| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘‘পরিচয়ে আমি বাঙালি,…’ নটরডেম কলেজ ২০২৪ – আমি কিংবদন্তির কথা বলছি, পদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

‘পরিচয়ে আমি বাঙালি, আমার আছে ইতিহাস গর্বের-
কখনোই ভয় করি নাকো আমি উদ্যত কোনো খড়গের।
শত্রুর সাথে লড়াই করেছি, স্বপ্নের সাথে বাস;
অস্ত্রেও শান দিয়েছি যেমন শস্য করেছি চাষ;
একই হাসিমুখে বাজায়েছি বাঁশি, গলায় পরেছি ফাঁস;
আপস করিনি কখনোই আমি- এই হলো ইতিহাস ।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ২৩
‘কমলের চোখ' একটি কাব্যগ্রন্থ।
‘সশস্ত্র সুন্দরের অনিবার্য অভ্যুত্থান কবিতা' বলতে মুক্তির লক্ষ্যে সশস্ত্র অভ্যুত্থানকে সুন্দর হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
মুক্তির জন্য চাই যুদ্ধ। চাই সশস্ত্র অভ্যুত্থান। বৃদ্ধ মানুষের জীবনে মৃত্যু আর হাহাকার নিয়ে আসে, আবার নিয়ে আসে স্বাধীনতার সৌন্দর্য, মুক্তির আনন্দ। জাতীয় জীবনে স্বাধীনতা সর্বাগ্রে প্রয়োজন। তাই কবির মতে, সশস্ত্র অভ্যুত্থান সুন্দর দৃশ্য, যা কবিতার মতোই প্রাণসঙ্কারী ও শৈল্পিক । আলোচ্য লাইন দ্বারা এটাই বোঝানো হয়েছে।
'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতায় বর্ণিত ঐতিহ্যচেতনার সাথে উদ্দীপকে বর্ণিত ইতিহাস প্রসঙ্গের সাদৃশ্য বিদ্যমান
কোনো জাতি ইতিহাসের ঘটনাপ্রবাহের মধ্য দিয়েই তার অতীত সম্পর্কে ধারণা পায়। 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতার কবি তাঁর পূর্বপুরুষের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের কথা বর্ণনা করেছেন। কবিতার সমগ্রতা জুড়ে রয়েছে এ দেশে শাসক-শোষকদের নিপীড়নের কথা এবং বাঙালির বীরত্বের কথা।
উদ্দীপকে সাহসী বাঙালিদের পরিচয় বিধৃত হয়েছে। বাঙালিরা স্বপ্নের বাস্তবায়নের জন্য শত্রুর সাথে লড়াই করতে পিছপা হয় না। উদ্যত খড়্গগকে তারা ভয় পায় না। শত্রুর সাথে আপস না করে বাঙালি সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত। ‘আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতায়ও শোষকদের কথা যেমন এসেছে, তেমনি বাঙালির বীরত্বগাথাও প্রতিফলিত হয়েছে। উদ্দীপকের ইতিহাস প্রসঙ্গ তাই ‘আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতার ঐতিহ্যের চেতনার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
উদ্দীপকে প্রতিফলিত সংগ্রামী চেতনা 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতার ভাবসত্যকে সম্পূর্ণরূপে ধারণ করতে পেরেছে।
বাঙালির রয়েছে সুদীর্ঘ সংগ্রামী ইতিহাস । বহু ত্যাগ-তিতিক্ষার মধ্য দিয়ে বাঙালি তার আত্মপরিচয় অর্জন করেছে। ন্যায্য অধিকার আদায়ে কখনো পিছপা হয়নি। ধীরে ধীরে ঐক্য প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বাঙালি তার মুক্তির পথে এগিয়েছে। শত্রুকে পরাজিত করেছে, শোষকদের নির্মূল করেছে। উদ্দীপকে সাহসী বাঙালিদের পরিচয় বিধৃত হয়েছে। বাঙালিরা স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য শত্রুর সাথে লড়াই করতে পিছপা হয় না। উদ্যত খড়্গগকে তারা ভয় পায় না। শত্রুর সাথে আপস না করে বাঙালি সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত। শোষণমুক্ত হওয়ার জন্য হাসিমুখে গলায় ফাঁস নিতেও দ্বিধা বোধ করে না ।
'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতায় ঐতিহ্যসচেতন শিকড়সন্ধানী মানুষের মুক্তির কথা বলা হয়েছে। এখানে কবি বাঙালির ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংগ্রামী চেতনা নির্দেশ করে শোষকদের নির্যাতনের কথা তুলে ধরেছেন। বিষয়টির সঙ্গে উদ্দীপকে প্রতিফলিত সংগ্রামী চেতনার সংহতরূপ। কারণ, এতে কবি বাঙালির আত্মপরিচয় দিতে গিয়ে সংগ্রামী চেতনাকে তুলে ধরেছেন । সুতরাং উদ্দীপকে বর্ণিত সংগ্রামী চেতনা 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতার ভাবসত্যকে অনেকখানি ধারণ করতে পেরেছে।