| ㅤ | A. Nayan16 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘পৃথিবীর বিভিন্ন রাষ্ট্রে…’ ক্যান্টনমেন্ট কলেজ – সুশাসন, পৌরনীতি ও সুশাসন, পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র (এইচএসসি)

পৃথিবীর বিভিন্ন রাষ্ট্রে যথেষ্ট প্রাকৃতিক ও মানবসম্পদ থাকা সত্ত্বেও রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে শাসকগোষ্ঠীর একগুঁয়েমি জবাবদিহিতার অভাব ও দুর্নীতি ইত্যাদি কারণে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় সেখানে জনগণের স্বার্থ উপেক্ষিত। ফলে রাষ্ট্রগুলোতে দেখা দিয়েছে ব্যাপক অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতা।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ২
সরকারের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং অংশগ্রহণের ভিত্তিতে শাসনকার্য পরিচালনাই হচ্ছে সুশাসন।
সরকার ও নাগরিকের স্ব-স্ব অধিকার ও কর্তব্য পালনের মাধ্যমে একটি আদর্শ ও কাঙ্ক্ষিত নাগরিক জীবন 'প্রতিষ্ঠার জন্য পৌরনীতি ও সুশাসন পাঠ করা প্রয়োজন। পৌরনীতি নাগরিককে সুনাগরিকতা, অধিকার, কর্তব্য, নৈতিকতা প্রভৃতির শিক্ষা দিয়ে সুস্থ সুন্দর ও সমৃদ্ধ সমাজ গড়তে সাহায্য করে। আবার রাষ্ট্র ও সরকারের ভূমিকা, দায়িত্ব কীরূপ হওয়া উচিত তাও পৌরনীতির পাঠ্যভুক্ত। ফলে নাগরিকের ব্যক্তিগত, স্থানীয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জীবন পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে কাঙ্ক্ষিত ভূমিকা রাখার জন্য পৌরনীতি পাঠ করা প্রয়োজন।
উদ্দীপকে আলোচিত রাষ্ট্রসমূহে সুশাসনের অভাবজনিত সমস্যা রয়েছে। রাষ্ট্রে সুশাসন না থাকার ফলে যেসব সমস্যার সৃষ্টি হয়, তাদেরকেই সুশাসনের অভাবজনিত সমস্যা হিসেবে গণ্য করা হয়ে থাকে। উদ্দীপকে দেখা যায় যে, পৃথিবীর বিভিন্ন রাষ্ট্রে যথেষ্ট প্রাকৃতিক ও মানবসম্পদ থাকা সত্ত্বেও রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে শাসকগোষ্ঠীর একগুঁয়েমি, জবাবদিহিতার অভাব ও দুর্নীতি ইত্যাদি কারণে সেখানে জনগণের স্বার্থ 'উপেক্ষিত হচ্ছে। সেসব রাষ্ট্রে সুশাসনের অভাব রয়েছে। যার কারণে জনগণ তাদের স্বার্থ থেকে বঞ্চিত। উদ্দীপকে আলোচ্য রাষ্ট্রগুলোর শাসকগোষ্ঠী একগুঁয়ে স্বভাবের। ফলে তারা যা ইচ্ছা তাই করে থাকে। রাষ্ট্রের জনগণকে তা মেনে নিতে হয়। তাছাড়া শাসকগোষ্ঠীর জবাবদিহিতার অভাব থাকার কারণে তারা সর্বময় ক্ষমতার অধিকারীরূপে আবির্ভাব হতে পারে। তারা জনগণের সুবিধা-অসুবিধা বিবেচনা না করেই বিভিন্ন ধরনের কার্যাবলি গ্রহণ করতে পারে। আর জবাবদিহিতা না থাকায় তারা তাদের কার্যাবলিতে স্বজনপ্রীতি, দুর্নীতি প্রভৃতির আশ্রয় লাভ করতে পারে। ব্যক্তিস্বার্থ অর্জনের বা ব্যক্তিগত লাভের উদ্দেশ্যে অর্পিত ক্ষমতার অপব্যবহারই দুর্নীতি। যে কর্মকাণ্ড সাধারণভাবে, বিবেকের কাছে গ্রহণযোগ্য নয় তাকেই