| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘পরিচয়ে আমি বাঙালি,…’ যশোর বোর্ড ২০২৩ – ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯, পদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

পরিচয়ে আমি বাঙালি, আমার আছে ইতিহাস গর্বের-
কখনোই ভয় করিনিকো আমি উদ্যত কোন পরো
শত্রুর সাথে লড়াই করেছি, স্বপ্নের সাথে বাস;
অস্ত্রেও শান দিয়েছি যেমন শস্য করেছি চাষ;
একই হাসি মুখে বাজিয়েছি বাঁশি গলায় পড়েছি ফাঁস
আপস করিনি কখনোই আমি—এই হলো ইতিহাস।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ২০
ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতায় কৃষ্ণচূড়া ফুলের উল্লেখ রয়েছে।
বাঙালির বেঁচে থাকার ও দাবি-দাওয়ার স্বাভাবিক পরিবেশের অভাবের কথাই ব্যক্ত করা হয়েছে এখানে।
পাকিস্তানিরা বাঙালিদের সর্বদা অত্যাচার, শোষণ, নির্যাতন করেছে। তাদের কাছ থেকে যে-কোনো দাবি-দাওয়া আদায় করতে গিয়ে নির্বিচারে মরতে হয়েছে বাঙালিদের। ভাষার দাবিতে যেমন প্রাণ দিতে হয়েছে ১৯৫২ সালে বাঙালিদেরকে, ১৯৬৯ সালেও ছয় দফা দাবি আদায় করতে গিয়ে ঠিক তেমনই হয়েছে। এখনো বীরের রক্তে দুখিনী মাতার অশ্রুজলে ফোটে ফুল বাস্তবতার বিশাল চত্বরে হৃদয়ের হরিৎ উপত্যকায় কথাটি দ্বারা পাকিস্তানিদের শাসনামলে বাঙালির বৈরী সময়ের কথাই বোঝানো হয়েছে।
উদ্দীপকের ইতিহাস প্রসঙ্গ এবং 'ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতার ঐতিহ্য চেতনা পরস্পর সাদৃশ্যপূর্ণ ।
‘ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতাটি বাঙালির চেতনাগত উৎকর্ষের পটভূমিতে রচিত। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের ক্রমধারায় ছাত্র অসন্তোষকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা আন্দোলন ১৯৬৯ সালে ব্যাপক গণ-আন্দোলনে রূপ নেয়। বিষয়টিকে উপজীব্য করে কবি শামসুর রাহমান তাঁর কবিতায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সংগ্রামী ঐতিহ্য চেতনার অসাধারণ এক শিল্পভাষ্য নির্মাণ করেছেন।
উদ্দীপকে বাঙালির সংগ্রামী ইতিহাসকে গর্বের সাথে স্মরণ করা হয়েছে। বাঙালি ভীরুর জাতি নয়। যখন খড়গ হাতে শত্রুর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর সময় এসেছে, বাঙালি তখন বীর বেশেই শত্রুর মোকাবিলা করেছে। আবার স্বাধীনতা অর্জনের পর যখন দেশ পুনর্গঠনের জন্য কাজ করতে হয়েছে, তখন বাঙালি একযোগে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করেছে।
সুতরাং উদ্দীপকে বাঙালির সক্রিয় ইতিহাস ফুটে উঠেছে যা আলোচ্য কবিতায় ফুটে ওঠা বাঙালির ভাষা আন্দোলন এবং ১৯৬৯ সালের গণ অভ্যুত্থানের গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহ্যের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ ।
উদ্দীপক এবং 'ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতা বাঙালির স্বতঃস্ফুর্ত সংগ্রামী চেতনার এক অসাধারণ শিল্পভাষ্য"- মন্তব্যটি যথার্থ ।
‘ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতা একই সঙ্গে সংগ্রামী চেতনা, দেশপ্রেম ও গণ- জাগরণের কবিতা। এর প্রেক্ষাপটে আছে সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে ভাষা আন্দোলন এবং এই চেতনার নিরিখে পরে উনসত্তরের সংঘটিত হওয়ার প্রসঙ্গ। এ কবিতায় শোষণ ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো ও আত্মাহুতি দেওয়া বীর জনতাকে তিনি প্রতীকায়িত করেছেন। উদ্দীপকে বাঙালির সংগ্রামী চেতনা প্রকাশ পেয়েছে। শত অত্যাচার ও নিপীড়নের মুখেও বাঙালি জাতি নতি স্বীকার করেনি। জ্বলে পুড়ে মরে ছারখার হলেও স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে তারা বারবার অস্ত্র হাতে প্রতিবাদী রূপ নিয়ে দাঁড়িয়েছে এবং জয় লাভ করেছে।
‘ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতায় কবি পাকিস্তানি শাসনামলে স্বতন্ত্র জাতি সত্তা হিসেবে বাঙালির আত্মজাগরণ এবং এই পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৬৯ সালের গণ-আন্দোলনের প্রসঙ্গ উপস্থাপন করেছেন। এই কবিতায় কবি দেখিয়েছেন যে অন্যায়-অত্যাচারের বিরুদ্ধে বাঙালি জাতি সবসময় সোচ্চার থেকেছে। আলোচ্য কবিতায় বিধৃত এই সংগ্রামী চেতনার বিষয়টি উদ্দীপকের কবিতাংশেও গুরুত্বের সঙ্গে উপস্থাপন করা হয়েছে। বিদেশি শত্রুর সীমাহীন অন্যায়ের মুখেও বাঙালি নতি স্বীকার না করে প্রতিরোধ গড়ে তোলে।
তাই বলা যায়, উদ্দীপক এবং 'ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতা বাঙালির স্বতঃস্ফুর্ত সংগ্রামী চেতনার এক অসাধারণ শিল্পভাষ্য।