| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘”পরিচয়ে আমি বাঙালি,…’ ঢাকা বোর্ড ২০১৮ – আমি কিংবদন্তির কথা বলছি, পদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

“পরিচয়ে আমি বাঙালি, আমার আছে ইতিহাস গর্বের-
কখনোই ভয় করিনিকো আমি উদ্যত কোনো খড়গের।
শত্রুর সাথে লড়াই করেছি, স্বপ্নের সাথে বাস;
অস্ত্রেও শান দিয়েছি যেমন শস্য করেছি চাষ;
একই হাসিমুখে বাজিয়েছি বাঁশি, গলায় পরেছি ফাঁস
আপস করিনি কখনোই আমি- এই হলো ইতিহাস।”
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ২৩
'কিংবদন্তি' শব্দের অর্থ- জনশ্রুতি।
বাঙালি জাতির ওপর অত্যাচারের ইতিহাস ব্যক্ত করতে গিয়ে কবি প্রশ্নোক্ত উক্তিটি করেছেন।
'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতায় কবি আমাদের পূর্বপুরুষদের সম্পর্কে বলেছেন। শত্রুরা আমাদের পূর্বপুরুষের ওপর যে অত্যাচার ও নির্যাতন করেছিল তা এখনো তাজা রয়েছে বোঝাতেই রক্তজবার প্রসঙ্গ ব্যবহৃত হয়েছে। পরাধীনতার কারণে পূর্বপুরুষদের ওপর বারবার অমানুষিক অত্যাচার নেমে এসেছে। বিদেশি শত্রুরা আমাদের সাথে ক্রীতদাসের মতো আচরণ করেছে। পূর্বপুরুষদের পরাধীনতা ও তাদের সেই অত্যাচারের মাত্রা বোঝাতেই আলোচ্য চরণটির অবতারণা করা হয়েছে।
উদ্দীপকে বর্ণিত বাঙালির হাজার বছরের ইতিহাস বর্ণনার সঙ্গে 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতায় বর্ণিত ঐতিহ্যের চেতনাগত সাদৃশ্য পরিলক্ষিত হয়।
'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতাটি রচনার প্রেক্ষাপটে আছে বাঙালির জীবন-সংস্কৃতির চিরায়ত রূপ। এখানে আলোচিত হয়েছে বাঙালি জাতির সংগ্রাম, বিজয় ও মানবিক উদ্ভাসনের নানা দিক। বাঙালির পূর্বপুরুষের সাহসিকতার গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের কথা উপস্থাপিত হয়েছে। কবিতাটিতে। এই ইতিহাস মাটির কাছাকাছি থাকা মানুষদের ইতিহাস, যারা বাংলার অনার্য কৃষিজীবী সম্প্রদায়।
উদ্দীপকে দীর্ঘ পথ-পরিক্রমার মধ্য দিয়ে এগিয়ে চলা বাংলা ও বাঙালির গৌরবময় ইতিহাসের কথা ব্যক্ত হয়েছে। এখানে উঠে এসেছে অন্যায়ের কাছে বাঙালির হার না মানা মনোভাবের দিকটি। বাংলার মানুষ হৃদয়ে সোনালি স্বপ্নের বীজ বপনের পাশাপাশি শত্রুর সাথে লড়াই করেছে দ্বিধাহীন চিত্তে। বাঙালির প্রকৃত ইতিহাস হলো শত্রুর সাথে কখনোই আপস না করার ইতিহাস। 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতাতেও এই ইতিহাসের কথাই বর্ণিত হয়েছে, যার প্রবহমানতায় যুগে যুগে বিজয়ী হয়েছে বাঙালি। তাই বাঙালি জাতির ইতিহাসের পটভূমিতে উদ্দীপকের কবিতাংশ আলোচ্য কবিতার সঙ্গে চেতনাগত সাদৃশ্য রক্ষা করেছে।
"উদ্দীপকে প্রতিফলিত সংগ্রামী চেতনা যেন 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতার ভাবসত্যের সংহতরূপ”- মন্তব্যটি যথার্থ।
'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতায় পরাধীনতার গ্লানি থেকে উত্তরণের জন্য বাঙালির দীর্ঘ সংগ্রামের ইতিহাস উঠে এসেছে। এ কবিতায় উচ্চারিত হয়েছে শিকড়সন্ধানী মানুষের সর্বাঙ্গীণ মুক্তির ঘোষণা। কবি তাঁর লেখনীর মধ্য দিয়ে আমাদের পূর্বপুরুষদের সাহসী ও গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের কথা উপস্থাপন করেছেন।
উদ্দীপকে বাঙালির আবহমান কালের সমৃদ্ধি ও শৌর্য-বীর্যের কথা অঙ্কিত হয়েছে। ইতিহাস অনুসন্ধানে দেখা যায়, বাঙালি কৃষিকাজে সমৃদ্ধি অর্জনের পাশাপাশি প্রস্তুত থেকেছে শত্রুকে মোকাবিলার জন্য। তাই মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় অস্তিত্বের প্রয়োজনে বাঙালি সহজেই হাতে তুলে নিতে পেরেছিল আগ্নেয়াস্ত্র। সেই অস্ত্রের আঘাতে শত্রুরা আত্মসমর্পণে বাধ্য হয়েছিল এবং এভাবেই রচিত হয়েছিল বাঙালির নতুন ইতিহাস।
'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতায় বাঙালির বীরত্বের পরিচয় ফুটে উঠেছে। দীর্ঘ সংগ্রামের পথ পাড়ি দিয়ে আমরা ছিনিয়ে এনেছি আমাদের কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা। পরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ আমাদের পূর্বপুরুষদের দীর্ঘদিন ধরে সহ্য করতে হয়েছে সীমাহীন দুর্ভোগ। কিন্তু মুক্তিসংগ্রামীদের অদম্য মানসিকতার ফলেই আমরা পেয়েছি মুক্তির আনন্দ। অপরদিকে, উদ্দীপকেও বাঙালির আপসহীন মানসিকতার পরিচয় ফুটে উঠেছে। বাঙালি যে অস্ত্র দিয়ে শস্য চাষ করেছে, সেই অস্ত্র দিয়েই দেশকে শত্রুমুক্ত করেছে। সুতরাং, উদ্দীপকে বাঙালির যে আপসহীন মনোভাবের দিকটি উঠে এসেছে আলোচ্য কবিতায়, তা আরও সংহতরূপে প্রকাশ পেয়েছে। তাই প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটিকে যথার্থ বলা যায়।