প্রতিবন্ধীরা জীবনের স্বাভাবিক ধারায় অন্যদের মতো সমানতালে এগিয়ে যেতে পারে না। কিন্তু সঠিক মনোযোগ, সহযোগিতা ও সুযোগ-সুবিধা পেলে তারাও দুঃখের অন্ধকার ছেড়ে আলোকিত জীবনের অধিকারী হতে পারে। এমনকি হয়ে উঠতে পারে বিশ্বের শ্রেষ্ঠ ও বরেণ্য ব্যক্তিদের একজন। মহাকবি হোমার একজন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ছিলেন। ইলিয়াড, ওডেসি তাঁরই সৃষ্টি।
সুভার গ্রামের নাম চণ্ডীপুর।
'সে ভাষাবিশিষ্ট জীব'- এই কথাটি প্রতাপ সম্পর্কে বলা হয়েছে।
'সুভা' গল্পে সুভা একটি বোবা মেয়ে। গুটিকতক গৃহপালিত প্রাণীর সঙ্গে তার বন্ধুত্ব ছিল। গোয়ালের দুটি গাভী তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু। মনে মনে তাদের নাম দিয়েছে সর্বশী ও পাঙ্গুলি। এগুলো ছাড়াও ছাগল ও বিড়াল শাবককেও সে বন্ধু বানিয়েছে। তবে এগুলো সবই তার মতোই নির্বাক। উন্নত জীবের মধ্যে তার এক সঙ্গী হলো গোঁসাইদের ছোট ছেলে প্রতাপ। সে কথা বলতে পারে। এই প্রতাপকেই ভাষাবিশিষ্ট জীব বলা হয়েছে।
উদ্দীপকের হোমারের সঙ্গে 'সুভা' গল্পের সুভা চরিত্রের প্রতিবন্ধিতার দিক দিয়ে মিল রয়েছে।
সুভা বাষ্প্রতিবন্ধী। সে কথা বলতে পারে না। তবে সে সব বুঝতে পারে, অনুধাবন করতে পারে। তাই প্রকৃতি ও অন্যান্য পোষা প্রাণী তার সঙ্গী ছিল।
উদ্দীপকের মহাকবি হোমার একজন বিশ্ব বরেণ্য ব্যক্তিত্ব। তিনি ছিলেন একজন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী। বিখ্যাত মহাকাব্য ইলিয়ড ও ওডিসি তাঁরই সৃষ্টি। 'সুভা' গল্পের সুভা বাক্প্রতিবন্ধী হলেও চারপাশের সবকিছুই বুঝতে পারে। প্রাণিজগতের গাভি, ছাগল, বিড়াল প্রভৃতি প্রাণীর সঙ্গে সে সখ্য গড়ে তোলে। উদ্দীপকের হোমারও একজন প্রতিবন্ধী। তিনি দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী। আর 'সুভা' গল্পের সুভা বাষ্প্রতিবন্ধী। এদিক থেকে হোমারের সঙ্গে সুভা চরিত্রের মিল রয়েছে।
উদ্দীপকের বিষয়বস্তু 'সুভা' গল্পের সমগ্র ভাব প্রকাশ করতে সক্ষম হয়নি- কেননা উদ্দীপকে আংশিক ভাব বা প্রতিবন্ধিতার দিকটি প্রকাশিত হয়েছে মাত্র।
'সুভা' গল্পে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুর মন ও চিন্তা, আবেগ ও অনুভূতির সূক্ষ্মতর দিকগুলো উপস্থাপন করেছেন। পরিবার ও সমাজের মানুষের অবজ্ঞা ও অবহেলায় তার করুণ পরিণতি লেখক অত্যন্ত মমত্বের সঙ্গে তুলে ধরেছেন।
উদ্দীপকে প্রতিবন্ধীদের সম্পর্কে বলা হয়েছে যে তারা জীবনের স্বাভাবিক ধারায় অন্যদের মতো সমানতালে এগিয়ে যেতে পারে না। তবে সহযোগিতা ও সুযোগ-সুবিধা পেলে তারাও আলোকিত জীবনের অধিকারী হতে পারে। এর দৃষ্টান্ত হিসেবে উদ্দীপকে মহাকবি হোমারের কথা বলা হয়েছে। তিনি দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী হয়েও বিশ্ব বিখ্যাত মহাকাব্য রচনা করেছেন। 'সুভা' গল্পে সুভাকে মা নিজের একটি ত্রুটি হিসেবে বিবেচনা করেন। বাবা-মায়ের জন্য সে একটি অভিশাপ স্বরূপ। ফলে সুভা নিজেকে সব সময় লুকিয়ে রাখার চেষ্টা করে। তার তেমন বন্ধুও ছিল না। ফলে সে গাভি, ছাগল, বিড়াল, প্রকৃতির সঙ্গে বন্ধুত্ব করে।
'সুভা' গল্পে প্রতাপের সঙ্গে সুভার বন্ধুত্বও ছিল। তা সুভার দিক থেকে। প্রতাপ তাকে গুরুত্ব দেয়নি। শেষপর্যন্ত বাবা তাকে বিয়ে দেওয়ার জন্য কলকাতায় নিয়ে যেতে চাইলে সে অনেক কষ্ট পেয়েছে। গল্পের এই বিষয়গুলো উদ্দীপকে দেখা যায় না। প্রতিবন্ধী সুভার জীবনের দুঃখময় অধ্যায়টি উদ্দীপকে উঠে আসেনি। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে 'সুভা' গল্পের সমগ্র ভাব প্রকাশিত হয়নি।
