| ㅤ | A. Nayan13 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘পরিস্ফুটনের পূর্বশর্ত হচ্ছে…’ দিনাজপুর বোর্ড ২০২৫ – প্রাণীর পরিচিতি, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি)

পরিস্ফুটনের পূর্বশর্ত হচ্ছে জাইগোট গঠন। বাগানে লাফিয়ে চলা সন্দ্বিপদী প্রাণীর বিকাশে নানা ধরনের পরিবর্তনের মাধ্যমে শিশু প্রাণীর জন্ম হয়। এদের যৌন দ্বিরূপতা সুস্পষ্ট।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ২
যেসব প্রাণীর 'কাইটিনময় বহিঃকঙ্কাল; মস্তক, বক্ষ ও উদর বিশিষ্ট দেহ, তিনজোড়া সন্ধিযুক্ত পা, জটিল পুঞ্জাক্ষি এবং একজোড়া অ্যান্টেনা বহন করে এদের পতঙ্গ বলা হয়।
ঘাসফড়িং এর সকল পায়ের গঠন একরকম নয়। এদের বক্ষের শেষ খণ্ডের বা পশ্চাৎবক্ষের পা দুইটির ফিমার অংশ বিশেষভাবে লম্বা ও মাংসল হয়, যা লাফিয়ে চলার উপযোগী। এ ধরনের পা কে স্যালটাটোরিয়াল পা বলে। ঘাসফড়িং এর পা হাঁটা, আরোহণ ও খাদ্য ধরতে ব্যবহৃত হয়।
উদ্দীপকের প্রাণীটি হলো Arthropoda পর্বের সন্দ্বিপদী প্রাণী ঘাসফড়িং। ঘাস ফড়িং এর দেহকে তিনটি অঞ্চলে ভাগ করা হয়। যথা-মস্তক, বক্ষ এবং উদর। স্ত্রী ঘাসফড়িং এর উদরাঞ্চল যেসব অঙ্গগুলো বহন করে নিচে তার বর্ণনা দেয়া হলো-
স্ত্রী ঘাসফড়িং এর উদির বেশ লম্বা, সরু ও ১১ খণ্ডকে বিভক্ত। প্রত্যেক খন্ডকের পৃষ্ঠদেশে। টার্গাম এবং অঙ্কীয়দেশে স্টার্নাম থাকে, কোনো প্লিউরন থাকে না। ১ম উদরীয় খণ্ডকটি অসম্পূর্ণ, কারণ এর স্টার্নাম পশ্চাৎবক্ষের সাথে যুক্ত থাকে। এতে শুধু টার্গাম থাকে। ঘাসফড়িং এর উদরাঞ্চলে নিচে বর্ণিত অঙ্গগুলো বহন করে।
১. টিমপেনাম: ১মাখন্ডকের প্রতিপাশে একটি করে পর্দা রয়েছে যা শ্রবণ অঙ্গ বা শ্রবণ থলিকে আবৃত রাখে। এর নাম টিমপেনিক পর্দা বা টিমপেনাম।
২. শ্বাসরন্দ্র: ১ম থেকে ৮ম দেহ খণ্ডক পর্যন্ত প্রতিটি খন্ডকের পার্শ্বদেশে এক জোড়া করে মোট আটজোড়া শ্বাসরন্দ্র বা স্পাইরাকল থাকে যার প্রথমটি অন্যগুলো হতে আকারে বড়।
৩.পায়ু ও বহিঃজননাঙ্গ: স্ত্রী ঘাসফড়িং এর উদর পুরুষটির উদরঅপেক্ষা চাপা ও সোজা সূচালো। ৯ম স্টার্নাম লম্বাকৃতির যা স্ত্রী জননছিদ্র ধারণ করে। স্ত্রী প্রাণীদের উদরের শেষ প্রান্তে ৮ম ও ৯ম খণ্ড অঙ্কীয়ভাবে একটি লম্বা নলাকৃতি বিশেষ অঙ্গ তৈরি করে, যা ওভিপজিটর নামে পরিচিত। স্ত্রী জননছিদ্রের মাধ্যমে বেরিয়ে আসা ডিম্বাণুগুলো এসে সাময়িক সময়ের জন্য জমা থাকে ও পরে দেহ থেকে আলাদা হয়। এটি মাটি অথবা গাছে ত্যাগকৃত ডিম্বাণুগুলো রাখার স্থান নির্মানেও ব্যবহৃত হয়।
