| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘পৃথিবীতে কিছু মানুষ…’ ভিকারুননিসা নূন স্কুল এন্ড কলেজ ২০২৪ – লালসালু, নাটক ও উপন্যাস, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

পৃথিবীতে কিছু মানুষ আছে যারা নিজের অস্তিত্বকে টিকিয়ে রাখতে সদা তৎপর। নিজের ক্ষমতা, লোভ, প্রভাব ও স্বপ্নকে টিকিয়ে রাখতে যেকোনো কাজ তার দ্বারা সম্ভব। যারা প্রবৃত্তির এই ফাঁদে পা দেয় তারাই জানে এই দুনিয়ায় সচ্ছলভাবে টিকে থাকতে হলে তাকে নিজের সবটুকু দিয়েই চেষ্টা করতে হবে। ন্যায়-অন্যায়, পাপবোধ সেখানে ক্ষণিকের জন্য বিবেকবোধকে জাগ্রত করলেও তা দুনিয়ার স্বার্থে অচিরেই ম্লান হয়ে যায় ।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ২
বাংলা ভাষায় উপন্যাস লেখার সূচনা ঘটে উনিশ শতকে ।
“নবাগত লোকটির কোটরাগত চোখে আগুন” – এখানে মহব্বতনগর গ্রামে প্রবেশ করে গ্রামবাসীর প্রতি মজিদের রাগান্বিত হওয়ার বিষয়টি বোঝানো হয়েছে ।
• 'লালসালু' উপন্যাসে মজিদ তার অস্তিত্বের শিকড় গাঁড়ার জন্য নাটকীয়ভাবে মহব্বতনগর গ্রামে প্রবেশ করে। প্রবেশের পর খালেক ব্যাপারীর বাড়িতে গিয়ে গ্রামের লোকদের গালাগাল করতে থাকে। কারণ তারা জাহেল, বে-এলেম, আনপাড়হ্। মোদাচ্ছের পিরের মাজারকে তারা অযত্নে অবহেলায় ফেলে রেখেছে। এটা মূলত মজিদের একটি কূটকৌশল। পুরানো একটি কবরকে মাজার বানিয়ে নিজের স্বার্থ হাসিলের জন্যই মজিদ গ্রামবাসীকে ভয় দেখানোর জন্য তাদের উপর রাগ দেখায়। প্রশ্নোক্ত কথাটিতে মজিদের এই রাগান্বিত হওয়ার বিষয়টিই ফুটে উঠেছে ।
উদ্দীপকের সাথে 'লালসালু' উপন্যাসের মজিদ চরিত্রের সাদৃশ্য রয়েছে।
• মানুষ সামাজিক জীব। তাই সমাজেই তাকে বসবাস করতে হয়। তবে সমাজে মানুষের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা এতটা সহজ নয়। নানা কারণে এখানে মানুষ অস্তিত্ব সংকটের মধ্যে পতিত হয়। তবে বেঁচে থাকার জন্য মানুষ আপ্রাণ চেষ্টা চালায়। যেকোনো মূল্যে সে নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার প্রাণপণ লড়াই করে ।
• উদ্দীপকে পৃথিবীর এমন কিছু মানুষের কথা বলা হয়েছে যারা নিজেদের অস্তিত্বকে টিকিয়ে রাখতে সদা তৎপর। নিজেদের ক্ষমতা, লোভ, প্রভাব ও স্বপ্ন টিকিয়ে রাখতে যেকোনো কাজ তাদের দ্বারা সম্ভব। অস্তিত্ব রক্ষার জন্য ন্যায়-অন্যায়, পাপ বোধ সেখানে ক্ষণিকের জন্য বিবেকবোধ জাগ্রত করলেও তারা তা দুনিয়ার স্বার্থে জলাঞ্জলি দেয়। 