| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘প্রযুক্তির অবাধ ব্যবহারের…’ ঢাকা সিটি কলেজ ২০২৪ – আঠারো বছর বয়স, পদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

প্রযুক্তির অবাধ ব্যবহারের আর নিছক কৌতূহলের বশে ‘ব্লু হোয়েল’ নামক অনলাইন গেমের মরণজালে জড়িয়ে সোনালি তার জীবন বিপন্ন করে তোলে। অথচ শমী হাসান মায়ের মৃত্যুর পর শোককে শক্তিতে পরিণত করে দরিদ্র হরিজন পল্লিতে সেবামূলক কাজ শুরু করে। পানিবাহিত রোগের কারণে যেন কারো মৃত্যু না ঘটে । সেই বিষয়ে কাজ করে শমী আন্তর্জাতিক সেবা সংস্থা গ্লোবাল সিটিজেনের নিরাপদ পানি, সুস্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতা বিষয়ক তরুণ মুখপাত্র হিসেবে নির্বাচিত হয়ে বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশের মুখ উজ্জ্বল করেছে ।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ১৯
'আঠারো বছর বয়স' কবিতাটি 'ছাড়পত্র' কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত হয়েছে। .
দেশ, জাতি ও মানবতার কল্যাণে এই বয়সেই মানুষ যেমন নিজের প্রাণ উৎসর্গ করতে পারে। তেমনি অন্যের প্রাণ হনন করতেও পিছপা হয় নাঠ ।
দেশ, জাতি ও মানবতার জন্য যুগে যুগে এ বয়সের মানুষই এগিয়ে এসেছে সব চেয়ে বেশি। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দাঁড়িয়েছে সমস্ত বিপদ মোকাবেলায়। প্রাণ দিয়েছে অজানাকে জানবার জন্য, দেশ ও জনগণের মুক্তি ও কল্যাণের সংগ্রামে। তেমনি অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রাণনাশক হয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে। মূলত প্রশ্নোক্ত পক্তিটিতে কবি তারুণ্যের মহিমান্বিত আত্মত্যাগের কথা তুলে ধরেছেন যে সত্য, সুন্দর ও কল্যাণের পথে প্রাণ উৎসর্গও করতে পারে আবার প্রাণ হরণও করতে পারে ।
উদ্দীপকের সোনালি চরিত্রের মধ্যে 'আঠারো বছর বয়স' কবিতার নেতিবাচক দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে।
'আঠারো বছর বয়স' কবিতায় কবি বলেছেন অনুভূতির তীব্রতা ও সুগভীর সংবেদনশীলতা আঠারো বছর বয়সেই মানুষের জীবনে তীব্র হয়ে দেখা দেয় এবং মনোজগতেও তার গভীর প্রতিক্রিয়া হয়। মানুষ ভালো- মন্দ, ইতিবাচক-নেতিবাচক নানা তত্ত্ব, মতবাদ ও ভাবধারার সঙ্গে পরিচিত হতে শুরু করে এ বয়সে ।
উদ্দীপকে দেখা যায়, প্রযুক্তির ব্যবহার আর নিছক কৌতূহলের বশে ‘ব্লু হোয়েল' নামক অনলাইন গেমের মরণজালে জড়িয়ে সোনালি তার জীবন বিপন্ন করে তোলে । ‘আঠারো বছর বয়স' কবিতায় কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যও এ বয়সের নানা ইতিবাচক ও নেতিবাচক দিকের বৈশিষ্ট্য তুলে ধরেছেন । এ বয়সের তরুণদের সঙ্গে ভালো-মন্দ, ইতিবাচক-নেতিবাচক নানা মতবাদ ও ভাবধারার পরিচয় ঘটে। তাই এ বয়সটিকে কবি ভয়ংকর বলে অভিহিত করেছেন। জীবনের এই সন্ধিক্ষণে শারীরিক, মানসিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক নানা জটিলতাকে অতিক্রম করতে হয়। অর্থাৎ, এ বয়সের নৈতিবাচক প্রভাবই উদ্দীপকের সোনালির মধ্যে ফুটে উঠেছে।
আঠারো বছর বয়স' কবিতার তারুণ্যের ইতিবাচক বৈশিষ্ট্যগুলোর অন্তর্ভুক্ত শমী হাসানের কার্যক্রমগুলো।
আলোচ্য কবিতায় কবি আঠারো বছর বয়সকে বলেছেন দুঃসহ, দুর্বার ও নির্ভীক। এই বয়সের তরুণরা, সমাজজীবনের নানা বিকার, অসুস্থতা ও সর্বনাশের অভিঘাতকে রুখে দিতে পারে। এ জন্য কবি আঠারো বছর বয়সকে অদম্য প্রাণশক্তি ও দুর্বার সাহসিকতার প্রতীকরূপে খুঁজে পেয়েছেন । উদ্দীপকে উঠে এসেছে অসীম শক্তির আধার তারুণ্যের কথা। এখানে তরুণ শমী হাসান মায়ের মৃত্যুর শোককে শক্তিতে পরিণত করে দরিদ্র হরিজন পল্লিতে সেবামূলক কাজ শুরু করেন। নিরাপদ পানি সরবরাহ করে আন্তর্জাতিক সেবা সংস্থা গ্লোবাল সিটিজেনের নিরাপদ পানি, সুস্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতা বিষয়ক তরুণ মুখপাত্র হিসেবে নির্বাচিত হন। যা বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশের মুখ আলোকিত করেছে।
‘আঠারো বছর বয়স’ কবিতার মূলভাবে বলা হয়েছে, আঠারো বছর বয়সের আছে সমস্ত দুর্যোগ আর দুর্বিপাক মোকাবিলা করার অদম্য শক্তি । কবি তাই সমস্যাপীড়িত এই দেশে আঠারোর তারুণ্যকে প্রত্যাশা করেছেন। অর্থাৎ আলোচ্য কবিতা ও উদ্দীপক উভয় স্থানেই সমাজজীবনে তারুণ্যের উপস্থিতি কামনা করা হয়েছে। আলোচ্য কবিতার কবি আঠারো বছর বয়সি তরুণদের পদক্ষেপ প্রত্যাশা করেছেন সমস্যাপীড়িত দেশের চালিকাশক্তি হয়ে দাঁড়াতে। আর উদ্দীপকে সেই ভাবের ফলস্বরূপ শমী হাসানকে বাস্তবায়ন করতে দেখা যায়। অর্থাৎ মানবকল্যাণ আঠারো বছর বয়সের একটি অন্যতম বৈশিষ্ট্য যে দিকটি উভয়ক্ষেত্রেই সমানভাবে উঠে এসেছে।