উদ্দীপকের আলোকে প্রাণীটি হলো Arthopoda পর্বের সন্দ্বিপদী প্রাণী ঘাসফড়িং। ঘাসফড়িং এর রূপান্তরের প্রক্রিয়া ও এতে হরমোনের ভূমিকা নিচে আলোচনা করা হলো-
ঘাসফড়িং এর রূপান্তরের প্রক্রিয়া:
ঘাসফড়িং-এর নিম্ফ থেকে পূর্ণাঙ্গ ঘাসফড়িং সৃষ্টি একটি "হেমিমেটা বোলাস" বা অসম্পূর্ণ ধরনের রূপান্তর প্রক্রিয়া। এ প্রক্রিয়ায় খোলস মোচন প্রক্রিয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে।সদ্য পরিস্ফুটিত নিম্ফের কাইটিন নির্মিত বহিঃকঙ্কাল থাকে যা স্বচ্ছ ও গাঢ় হতে থাকে। একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ের এ নিম্ফ একটু বড় হলে বহিঃকঙ্কাল আঁটসাঁট হয়ে দেহবৃদ্ধি রহিত করে দেয় তখন দেহবৃদ্ধি স্বাভাবিক রাখতে পুরনো বহিঃকঙ্কাল মোচন প্রক্রিয়ায় ত্যাগ করতে হয়। নিম্ফ তখন ২য় ধাপের নিম্ফে পরিণত হয়। পরবর্তীতে আরো ৪ বার খোলস মোচনের পর পূর্ণাঙ্গ ঘাসফড়িং-এ রূপান্তরিত হয়। দ্বিতীয় ধাপের নিম্ফে ক্ষুদ্রাকার ডানা প্যাড থেকে ডানা সৃষ্টির সূত্রপাত ঘটে। প্রতিবার খোলস মোচনের পর নিম্ফ দেখতে পূর্ণাঙ্গ ঘাসফড়িং-এর মতো দেখায়। দুটি খোলস পরিবর্তনের মধ্যবর্তী সময়কালকে ইনস্টার বলে। শেষবার খোলস মোচনের মাধ্যমে সৃষ্ট দশাকে ইমাগো বলা হয়। পাখা ও জননাঙ্গের গঠন সম্পূর্ণ হলে ইমাগো দশাটি পরিণত ঘাসফড়িং হয়ে উঠে।
ঘাসফড়িং এর রূপান্তরে হরমোনের ভূমিকা:
ঘাসফড়িং-এর দেহে চার ধরনের অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি বিদ্যমান। এগুলো হলো- ইন্টারসেরিব্রাল গ্রন্থিকোষ, প্রোথোরাসিক গ্রন্থি, কর্পোরা অ্যালাটা এবং কর্পোরা কার্ডিয়াকা। এদের মধ্যে প্রথম তিনটি গ্রন্থি ক্ষরিত হরমোন প্রাণীর রূপান্তরে মুখ্য ভূমিকা রাখে। রূপান্তরের শুরুতে মস্তিষ্কের ইন্টারসেরিব্রাল গ্রন্থিকোষ থেকে প্রোথোরাসিকোট্রপিক হরমোন ক্ষরিত হয়ে প্রোথোরাসিক গ্রন্থিকে একডাইসন হরমোন ক্ষরণে উদ্দীপিত করে। একডাইসন হরমোন ক্ষরিত হলে প্রাণীর নির্মোচন প্রক্রিয়া শুরু হয়। এ হরমোন দেহের কোষ-কলাকে বৃদ্ধির জন্য উদ্দীপিত করে। একই সময়ে কর্পোরা অ্যালাটা গ্রন্থি থেকে জুভেনাইল হরমোন ক্ষরিত হয় যা দেহের অস্বাভাবিক দ্রুত বৃদ্ধি প্রতিহত করে। প্রকৃতপক্ষে জুভেনাইল হরমোনের প্রভাবে। ঘাসফড়িংয়ের নিম্ফ দশা দীর্ঘ হয়। এক সময় কর্পোরা অ্যালাটার কার্যক্রম রহিত হয় এবং একডাইসন হরমোনের প্রভাবে প্রাণীর দ্রুত নির্মোচন ঘটে এবং রূপান্তরের মাধ্যম পূর্ণাঙ্গ প্রাণীতে পরিণত হয়।