| ㅤ | A. Nayan13 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘পরিবেশের প্লান্টি জগতে…’ a – ব্রায়োফাইটা ও টেরেডোফাইটা, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ১ম পত্র (এইচএসসি)

পরিবেশের প্লান্টি জগতে প্রায় সকল সদস্য সবুজ ও স্বভোজী। এদের একটি উদ্ভিদ ‘A’ যাদের থ্যালাস দ্ব্যাগ্র শাখাবিশিষ্ট এবং মূলের পরিবর্তে রাইজয়েড থাকে। অপর উদ্ভিদ ‘B’ যাদের দেহ, মূল, কাণ্ড ও পাতায় বিভক্ত এবং এরা শাখাবিহীন। [চট্টগ্রাম বোর্ড ২০১৫]
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৬
যে শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ায় সজীব উদ্ভিদ কোষ অভ্যন্তরস্থ ক্লোরোফিল সূর্যালোকের উপস্থিতিতে CO₂ ও H₂O কে ব্যবহার করে শর্করা জাতীয় খাদ্য উৎপন্ন এবং উপজাত হিসেবে O₂ নির্গত করে তাকে সালোকসংশ্লেষণ বলে।
যেসব উদ্ভিদের আলোক নিরপেক্ষ অধ্যায়ে শুধু C; তথা ক্যালভিন চক্র চলে তাদেরকে C, উদ্ভিদ বলা হয়। এদের পাতার বান্ডলশীথকে ঘিরে মেসোফিল কোষের পৃথক কোনো স্তর থাকে না। C₃ উদ্ভিদ উচ্চতাপমাত্রায় খাপ খাইয়ে নিতে সক্ষম। অধিকাংশ আবৃতবীজী উদ্ভিদে বিশেষ করে দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদে C₃ চক্র চলে। বেশ কিছু একবীজপত্রী উদ্ভিদেও C₃ চক্র দেখা যায়।
উদ্দীপকে আলোচিত 'A' উদ্ভিদটি হলো Riccia এবং 'B' উদ্ভিদটি হলো Pteris। নিচে Riccia ও Pteris উদ্ভিদ দুটির বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করা হলো-
Riccia-এর গ্যামেটোফাইট থ্যালাসবৎ, বিষমপৃষ্ঠ, দ্ব্যাগ্রভাবে শাখান্বিত। শাখান্বিত থ্যালাসটি মধ্যশিরা ও অগ্রস্থ খাঁজবিশিষ্ট। থ্যালাসের অঙ্কীয়দেশে বহুকোষী শল্ক, এককোষী মসৃণ ও অমসৃণ রাইজয়েড থাকে। থ্যালাসটি অভ্যন্তরীণভাবে আত্তীকরণ অঞ্চল ও সঞ্চয়ী অঞ্চল নিয়ে গঠিত। থ্যালাসটির অন্তর্গঠনে অসম্পূর্ণ ঊর্ধ্বত্বক ও সুগঠিত নিম্নত্বক বিদ্যমান। সঞ্চয়ী অঞ্চল বর্ণহীন প্যারেনকাইমা কোষে গঠিত। স্পোরোফাইট সরল ও সম্পূর্ণরূপে গ্যামেটোফাইটের উপর নির্ভরশীল।
আবার, Pteris উদ্ভিদটি স্পোরোফাইট ধরনের। এর দেহ মূল, কাণ্ড ও পাতায় বিভক্ত। কাণ্ড রাইজোমে রূপান্তরিত হয়। রাইজোম র্যামেন্টা নামক শঙ্কপত্র দ্বারা আবৃত থাকে। পাতা যৌগিক, কচি অবস্থায় কুন্ডলিত থাকে। স্পোর একই রকম। স্পোরাঞ্জিয়াম একত্রিত হয়ে পত্রকের কিনারায় সোরাস গঠন করে। স্পোরাঞ্জিয়াম ফলস্ ইন্ডুসিয়াম দিয়ে ঢাকা থাকে। আর এর গ্যামোটোফাইট তথা, প্রোথ্যালাস সবুজ, হৃৎপিণ্ডাকার এবং সহবাসী। গ্যামোেটাফাইট স্পোরোফাইটের উপর নির্ভরশীল।
উদ্দীপকে উল্লিখিত B উদ্ভিদটি হলো Pteridophyta বিভাগের Pteris। নিচে Pteris এর জীবনচক্র বিশ্লেষণ করা হলো-
কোনো জীবের জন্ম অবস্থা হতে ক্রমে বৃদ্ধি, জনন প্রভৃতি পর্যায় অতিক্রম করে পুনরায় ঐ অবস্থার পুনর্জন্ম দেওয়ার চক্রীয় ধারাকে ঐ জীবের জীবনচক্র বলে। জীবের জীবনচক্রে গ্যামেটোফাইটিক জনুর সাথে স্পোরোফাইটিক জনুর পর্যায়ক্রমে আবির্ভাবকে জনুক্রম বলে। Pteris উদ্ভিদে সুস্পষ্ট জনুক্রম বিদ্যমান, কারণ এখানে স্পোরোফাইটিক জনুর সাথে গ্যামেটোফাইটিক জনুর অনুক্রমের মাধ্যমে জীবনচক্র সম্পূর্ণ হয়। Pteris উদ্ভিদ স্পোরোফাইট তথা ডিপ্লয়েড (2n)। এটি হতে উৎপন্ন সোরাস, সোরাসে অবস্থিত স্পোরাঞ্জিয়াম এবং স্পোরাঞ্জিয়ামের ক্যাপসিউলের ভেতরে অবস্থিত স্পোর মাতৃকোষও ডিপ্লয়েড।
স্পোর মাতৃকোষ মায়োসিস প্রক্রিয়ায় বিভাজিত হয়ে হ্যাপ্লয়েড (n) স্পোর উৎপন্ন করে যা গ্যামেটোফাইটের ১ম ধাপ। এই হ্যাপ্লয়েড স্পোর অঙ্কুরিত হয়ে হ্যাপ্লয়েড প্রোথ্যালাস নামক স্বতন্ত্র গ্যামেটোফাইটিক পর্যায়ের সৃষ্টি করে। প্রোথ্যালাসে সৃষ্ট আর্কিগোনিয়াম, অ্যাম্বেরিডিয়াম এবং এদের ভেতর সৃষ্ট ডিম্বাণু ও শুক্রাণু সবই হ্যাপ্লয়েড। এদের মধ্যে নিষেকের ফলে সৃষ্টি হয় ডিপ্লয়েড উওস্পোর (2n) যা স্পোরোফাইটিক পর্যায়ের ১ম ধাপ। উওস্পোর অঙ্কুরিত হয়ে এবং ক্রমাগত মাইটোসিস প্রক্রিয়ায় বিভাজিত হয়ে সৃষ্টি করে নতুন স্বভোজী স্পোরোফাইটিক Pteris উদ্ভিদ। Pteris উদ্ভিদে স্পোরোফাইটিক পর্যায় দীর্ঘ, গ্যামেটোফাইট পর্যায় বেশ সংক্ষিপ্ত। তাই উদ্দীপকে উল্লিখিত উদ্ভিদের উভয় পর্যায়ের তথা গ্যামেটোফাইটিক ও স্পোরোফাইটিক পর্যায়ের আকার আকৃতি ভিন্ন প্রকৃতির ও স্বতন্ত্র। তাই এরূপ জনুক্রমকে হেটারোমরফিক জনুক্রম বলে।