প্রণমিয়া পাটুনী কহিছে জোড় হাতে
আমার সন্তান যেন থাকে দুধে-ভাতে
তথাস্তু বলিয়া দেবী দিলা বরদান
দুধে ভাতে থাকিবেক তোমার সন্তান।
'ইউসুফ জোলেখা' কাব্যের রচয়িতা শাহ মুহম্মদ সগীর।
সন্তানের জন্য একজন বাবার ত্যাগ ও সংগ্রামশীল জীবনচিত্র এখানে প্রতিফলিত হয়েছে।
সন্তানের জন্য একজন বাবার অবদান অশেষ। বাবা তার সন্তানকে ভালো রাখতে, একটি সুস্থ ও সচ্ছল জীবন দিতে নিজের ইচ্ছা ও সুখ বিসর্জন দেন। ব্যক্তিগত সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য ত্যাগ করে নিজের আরাম ও ভালোবাসা বিলিয়ে দেন সন্তানদের জন্য। তিনি দিন-রাত কঠোর পরিশ্রম করে সন্তানের উন্নতির জন্য চেষ্টা করেন। তার এই ত্যাগের সাথে যে গভীর ভালোবাসা ও সুরক্ষার অনুভূতি জড়িত, তার সাথে অন্য কোনো কিছুকেই তুলনা করা যায় না।
উদ্দীপকের সঙ্গে 'বন্দনা' কবিতাটি সন্তানের প্রতি পিতা-মাতার কল্যাণকামী দৃষ্টিভঙ্গির দিক থেকে সাদৃশ্যপূর্ণ।
'বন্দনা' কবিতায় কবি জীবনের সমস্ত সত্তা ও অস্তিত্বের উৎসে মাতা-পিতার দান স্বীকার করেছেন। তাঁর ভাষা বিনম্র, আন্তরিক ও ধর্মীয় আবেগে পূর্ণ।
উদ্দীপকের পাটুনীর মাঝে সন্তানের প্রতি স্নেহপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি লক্ষণীয়। ঈশ্বরী পাটুনী দেবীর কাছে নিজের জন্য কোনো কিছু না চেয়ে তার সন্তানের সমৃদ্ধি কামনা করেছেন। দেবী তার এই চাওয়া পূর্ণ করেছেন। 'বন্দনা' কবিতায় বর্ণিত কবির মা কবির জন্য অপরিসীম ত্যাগ স্বীকার করেছেন। মায়ের দয়া ও করুণায় ভর করে কবি পৃথিবীতে এসেছেন। কবির নবজাত অসহায় অবস্থায় সকল প্রতিকূলতা থেকে মা তাকে আগলে রেখেছেন। কবিকে মা আদর-যত্নে, স্নেহ-মমতায় কোলে-পিঠে করে তিলে তিলে পূর্ণাঙ্গ মানুষ করে তুলেছেন। এভাবে সন্তানের প্রতি মায়ের ইতিবাচক কল্যাণকামী দৃষ্টিভঙ্গির দিক থেকে উদ্দীপকের সঙ্গে 'বন্দনা' কবিতার সাদৃশ্য রয়েছে।
সন্তানের প্রতি স্নেহ ও মমত্ববোধের মিল থাকায় বলা যায়, "উদ্দীপক ও 'বন্দনা' কবিতায় সন্তানস্নেহের প্রকাশ সমজাতীয়" মন্তব্যটি যথার্থ।
'বন্দনা' কবিতার মূলভাব হলো বিনয় ও কৃতজ্ঞতা। কবি জীবনের প্রতিটি স্তম্ভ ঈশ্বর, পিতা-মাতা, শিক্ষক ও সমাজের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন, যা নৈতিকতার ভিত্তি নির্দেশ করে।
'বন্দনা' কবিতায় কবি মাতৃস্নেহের অকৃত্রিমতার দিকটির প্রতি ইঙ্গিত দিয়েছেন। প্রকৃতির সকল প্রতিকূলতা থেকে মা তার সন্তানকে সর্বদা আগলে রাখেন। মায়ের দয়া ও করুণায় পূর্ণাঙ্গ হয়ে ওঠে মানবজীবন। সন্তানের কল্যাণ কামনায় মা সর্বদা নিবেদিতপ্রাণ থাকেন। উদ্দীপকের মায়ের মাঝে সন্তানের প্রতি স্নেহপূর্ণ মনোভাব দৃশ্যমান। দেবীর বর প্রার্থনায় মা নিজের স্বার্থ ভুলে সন্তানের সমৃদ্ধ জীবন কামনা করেছেন।
উদ্দীপকে সন্তানের মঙ্গল কামনায় মায়ের অপরিসীম ত্যাগের বিষয়টি ফুটে উঠেছে। মা দেবীর কাছে সন্তানের সমৃদ্ধি চেয়ে বর প্রার্থনা করেছেন। 'বন্দনা' কবিতায় কবি মায়ের অপরিমেয় ত্যাগ স্বীকারের কথা বলেছেন। কবি অকপটে মায়ের সেই ত্যাগের বিষয়টি উপস্থাপন করেছেন। কবি শ্রদ্ধাভরে মায়ের প্রতি কৃতজ্ঞতাবোধ প্রকাশ করেছেন। এদিক থেকে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
