| ㅤ | A. Nayan13 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘পরিপাকতন্ত্রের কাজগুলো স্নায়বিক…’ কুমিল্লা ক্যাডেট কলেজ ২০২৬ – পরিপাক ও শোষণ, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি)

পরিপাকতন্ত্রের কাজগুলো স্নায়বিক এবং হরমোনাল সাড়াদানের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হয়। মস্তিষ্ক ক্ষুধা এবং তৃপ্তির অনুভূতি নিয়ন্ত্রণের কেন্দ্র। অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি তন্ত্র শরীরের বিভিন্ন গ্রন্থির কাজ এবং সঠিক সময়ে হরমোন নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণ করে।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ৩
রুই মাছের মেরুদণ্ডের নিচে ও পৌষ্টিকনালির ওপরে অবস্থিত ও যোজক টিস্যুতে গঠিত পাতলা প্রাচীর বিশিষ্ট থলিটিই হলো বায়ুথলি বা পটকা।
বৃক্কের কর্টেক্স অঞ্চলে অবস্থিত গোলাকার থলে আকৃতির অংশকে ম্যালপিজিয়ান বডি বলে। এটি নেফ্রনের অগ্রভাগে অবস্থিত। বোম্যানস ক্যাপসুল ও গ্লোমেরুলাসের সমন্বয়ে ম্যালপিজিয়ান বডি গঠিত। ম্যালপিজিয়ান বডির অভ্যন্তরে কৌশিক জালিকা গুচ্ছকে গ্লোমেরুলাস বলে। অন্যদিকে ঘাসফড়িং-এর মধ্যঅন্ত্র ও পশ্চাৎঅন্ত্রের সংযোগস্থলে সূক্ষ্ম সুতার ন্যায় হালকা হলুদ বর্ণের কতগুলো নালিকা গুচ্ছাকারে অবস্থান করে। এদের মালপিজিয়ান নালিকা বলা হয়। এ নালিকাগুলো হিমোসিলের হিমোলিম্ফে ভাসমান অবস্থায় থাকে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত তন্ত্র হলো পরিপাকতন্ত্র। পরিপাকতন্ত্রের যাবতীয় কাজ মূলত নিউরন বা স্নায়ুকোষের একটি জটিল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হয়। আমাদের পৌষ্টিক নালির দেওয়ালে অসংখ্য নিউরন থাকে, যা 'এন্টারিক নার্ভাস সিস্টেম' গঠন করে। এই নিউরনগুলো প্রধানত দুটি স্নায়ুজালক বা প্লেক্সাস হিসেবে বিন্যস্ত থাকে যেমন-মায়েনটেরিক প্লেক্সাস এবং সাবমিউকোসাল প্লেক্সাস। মায়েনটেরিক প্লেক্সাসের নিউরনগুলো পৌষ্টিক নালির পেশির সংকোচন-প্রসারণ বা পেরিস্টালসিস নিয়ন্ত্রণ করে। অন্যদিকে, সাবমিউকোসাল প্লেক্সাসের নিউরনগুলো বিভিন্ন পরিপাক রস নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণ করে। এছাড়া কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের ভেগাস স্নায়ুর মতো মোটর নিউরনগুলো মস্তিষ্ক থেকে পাকস্থলিতে সংকেত বহন করে নিয়ে আসে। সেফালিক পর্যায়ে যখন আমরা খাবারের ঘ্রাণ পাই বা স্বাদ গ্রহণ করি, তখন সংবেদী নিউরনগুলো সেই উদ্দীপনা মস্তিষ্কে পাঠায় এবং সেখান থেকে নিউরনের মাধ্যমেই সংকেত এসে লালা ও গ্যাস্ট্রিক রস ক্ষরণ শুরু করে। এভাবে নিউরনগুলো একটি নিরবিচ্ছিন্ন সমন্বায়ক হিসেবে কাজ করার মধ্যমে পরিপাকতন্ত্রের সঞ্চালন ও এনজাইম নিঃসরণ সুচারুভাবে সম্পন্ন করে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত তন্ত্রটি বলতে পরিপাকতন্ত্রকে নির্দেশ করা হয়েছে। পরিপাকতন্ত্রের বিভিন্ন গ্রন্থি থেকে এনজাইম নিঃসরণ, অঙ্গের সঞ্চালন এবং শোষণের কৌশল মূলত একগুচ্ছ হরমোন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো-
নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণ: গ্যাস্ট্রিন হরমোন পাকস্থলির দেওয়ালে থাকা কোষগুলোকে উদ্দীপিত করে গ্যাস্ট্রিক রস এবং হাইড্রোক্লোরিক এসিড নিঃসরণ করায়। আবার সিক্রেটিন ও কোলেসিস্টোকাইনিন হরমোনদ্বয় অগ্ন্যাশয় থেকে এনজাইমসমৃদ্ধ রস এবং পিত্তথলি থেকে পিত্তরস নিঃসরণে প্রধান ভূমিকা পালন করে।
গতি ও সঞ্চালন নিয়ন্ত্রণ: পেপটাইড YY হরমোন অন্ত্রের ভেতর খাদ্যের গতিকে ধীর করে দেয়, যাতে খাদ্যবস্তু সঠিকভাবে পরিপাক ও শোষিত হওয়ার সময় পায়। অন্যদিকে ভিল্লিকাইনিন হরমোন ক্ষুদ্রান্ত্রের ভিলাসগুলোর সঞ্চালন বাড়িয়ে শোষণ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করে।
ভারসাম্য রক্ষা: সোমাটোস্ট্যাটিন এবং গ্যাস্ট্রিক ইনহিবিকটরি পেপটাইড (GIP) হরমোনগুলো অতিরিক্ত রস নিঃসরণ কমিয়ে দিয়ে এবং পাকস্থলি থেকে অন্ত্রে খাদ্যের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করে পরিপাকতন্ত্রে ভারসাম্য বজায় রাখে।
গ্রন্থির উদ্দীপনা: এন্টারোকাইনিন এবং ডিওক্রাইনিন হরমোনগুলো আন্ত্রিক গ্রন্থিকে আন্ত্রিক রস ও মিউকাস ক্ষরণে উদ্বুদ্ধ করে যা পরিপাক নালির আস্তরণকে রক্ষা করে।
উপরের আলোচনা থেকে বলা যায়, খাদ্যের উপস্থিতি শনাক্ত করা থেকে শুরু করে এনজাইমের সঠিক মাত্রা নিশ্চিত করা এবং শোষণ সম্পন্ন করা পর্যন্ত প্রতিটি ধাপেই হরমোনগুলো রাসায়নিক বার্তাবাহক হিসেবে কাজ করে। তাই পরিপাকতন্ত্রের সকল কাজের কৌশল হরমোন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত – এই বক্তব্যটি সম্পূর্ণ যথার্থ।