরনীতি ও সুশাসন, পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র (এইচএসসি)

প্রফেসর গোলাম রব্বানী সম্প্রতি ‘ক’ রাষ্ট্র সফর করেন। তিনি দেখতে পান, সেখানকার রাজনৈতিক ব্যবস্থায় জনগণের মতামত খুবই প্রাধান্য পায়। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সাথে রাষ্ট্রের যাবতীয় কর্মকান্ড পরিচালিত হওয়ায় সরকারের জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ২
বিশ্বব্যাংক সর্বপ্রথম সুশাসন সম্পর্কে ধারণা প্রদান করে।
রাজনৈতিক সংস্কৃতি বলতে কোনো দেশের বিদ্যমান রাজনৈতিক ব্যবস্থার প্রতি জনগণের মনোভাব, মূল্যবোধ, বিশ্বাস, অনুভূতি ও দৃষ্টিভঙ্গির সমষ্টিকে বোঝায়।
রাজনৈতিক সংস্কৃতি কথাটির প্রথম প্রবক্তা হলেন মার্কিন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী গ্যাব্রিয়েল অ্যালমন্ড (Gabriel Almond)। তার মতে, রাজনৈতিক সংস্কৃতি মূলত কোনো রাজনৈতিক ব্যবস্থা এবং এর বিভিন্ন অংশে ব্যক্তির নিজ ভূমিকা সম্পর্কে রাজনৈতিক মনোভাব ও দৃষ্টিভঙ্গির সুনির্দিষ্ট প্রতিকৃতি বা দিকনির্দেশনা। রাজনৈতিক সংস্কৃতি কোনো দেশে রাজনৈতিক ব্যবস্থার দর্পণস্বরূপ। এর মাধ্যমে একটি সমাজের রাজনৈতিক ব্যবস্থার প্রতিচ্ছবি ফুটে ওঠে। একটি রাষ্ট্রের আর্থ-সামাজিক, রাজনৈতিক, ধর্মীয় বিশ্বাস ও মূল্যবোধসহ বিভিন্ন বিষয়ের ভিত্তিতে সেখানকার রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে ওঠে। যেমন- যুক্তরাজ্য, কানাডা, জাপান প্রভৃতি দেশে উন্নত রাজনৈতিক সংস্কৃতি বিদ্যমান। আবার তৃতীয় বিশ্বের উন্নয়নশীল ও অনুন্নত দেশগুলোতে এখনো দুর্বল রাজনৈতিক সংস্কৃতি বিদ্যমান।
‘ক’ রাষ্ট্রের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় সুশাসনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। যে শাসন প্রক্রিয়ায় জনগণের অংশগ্রহণের সুযোগ ও প্রশাসনের জবাবদিহিতা, বৈধতা, স্বচ্ছতা থাকে এবং বাক-স্বাধীনতাসহ সব রাজনৈতিক স্বাধীনতা সুরক্ষার ব্যবস্থা থাকে তাকে সুশাসন বলে। সুশাসনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে প্রশাসনিক কাজের স্বচ্ছতা, সরকারের বৈধতা, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং জনমতের প্রতি গুরুত্ব। চলমান বিশ্বে রাজনৈতিক ক্ষেত্রে সুশাসনের গুরুত্ব সর্বজনস্বীকৃত। সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে রাজনৈতিক ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বিরাজ করে, জনগণের বাক-স্বাধীনতা ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত হয় এবং সরকার ও জনগণের মধ্যে সম্পর্ক দৃঢ় হয় । এর ফলে রাজনৈতিক ব্যবস্থায় স্থিতিশীলতা বিরাজ করে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, প্রফেসর গোলাম রব্বানী 'ক' রাষ্ট্র সফর করেন। তিনি দেখতে পান সেখানকার রাজনৈতিক ব্যবস্থায় জনগণের মতামত প্রাধান্য পায়। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সাথে রাষ্ট্রের যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ায় সরকারের জনপ্রিয়তা বাড়ছে। অর্থাৎ 'ক' রাষ্ট্রের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় সুশাসনের অন্যতম উপাদান জনগণের অংশগ্রহণ, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা পরিলক্ষিত হয়। তাই বলা যায়, ‘ক’ রাষ্ট্রের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় সুশাসনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
উদ্দীপকে বর্ণিত ব্যবস্থা অর্থাৎ, সুশাসন অর্থনৈতিক উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করে— কথাটির সাথে আমি একমত।
সুশাসন হচ্ছে সরকারের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং জনগণের অংশগ্রহণের ভিত্তিতে শাসনকার্য পরিচালনা। রাষ্ট্রের সর্বস্তরে সুশাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা এবং আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে সাম্য সুনিশ্চিত করা সম্ভব।
সুশাসনের আর্থিক নীতি হলো স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ভিত্তিতে রাষ্ট্রীয় অর্থ জনকল্যাণে ব্যয় হবে। সুশাসন রাষ্ট্রের আর্থিক খাতসহ সব উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে। বিশ্বব্যাংকের মতে— 'সুশাসন অর্থ ও মানবসম্পদ ব্যবহারের জন্য দক্ষ এবং উপযুক্ত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে দেশের বাজেট ও হিসাবরক্ষণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহে দক্ষ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠা করে।' সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে জনগণের সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত হয়। সুশাসন প্রতিষ্ঠিত না হলে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বিনষ্ট হয়। রাজনৈতিক দলগুলোর সহিংস আচরণ এবং জ্বালাও-পোড়াও নীতি অবলম্বনের ফলে অর্থনৈতিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়। বিদেশি উদ্যোক্তারা শিল্প-কারখানা স্থাপনে বা পুঁজি বিনিয়োগে আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। ফলে অর্থনীতিতে ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়। কিন্তু সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে বিদেশি উদ্যোক্তারা বিনিয়োগ করে, জাতীয় উৎপাদন বৃদ্ধি পায়, দুর্নীতি হ্রাস পায় এবং রাষ্ট্র অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথে অগ্রসর হয়। পরিশেষে বলা যায়, সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে রাষ্ট্রীয় সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত হয়। ফলে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়।