'লালসালু' উপন্যাসের মজিদ চরিত্রেও অনুরূপ প্রবণতা লক্ষ করি। মজিদ তার শস্যহীন জনবহুল অঞ্চলে নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে 5 রাখতে না পেরে মহব্বতনগরে এসে একটি পুরানো, পরিত্যক্ত কবরকে মাজার বানিয়ে নিজের অস্তিত্ব রক্ষার সংগ্রাম চালিয়ে যায়। সে নিজেও জানে, যে সংগ্রাম সে শুরু করেছে তা অন্যায়। কিন্তু নিজের অস্তিত্বের প্রশ্নে সে ছিল দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তাই সে নিজের অস্তিত্ব রক্ষায় যেকোনো গর্হিত কাজ করতেও বিন্দুমাত্র দ্বিধান্বিত হয়নি ।
উদ্দীপকের ভাবার্থ 'লালসালু' উপন্যাসের শাসন ও শোষণের অধিকার প্রতিষ্ঠার বিবরণের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
• মানুষের জীবনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নিজের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই। কেননা অস্তিত্ব রক্ষার এই লড়াইয়ে যারা এগিয়ে থাকে : তারাই সমাজকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। নিজেদের প্রভাব-প্রতিপত্তি ঘটিয়ে তারা সমাজের কর্তৃত্বের হস্তক্ষেপ করে। ফলে ন্যায়, অন্যায়, পাপবোধ, বিবেকবোধ সবকিছু ছাড়িয়ে তাদের কাছে অস্তিত্ব রক্ষার বিষয়টিই মুখ্য হয়ে ওঠে।
• উদ্দীপকে পৃথিবী একশ্রেণির মানুষের নিজেদের অস্তিত্বকে টিকিয়ে রাখার সংগ্রামকে তুলে ধরা হয়েছে। যারা নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষায় যেকোনো গর্হিত কাজ করতেও পিছপা হয় না । কারণ তারা জানে এই দুনিয়ায় সচ্ছলভাবে টিকে থাকতে চাইলে নিজের সবটুকু দিয়েই চেষ্টা করতে হয়। তাই এর জন্য তারা নীতি-নৈতিকতা বিসর্জন দেয়। নিজের ক্ষমতা, লোভ, প্রভাব ও স্বপ্নকে টিকিয়ে রাখতেই তারা এগুলো করে থাকে। 'লালসালু' উপন্যাসের মজিদ চরিত্রেও শাসন-শোষণের অধিকার প্রতিষ্ঠার অনুরূপ চিত্রটি দেখতে পাই। মজিদ মহব্বতনগরে নাটকীয়ভাবে প্রবেশ করেই কৌশলে মাজারের ভয় দেখিয়ে গ্রামের মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করেছে। গ্রামের মাতব্বর খালেক ব্যাপারীকেও নিজের নিয়ন্ত্রণে এনেছে। এভাবে সে কৌশলে গ্রামে নিজের প্রভাব- প্রতিপত্তি বৃদ্ধি করেছে।
• 'লালসালু' উপন্যাসে মজিদ সুকৌশলে নিজের অস্তিত্ব প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম চালিয়েছে। এর জন্য সে নীতি-নৈতিকতা বিসর্জন দিয়েছে। কেউ তার বিরোধিতা করলে মজিদ অন্যায়ভাবে, নিষ্ঠুরভাবে তাকে
দমন করেছে। যেমন— তাহের কাদেরের বাপকে সে গ্রাম থেকে বের করে দিয়েছে, আক্কাসের স্কুল প্রতিষ্ঠার পরিবর্তে করেছে মসজিদ। প্রতিবাদী জমিলাকেও সে নির্মম অত্যাচার করেছে। আবার খালেক ব্যাপারীর প্রিয়তমা স্ত্রীকেও সে তালাকের ব্যবস্থা করে শাস্তি দিয়েছে। এভাবেই মজিদ উপন্যাসে নিজের শাসন-শোষণে প্রতিষ্ঠা করেছে যা উদ্দীপকেও ফুটে উঠেছে ।