| ㅤ | A. Nayan16 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান…’ হলিক্রস কলেজ ২০২৬ – নাগরিক অধিকার ও কর্তব্য এবং মানবাধিকার, পৌরনীতি ও সুশাসন, পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র (এইচএসসি)

প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান পেশাগত কাজে সুইডেন ও নরওয়ে গিয়েছিলেন। এসব দেশের নাগরিকদের অধিকার সচেতনতা ও কর্তব্যবোধ দেখে তিনি মুগ্ধ হয়েছেন। মাহমুদ হাসানের ধারণা একদিন পৃথিবীর সব দেশের মানুষই তাদের অধিকার ও কর্তব্যবোধ সম্পর্কে সচেতন হয়ে উঠবে।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৫
অধিকার প্রথমত দুই প্রকার। যথা- নৈতিক অধিকার ও আইনগত অধিকার। আইনগত অধিকার আবার তিন প্রকার। যথা- ১. সামাজিক অধিকার, ২. অর্থনৈতিক অধিকার ও ৩. রাজনৈতিক অধিকার।
মানুষ সামাজিক জীব। মানুষ সমাজেই জন্মগ্রহণ করে, লালিত-পালিত হয় এবং সমাজেই মৃত্যুবরণ করে। এ সমাজজীবনকে সুন্দর, সুশৃঙ্খল ও উন্নত করার জন্য নাগরিকগণ যে সকল কর্তব্য পালন করে তাকে সামাজিক কর্তব্য বলে। যেমন- সামাজিক সম্প্রীতি গড়ে তোলা এবং তা বজায় রাখা, সামাজিক নীতিমালার প্রতি শ্রদ্ধা ও আনুগত্য প্রদর্শন করা, পরস্পরের প্রতি কাম্য ব্যবহার করা ইত্যাদি।
উদ্দীপকে মানবাধিকার ও মৌলিক অধিকারের উল্লেখ করা হয়েছে। এ দুটি অধিকারের মধ্যে তুলনামূলক কিছু পার্থক্য লক্ষণীয়।
মানবাধিকার বলতে বিশ্বের নাগরিক হিসেবে নাগরিকগণ আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত যে সকল অধিকার ভোগ করে সেগুলোকে বোঝায়। আর মৌলিক অধিকার বলতে সেই সকল অধিকারকে বোঝায় যা সার্বভৌম রাষ্ট্রের সংবিধানে সন্নিবেশিত ও বলবৎযোগ্য। মানবাধিকারের উৎস হলো আন্তর্জাতিক সংস্থা জাতিসংঘ। অপরদিকে, মৌলিক অধিকারের উৎস হলো সার্বভৌম রাষ্ট্রের সংবিধান। মানবাধিকারের রক্ষক হলো, জাতিসংঘ। আর মৌলিক অধিকারের রক্ষক রাষ্ট্র এবং সংবিধান। মানবাধিকারের পরিধি বিশ্বব্যাপী বিস্তৃত। আর মৌলিক অধিকারের পরিধি নিজ রাষ্ট্রে সীমাবদ্ধ। মৌলিক অধিকারের চেয়ে মানবাধিকারের পরিধি ব্যাপক ও বিস্তৃত। জাতিসংঘভুক্ত প্রতিটি রাষ্ট্র একই ধরনের মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করতে এবং তা রক্ষা করতে বাধ্য। আর এক রাষ্ট্রের স্বীকৃত মৌলিক অধিকার অন্য রাষ্ট্র অপেক্ষা ভিন্নতর হতে পারে। মানবাধিকার আন্তর্জাতিক অধিকার। আর মৌলিক অধিকার রাষ্ট্রীয় বা স্থানীয় অধিকার। মানবাধিকার বিকাশ লাভ করে আন্তর্জাতিক চেতনাবোধ থেকে। কিন্তু মৌলিক অধিকার বিকাশ লাভ করে রাষ্ট্রীয় চেতনাবোধ থেকে। মানবাধিকার কার্যকর করা সহজ নয়। পক্ষান্তরে, মৌলিক অধিকার অনেকটা সহজে কার্যকর করা যায়।
মানবাধিকার অপেক্ষা মৌলিক অধিকার অনেকটা সুস্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট। ব্যক্তি নিজ রাষ্ট্রে নিরাপত্তা বোধ না করলে মানবাধিকারবলে অন্য রাষ্ট্রে আশ্রয় গ্রহণ করতে পারে। কিন্তু মৌলিক অধিকার ব্যক্তিকে সে সুযোগ প্রদান করে না। বস্তুত মানবাধিকার ও মৌলিক অধিকারের মধ্যে প্রকৃতিগত কিছু পার্থক্য লক্ষ করা গেলেও উভয়েরই উদ্দেশ্য ব্যক্তির কল্যাণ সাধন করা।
হ্যাঁ, "অধিকারের মধ্যে কর্তব্য নিহিত" উক্তিটির সাথে আমি একমত।
অধিকার হলো সমাজ ও রাষ্ট্রকর্তৃক স্বীকৃত কতগুলো সুযোগ-সুবিধা যা ভোগের মাধ্যমে নাগরিকের ব্যক্তিত্বের বিকাশ ঘটে। আর অধিকার ভোগের বিনিময়ে নাগরিককে রাষ্ট্রের প্রতি যে সকল দায়িত্ব পালন করতে হয় তাকে বলা হয় কর্তব্য। অধিকার ও কর্তব্য শব্দ দুটি আপাতদৃষ্টিতে বিপরীতমুখী মনে হলেও এদের পারস্পরিক সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ। অধিকার ভোগ করলে কর্তব্য পালন করতে হয়। একটিকে বাদ দিয়ে অপরটি হয় না। তাই বলা হয়, অধিকার কর্তব্যের মধ্যেই নিহিত।
অধিকার ও কর্তব্যের পারস্পরিক সম্পর্ক এমন ঘনিষ্ঠ যে, একজনের অধিকার বলতে অন্যজনের কর্তব্যকে বোঝায়। যেমন- আমার বেঁচে থাকার অধিকার আছে, তেমনি আমার কর্তব্য হলো অন্যের জীবননাশের চেষ্টা না করা। তাই অধিকার ও কর্তব্য অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। রাষ্ট্র নাগরিকের অধিকার রক্ষা করে। এজন্য নাগরিকগণও রাষ্ট্রের প্রতি কর্তব্য পালন করে। নাগরিকের যা অধিকার রাষ্ট্রের তা কর্তব্য। অপরদিকে, রাষ্ট্রের যা অধিকার, নাগরিকের তা কর্তব্য। রাষ্ট্র নাগরিকের অধিকার উপভোগের নিশ্চয়তা দেয়। পক্ষান্তরে, রাষ্ট্রের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য নাগরিককে এগিয়ে আসতে হয়। সুতরাং দেখা যায়, অধিকার ও কর্তব্য পরস্পর সম্পর্কযুক্ত। একটি ছাড়া অন্যটি অর্থহীন হয়ে পড়ে। একটি অপরটির ওপর নির্ভরশীল ও পরিপূরক।'
উপরের আলোচনার ভিত্তিতে বলা যায়, অধিকার ও কর্তব্য একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। তাই এদের পারস্পরিক সম্পর্ক খুবই নিবিড়।