দুর্নীতি বলা হয়। রাজনৈতিক, প্রশাসনিক, সামাজিক ক্ষমতা ও প্রতিপত্তি খাটিয়ে অবৈধ সুযোগ নেওয়া, কারও সম্পত্তি দখল করা, জনগণের অধিকার ভোগে বিঘ্ন সৃষ্টি- এসবই দুর্নীতির অন্তর্ভুক্ত। এসব কাজ জনগণের স্বার্থের পরিপন্থি। এগুলো সুশাসনেরও পরিপন্থি। তবে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা গেলে এসব সমস্যা নির্মূল হয়ে থাকে। তাই শাসকগোষ্ঠীর একগুঁয়েমি, জবাবদিহিতার অভাব ও দুর্নীতি প্রভৃতি সুশাসনের অনুপস্থিতিকে স্বীকার করে এবং এর প্রতিষ্ঠাকে আরও বিলম্বিত করে।
সুতরাং, উদ্দীপকে আলোচ্য রাষ্ট্রসমূহে সুশাসনের অভাবজনিত সমস্যা প্রতিফলিত হয়েছে।
উদ্দীপকে বর্ণিত পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে যে সুশাসনের অভাবজনিত সমস্যা প্রতিফলিত হয়েছে, তা সমাধানে সুশাসন প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণকেই আমি উচিত বলে মনে করি। সুশাসন প্রতিষ্ঠা সম্ভব হলে উল্লিখিত রাষ্ট্রসমূহের সমস্যা এমনিতেই দূরীভূত হতে পারে। উক্ত রাষ্ট্রসমূহে সুশাসন প্রতিষ্ঠার অন্তরায় হলো শাসকগোষ্ঠীর একগুঁয়েমি, জবাবদিহিতার অভাব ও দুর্নীতি। তাই উক্ত রাষ্ট্রসমূহে সমস্যা সমাধানে প্রথমে এ ক্ষেত্রগুলোতে কাজ করতে হবে। শাসকগোষ্ঠীকে তাদের একগুঁয়ে স্বভাবের পরিবর্তন করতে। হবে। শাসকগোষ্ঠীকে কর্তব্যনিষ্ঠ ও সৎ হতে হবে। এছাড়া শাসকগোষ্ঠীকে নৈতিক গুণের অধিকারী হতে হবে। শাসকগোষ্ঠীর মাঝে এ গুণগুলো থাকলে তারা তাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করবে এবং সমাজের উন্নয়ন সাধিত হবে এবং জনগণের স্বার্থের জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হয়। বিশ্বের যেকোনো দেশের সুশাসনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পূর্বশর্ত হচ্ছে দুর্নীতি প্রতিরোধ করা অথবা দুর্নীতির মাত্রা কমানো। দুর্নীতি জাতীয় সম্পদের সঠিক বণ্টনে বাধা প্রদান করে এবং ধনী ও গরিবের মধ্যে বৈষম্য সৃষ্টি করে। এ দুর্নীতির কারণেই উক্ত রাষ্ট্রসমূহে পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক ও মানব সম্পদ থাকা সত্ত্বেও তার যথাযথ ব্যবহার করা সম্ভব হয় না। ফলে জনগণ তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়। অধিক হারে ই-গভর্ন্যান্স পদ্ধতির প্রয়োগ, ব্যবহার, সিটিজেন চার্টার প্রণয়ন, নাগরিকের তথ্যপ্রাপ্তির অধিকার প্রতিষ্ঠা, সরকারি কাজে জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠা, নৈতিকতা ও মূল্যবোধের উন্নয়ন সাধন, কার্যকর ন্যায়পাল প্রতিষ্ঠা, দুর্নীতিবিরোধী সচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে। কার্যকরভাবে দুর্নীতি প্রতিরোধ করা সম্ভব। এক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। এভাবেই মূলত উক্ত রাষ্ট্রসমূহে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা যাবে বলে আমি মনে করি।